মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তিস্তা ও স্থলসীমান্ত চুক্তি শীঘ্রই

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৪
তিস্তা ও স্থলসীমান্ত চুক্তি শীঘ্রই
  • রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠকে মোদি

বিডিনিউজ ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পর রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদকেও তিস্তা চুক্তি সই ও স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকরে জোর চেষ্টা চালানোর কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার নয়াদিল্লীর হায়দরাবাদ হাউসে আবদুল হামিদের সঙ্গে এক বৈঠকে মোদি বলেছেন, ‘দ্রুত’ এ দুটো বিষয়ের ‘সমাধান’ করা সম্ভব হবে বলেই তিনি আশা করছেন।

ভারত সফররত আবদুল হামিদ দুপুরে হায়দরাবাদ হাউসে পৌঁছালে নরেন্দ্র মোদি তাঁকে স্বাগত জানান। দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা বৈঠক করেন তাঁরা।

বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব ইহসানুল করিম এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বৈঠকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। ভারতের উন্নয়নে নরেন্দ্র মোদির ‘গুজরাট মডেলের’ প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি তাঁকে বলেন, এর ফলে ভারতের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। আপনার প্রতি যুব সমাজের আস্থা রয়েছে। মোদির সরকার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর এবং স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতার দ্রুত সমাধান করতে সক্ষম হবে বলেও রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন। জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার এ দুটো বিষয় সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

তিনি আশা করছেন, দ্রুত এর সমাধান হবে। গত নবেম্বরের শেষ সপ্তাহে কাঠমান্ডু সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সময় এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি। এরপর বাংলাদেশের সঙ্গে ভূমি বিনিময়ের জোর বিরোধিতাকারী রাজ্য অসমে গিয়ে মোদি বলেন, এ চুক্তি কার্যকর হলে আখেরে ওই রাজ্যেরই লাভ হবে।

১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয় স্থলসীমান্ত চুক্তি। আর ২০১১ সালে তৎকালীন ইউপিএ জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এর প্রটোকল সই হয়, যার আওতায় দুই দেশের মধ্যে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় হওয়ার কথা। প্রটোকলটি কার্যকরে ভারতের সংবিধান সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়া হলেও সে সময় বিরোধী দলে থাকা নরেন্দ্র মোদির বিজেপি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় বিষয়টি ঝুলে যায়। তবে নানামুখী চাপে থাকা মমতা ৬৫ বছর ধরে ঝুলে থাকা সমস্যাটির সমাধানে সম্প্রতি সম্মতি দিয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর।

মমতার আপত্তির কারণেই একেবারে শেষ মুহূর্তে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে যায়, যা মনমোহনের সেই সফরেই সই হওয়ার কথা ছিল।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তাঁকে বাংলাদেশ সফরে আসার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি হামিদ। মোদি তাঁকে জানান, যত দ্রুত সম্ভব তিনি সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করতে চান।

বাংলাদেশের বিদ্যুত খাতে সহযোগিতার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি এ খাতে আরও সহযোগিতার প্রত্যাশার কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

নেপাল ও ভুটানে উৎপাদিত জলবিদ্যুত ভারতের ওপর দিয়ে বাংলাদেশে নেয়ার বিষয়েও তিনি নরেন্দ্র মোদির সহযোগিতা কামনা করেন বলে ইহসানুল করিম জানান।

তিনি বলেন, বৈঠকে দু’জনেই আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। নরেন্দ্র মোদি বলেন, এ লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা গেলে সবার জন্যই ভাল হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী পর্যটন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন বলে প্রেস সচিব জানান।

রাষ্ট্রপতিকে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও নেপালে তাঁর দুটি বৈঠকই ফলপ্রসূ হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

মোদি বৈঠকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালীর বিজয়ের মাস ডিসেম্বর তার জন্যও খুব তাৎপর্যপূর্ণ, কেননা চলতি বছর এ মাসেই দু’জন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত হয়েছে। তাদের একজন হলেন একাত্তরে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের স্টাফ অফিসার লেফট্যানেন্ট জেনারেল জেএফআর জ্যাকব, যিনি ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন। আর অন্যজন বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ।

অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, দিল্লীতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, সংসদ সদস্য রেজোয়ান আহমেদ তৌফিক ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব শেখ আলতাফ আলী এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সুষমা স্বরাজের সাক্ষাত ॥ বাংলাদেশের বিদ্যুত খাতের উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে এ খাতে প্রতিবেশী দেশটি আরও সহায়তা দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। শুক্রবার নয়াদিল্লীর রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত করতে এলে আবদুল হামিদ তাঁকে এ আশার কথা জানান।

বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নে তাঁর দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাংলাদেশের বিদ্যুত খাতে ভারতের সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যুত খাতের উন্নয়নে ভারতের আরও সহযোগিতা তিনি আশা করেছেন।

ইহসানুল করিম বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য ‘সবকিছু’ করার ইচ্ছা ও শুভ কামনা (উইল এ্যান্ড উইশ) ভারতের রয়েছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানি করছে। শীঘ্রই আরও ৫০০ মেগাওয়াট ভারতীয় বিদ্যুত বাংলাদেশের গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা রয়েছে।

সুষমার সঙ্গে বৈঠকে আবদুল হামিদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য ভারতের জনগণ ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা দুজনেই এ সময় দুই দেশের এমপিদের সফর এবং ‘ভারত-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’-এর কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর জোর দেন বলে ইহসানুল করিম জানান। সুষমা এ সময় বলেন, বাংলাদেশ কেবল ভারতের প্রতিবেশীই নয়, বরং নির্ভরশীল বন্ধু রাষ্ট্র। গত ৬ মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকের বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সফর করায় সুষমাকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। গত জুনে বাংলাদেশ সফরে আসেন সুষমা স্বরাজ। অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শহারিয়ার আলম, দিল্লীতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব শেখ আলতাফ আলী এবং ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন।

ভারতীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ॥ বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ বাড়াতে দেশটির উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারীর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। শুক্রবার বিকেলে নয়া দিল্লীর রাষ্ট্রপতি ভবনে সে দেশের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে এলে আবদুল হামিদ এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, হামিদ আনসারী এ সময় ‘বাংলাদেশ-ভারত সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের’ কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। রাষ্ট্রপতি হামিদ এ সময় আনসারীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। পরে রাজ্যসভায় বিরোধী দলের নেতা গোলাম নবী আযাদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত করেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবদুল হামিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন গোলাম নবী আযাদ।

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৪

২০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: