কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বস্তা বস্তা টাকা আর সোনা- মোহাম্মদ আলী ৬ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪

আজাদ সুলায়মান ॥ পল্টনের বাসা থেকে টাকা ও সোনা উদ্ধার মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ আলীকে ছয় দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। শনিবার দুপুরে ঢাকার একটি আদালত তার এই রিমান্ড মঞ্জুর করে। এর আগে শুক্রবার রাতে পল্টন থানায় এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। শনিবার মামলাটির তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে দেশের চোরাচালান জগতের গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন ডিবির এডিসি মাহফুজুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর পল্টন এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ৬১ কেজি সোনা ও পাঁচ বস্তা টাকা। এ বিষয়ে শুক্রবার দিনভর শাহজালাল বিমানবন্দরের কাস্টমস হলে প্রকাশ্যে বিভিন্ন এজেন্সির উপস্থিতিতে টাকা গণনা করা হয়। তাতে দেখা যায়, মোট টাকার পরিমাণ ৮ কোটি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার বাংলাদেশী মুদ্রা ও ৩ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার সৌদি রিয়াল।

জানা যায়, মুদ্রা গণনা শেষ হওয়ার পর এসব টাকা ও সোনা জমা দেয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে। তারপর মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে যাওয়া হয় পল্টন থানায়। সেখানে মামলা দায়েরের পর শনিবার মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন ডিবির পরিদর্শক আলী নূর। তারপর দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠালে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

এদিকে মোহাম্মদ আলীর ভাষ্যমতে, উদ্ধারকৃত সোনার মালিক সিরাজগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান রিয়াজউদ্দিনকেও যে কোন সময় আটক করা হতে পারে। মামলার এজাহারে সরাসরি রিয়াজকে আসামি হিসেবে গণ্য করা হলেও মোহাম্মদ আলীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে বর্ণনা রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আদালতে নেয়ার আগ পর্যন্ত রিয়াজের ব্যাপারে মোহাম্মদ আলীর বক্তব্য ছিল একই। ডিবির রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদেও যদি একই বক্তব্যে তিনি অনড় থাকেন এবং তার বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে রিয়াজকেও আটক করা হবে বলে জানিয়েছেন এডিসি মাহফুজুল ইসলাম। শনিবার তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, এটা খুবই চাঞ্চল্যকর মামলা। কারণ এর আগে কখনও এত প্রভাবশালী গডফাদার ধরা পড়েনি এবং এত টাকা ও সোনা একত্রে উদ্ধার হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দেশ বিদেশে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা এই মোহাম্মদ আলী।

এদিকে সিরাজগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রিয়াজউদ্দিন চেয়ারম্যান শুক্রবার রাত থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন। তাঁর মোবাইলটিও ছিল বন্ধ। ডিবির তদন্তকারীরা তাঁর বিপুল পরিমাণ সম্পদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানা যায়।

ডিবি সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালানের অভিযোগে বিমানের ডিজিএম এমদাদ, তদ্বিরবাজ পলাশ ও মানি চেঞ্জার হারুণ রশীদকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রকাশ পায় মোহাম্মদ আলী ও রিয়াজের নাম। তারপর থেকে মূলত তার গতিবিধি নজরদারিতে রাখে শুল্ক গোয়েন্দা। এ বিভাগের মহাপরিচালক ডক্টর মইনুল খান জানান, এ ধরনের আরও কয়েকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের ওপরও নজরদারি চলছে। ফাঁদও পাতা হয়েছে। যে কোন সময় তারা জালে ধরা পড়তে পারে। মোহাম্মদ আলীকে ভাল করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে নিশ্চিত এই সিন্ডিকেটের বাকি হোতাদের পরিচয় জানা সম্ভব হবে।

এদিকে ডিবির অপর একটি সূত্র জানায়, বিমানের আরও দু’জন পাইলটকে যে কোন সময় আটক করা হতে পারে। এদের একজন ক্যাপ্টেন ইশরাত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য কদিন আগে ডিবির একটি টিম বিমানের এডমিন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় ডিবি জানতে পারে, বিমানের সিডিউল কাস্টমার সার্ভিস শাখা থেকে অপারেশন শাখায় কেটে নেয়ার মূল হোতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। এমনকি গ্রেফতারকৃত ডিজিএম এমদাদও একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেন ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে। সর্বশেষ গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ আলীও ক্যাপ্টেন ইশরাত ও পলাশের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার ব্যাপারে তথ্য প্রকাশ করেন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ক্যাপ্টেন ইশরাত জনকণ্ঠকে বলেন, আমি চোরাচালানে জড়িত নই। আমি মোহাম্মদ আলীকে চিনি না, তিনি আমাকে চিনতে পারেন। আর সিডিউল আমি কেটে অপারেশনে নিইনি।

জানতে চাইলে এডিসি মাহফুজুল ইসলাম বলেন, বিমানের যেসব পাইলট ও কেবিনক্রু জড়িত তাদেরকেও শীঘ্রই আটক করা হবে। এ ব্যাপারে সব তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ২৯/১ পল্টনে মোহাম্মদ আলীর বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় তিনি বাসাতেই ছিলেন। তার সামনেই ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক ডক্টর মইনুল খানের নেতৃত্বে চালানো এ অভিযানে ধরা পড়ে এসব সোনা ও টাকা।

প্রকাশিত : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪

২৮/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: