কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

‘উহাদের চোখে বিলাই মুতিয়াছে’

প্রকাশিত : ২ নভেম্বর ২০১৪
  • মুহম্মদ শফিকুর রহমান

দেড় মাস দেশের বাইরে থাকায় লিখতে পারিনি। সৌদি আরব থেকে ফিরে আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) তিন দিনের সফর শেষে দেশে ফিরে কলম হাতে নিলাম। অনেক ইস্যু। একাত্তরের কুখ্যাত রাজাকার বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘাতক আলবদর-আলশামস বাহিনীপ্রধান মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ডাদেশ; ভারতের মাটিতে বসে জমিয়াতুল মুজাহিদীনের (জেএমবি) শেখ হাসিনাকে হত্যার প্ল্যান; প্রধানমন্ত্রীর সফরের অভিজ্ঞতা এমনি নানান ইস্যু সামনে চলে এলো। তারও আগে এবারের আকবরি হজের অভিজ্ঞতা। ইচ্ছে আছে এসবের ওপর পরবর্তীতে লেখার। আপাতত ইউএই সফরের ওপর আলোকপাত করব। নিজামীর ফাঁসিÑসে তো অবধারিত। সে যত অপরাধ করেছে তাতে এক হাজার বার ফাঁসিতে ঝুলালেও তার যথাযথ শাস্তি হবে না।

এক.

লেখার শুরুতে কিছুটা স্মৃতিচারণ করতে চাই। স্বাধীনতা পূর্বকাল। ছাত্রজীবনের মাঝপথে হাঁটছি। খবরের কাগজ পড়ার অভ্যাস এরই মধ্যে হয়েছে। মোটামুটি সিরিয়াস রিডার বলে যা বোঝায়। তখন যে কয়েকজন সাংবাদিকের নাম (সম্পাদক ও কলামিস্ট) শিক্ষিত মধ্যবিত্তের মুখে মুখে উচ্চারিত হতো তাঁদের মধ্যে সবার আগে তিন দিকপালের নাম- দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, দৈনিক সংবাদ সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরী ও দৈনিক অবজারভার সম্পাদক আবদুস সালাম। এঁরা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তো বটেই। বরং ছিলেন একেকজন একেকটি প্রতিষ্ঠান। হাতে ছিল অসম্ভব শক্তিশালী একেকটি কলম। সম্পাদকীয় উপ-সম্পাদকীয় ছাড়াও তাঁদের সম্পাদনায় রিপোর্টের একেকটি শব্দ যেন একেকটি স্ফূলিঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে পড়ত। পাক সামরিক জান্তা আইয়ুবের তখত-তাউস থরথর করে কাঁপত। কখনও কখনও এমন সব দ্ব্যর্থবোধ উপমা-সিমিলি ব্যবহার করতেন যা একদিকে পাঠকের হাসির খোরাক যোগাত আবার শাসকগোষ্ঠীর (অবশ্যই স্বৈরশাসক) কলিজা ভেদ করত। এমনি একটি উদাহরণ হলো পাকি সামরিক জান্তা এবং তারও আগে পাকি শাসকরা প্রথমদিন থেকে বাংলাদেশ ও বাঙালী জনগোষ্ঠীকে সহ্য করত না, বাঁকা চোখে দেখত। সোনার বাংলাকে শ্মশান বানিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানকে গড়ে তোলার জন্যে যা যা করার করত। ব্রিটিশ বেনিয়া এবং পর্তুগীজ দস্যুদের মতো বাংলাদেশকে লুণ্ঠন করত। বাংলাদেশের জনগণ কিন্তু চুপ মেরে বসে থাকেনি। প্রতিটি লুণ্ঠনেরই জবাব দিচ্ছিল রাজনৈতিকভাবে। বুক চিতিয়ে ওদের ছোড়া গুলি বুকে নিয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রের শাসকগোষ্ঠী নির্বিকার থাকত। পাকিস্তান পার্লামেন্টে বাঙালী সদস্যগণ দাবি তুলত কিন্তু তারা কানেও তুলত না। শোনা কথা, তখন এমনি কোন এক ইস্যুতে মানিক মিয়া তাঁর বিখ্যাত ‘মুসাফির’ কলামের উক্তিÑ‘উহাদের চোখে বিলাই মুতিয়াছে’ কিছুই দেখিতে পাইতেছে না।

দুই.

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের ওপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত (মূলত ভারাক্রান্ত) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিক্রিয়া দেখে ষাটের দশকে শোনা মানিক মিয়ার উক্তিটি মনে পড়ে গেল। তিনি বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।’ শেখ হাসিনা যত অর্জনই দেশে আনুন, কোন অর্জনই তাদের চোখে পড়েনি, সমুদ্র বিজয় চোখে পড়েনি, সম্প্রতি সিপিএ ও আইপিইউ নির্বাচনে বিজয়, এমনকি আরব আমিরাতে বিজয়ও তাদের চোখে পড়ে না। তাই মানিক মিয়ার সেই বিখ্যাত উক্তিটি মনে পড়ে গেল। বিলাই তাদের ঘরেই এখন সেই কর্মটি করেছে।

এই ভদ্রলোকের একটি পরিচয় আছে, তিনি রাজাকার চখা মিয়ার সন্তান। ছাত্রজীবনে নাকি চীনপন্থী রাজনীতি করেছেন। সেই একই হলো। চীন ১৯৭১ সালে সর্বাত্মকভাবে আমাদের বিরোধিতা করেছে। তারা পাকিস্তানকে অস্ত্র, অর্থসহ সব রকম সহযোগিতা করেছে, নৈতিক সমর্থন দিয়েছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় অস্ত্র দিয়ে চীনাদের রাইফেল-এলএমজি-এমএমজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। সেই চীনপন্থীরা তাদের প্রভুর পথেই চলেছে। কেউ কেউ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুলি চালালেও পরক্ষণেই আবার মুক্তিযুদ্ধকে ‘দুই কুকুরের লড়াই’ বলে আমাদের দিকেও গুলি চালিয়েছে। তার কণ্ঠ থেকে মিথ্যে উচ্চারিত হবে এতে অবাক হই না।

তিন.

মির্জা ফখরুল যখন বলেন ‘কোন অর্জন নেই, ব্যর্থ হয়েছে’ তখন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী সাংবাদিক হিসেবে তাঁকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে অর্জনগুলো দেখিয়ে দেয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করিÑ

ক. প্রথমত শেখ হাসিনার এই সফরটি ছিল রাষ্ট্রীয় সফর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের আমির (শাসক) শেখ মুহম্মদ বিন রশীদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে তিনি ইউএই সফর করেন। ইউএইতে এটি তাঁর তৃতীয় সফর। অপর দুইটি রাষ্ট্রীয় সফর ছিল না। ২০০৯ সালে প্রথম দুবাই এয়ার শো এবং ২০১১ সালে ওয়ার্ল্ড এনার্জি সামিটে যোগ দেন। এবারেরটাই প্রথম সরকারী সফর এবং এ সফরে অন্তত তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যেমন- ১নং এগ্রিমেন্ট অন সিকিউরিটি কো-অপারেশন নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন, জঙ্গীবাদ, দুর্নীতি, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানিলন্ডারিং, সাইবার ক্রাইম, জালিয়াতি প্রতিরোধে যৌথভাবে ভূমিকা রাখবে। অর্থাৎ এ সব অপরাধের মোকাবেলায় তথ্য, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির আদান-প্রদানসহ সম্ভাব্য সকল উপায়ে একে অপরকে সহযোগিতা করবে।

মির্জা ফখরুল যাই বলুন না কেন, এ বিষয়টি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, পাকিস্তানে যা ঘটছে তা মির্জা ফখরুলরা সমর্থন করলেও বাংলাদেশের প্রগতিশীল ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তা সহ্য করতে পারেন না, সহ্য করেননি, ভবিষ্যতেও করবেন না। মির্জা ফখরুলের নেত্রী খালেদা জিয়া যেভাবে জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে জঙ্গীবাদ দমন না করলে, আজ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জঙ্গীবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতো। খালেদা-ফখরুলরা গোখরো সাপ নিয়ে খেলেছেন। সেই সাপই আজ তাদের চারদিকে ফণা তুলে ঘরে আবদ্ধ করে রেখেছে। তবু তাদের চৈতন্য হচ্ছে না বলে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখন জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন, জঙ্গীবাদ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চুক্তি করেন তখন তাদের ভাল লাগে না, কোন অর্জন দেখেন না।

২নং, ২০১১ সালে কতগুলো অপকর্মের কারণে আরব আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। শেখ হাসিনার এবারের সফরে সেই বন্ধ দরজার তালা খুলে দেয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০০ নারী গৃহকর্মী সেখানে চাকরি নিয়ে যাবে। এই পথ আরও প্রশস্ত করার জন্য সেখানে বাংলাদেশে একজন লেবার এটাচি ঢাকায় পাঠাবে। বাংলাদেশ আরব আমিরাতে এর দূতাবাস ভবন স্থাপনের জন্য ঢাকার বারিধারায় জমি উপহার হিসেবে প্রদান করেছেÑএই চুক্তিও স্বাক্ষরিত হলো।

৩নং, এগ্রিমেন্ট অন ট্রান্সফার অব সেনটেন্সেড পারসন-এই চুক্তির বলে আরব আমিরাত বা বাংলাদেশের কোন নাগরিক কোন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হলে সে তার নিজ দেশে সাজা ভোগ করার সুযোগ পাবে। যদ্দুর জানা গেছে, এ মুহূর্তে আরব আমিরাতের বিভিন্ন কারাগারে সহস্রাধিক প্রবাসী বাঙালী রয়েছে। এই চুক্তির বলে তাদের দেশে এনে সাজা ভোগ করাবার ব্যবস্থা করা হবে।

এ ছাড়াও সফরকালে সেখানকার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আন্তরিক সৌহার্দপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য ইউএইতে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করার লক্ষ্যে ব্যবসা, বিনিয়োগ, উচ্চশিক্ষা, পর্যটন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কৃতি, জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি ইত্যাদি পারস্পরিক ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা দুই দেশ একত্রে কাজ করার প্রস্তাব করলে নেতৃবৃন্দ তা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং একমত হন। ফলে কেবল জনশক্তি রফতানিতে সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন নতুন ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। এ ক্ষেত্রে একটি কথা বলা দরকার, দীর্ঘদিন ধরে ইউএইতে বসবাসরত বাঙালীদের কয়েকজন জানালেন, শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পেছনে প্রবাসী বাঙালীরা বহুলাংশে দায়ী। এক শ্রেণীর বাংলাদেশী কথায় কথায় মারপিট, এমনকি মানুষ হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ করছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করবে কে? ইউএইতে যে দূতাবাস রয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও দেদার অভিযোগ। মানুষের পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট ইস্যু ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয় না। দুবাই কনস্যুলার অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, কনস্যুলারে অফিস কক্ষ ছাড়া সর্বত্র ধুলা জমে আছে। শোনা গেছে, এখানে অর্ধশতাধিক কর্মচারী রয়েছেন। কেউ কেউ আছেন রোহিঙ্গা পেলে তাদের পোয়াবারো, পকেট ভারি হয়ে যায়।

বর্তমানে ইউএইতে ১০ লাখের মতো বাংলাদেশী রয়েছে। শ্রম, ব্যবসা ইত্যাদিতে নিয়োজিত। এর শুরুটা হয়েছে ইউএই-র জাতির পিতা ও প্রেসিডেন্ট শেখ জাইদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের আমন্ত্রণে ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইউএই সফরের মাধ্যমে। বাংলাদেশের মতো ইউএই-ও ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়। সেদিন যে ইউএই ছিল মরুভূমি আজ তা সবুজ বনানী বেষ্টিত এক মনোরম দেশ। পারস্য উপসাগর বেঁধে বিশাল বিশাল অট্টালিকা হোটেল বানিয়ে পর্যটন শিল্পকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে। স্থাপত্যকলার দিক থেকে আবুধাবির বিশাল গ্র্যান্ড মসজিদ পর্যটকদের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এখানে ২টি নামাজের এলাকা ছাড়া বাকি এলাকায় সব ধরনের, সব ধর্ম বিশ্বাসের মানুষ ঢুকতে পারে এবং নির্মাণশৈলী উপভোগ করতে পারে। তবে কোন নারী বোরকা ছাড়া বা পুরুষ হাফ-প্যান্ট পরে ঢুকতে পারে না। প্রবেশদ্বারে বোরকা ও পুরুষের জন্য লম্বা পাঞ্জাবি রাখা আছে এবং তা গায়ে জড়িয়ে ঘুরে দেখে আবার ফেরত দিয়ে আসতে হয়। শেখ হাসিনা এখানে আছরের নামাজ আদায় করেন। গ্র্যান্ড মসজিদের পাশে জাতির পিতা শেখ জাঈদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের কবর এবং তাতে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পবিত্র কোরান তেলাওয়াত হয়।

চার.

২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর তিন দিনের এই সফরের কার্যক্রম ছিল ব্যস্ততাপূর্ণ, দম ফেলার সময় ছিল না শেখ হাসিনার। এর মধ্যেও প্রবাসী বাঙালীদের এক সংবর্ধনায় যোগ দেন। এখানে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি তুলে ধরে প্রবাসীদের নিজ দেশে বিনিয়োগ করার আহ্বানের সঙ্গে সকলকে আইন, নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানান। আপনারা যে দেশে কাজ করছেন, বসবাস করছেন সে দেশের আইন মেনে চলতে হবে বলেও মন্তব্য করেন। এই ব্যস্ততার মধ্যেও ইউএই থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানের পত্রিকা ‘গালিজ টাইমস’ ও ‘গালফ নিউজ’-এর সাংবাদিকদের সাক্ষাতকার দেন। দুটি পত্রিকার প্রথম পাতায় শেখ হাসিনার ছবি ও ভেতরে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। বিশেষ করে ‘খালিজ টাইমস’-এর প্রথম পাতায় ছবি ছাড়াও তিনের পাতায় ফুল পেজ বিশাল ছবি ও ইধহমষধফবংয’ং বপড়হড়সু পড়হফঁপরাব ঃড় রহাবংঃসবহঃÑএই শিরোনাম দিয়ে ছাপা হয়। যে ফখরুল মিয়ারা কোন অর্জন দেখেন না, তাঁদের বলব ইন্টারভিউ দুটি পড়তে। অবশ্য ফখরুলদের কেউ কেউ বুঝবেন না, কারণ এটি ইংরেজীতে লেখা। ২৭ অক্টোবর দুটি ইন্টারভিউই ছাপা হয়। যাঁরা এখনও পড়তে চান তাঁদের জ্ঞাতার্থে দুইটি ওয়েবসাইট হলো এবং মঁষভহবংি.পড়স।

অবাক হওয়ার বিষয় হলো, শেখ হাসিনার এই গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারভিউ দুইটি পড়া থেকে বাংলাদেশের পাঠকরা বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ তাঁর সফরসঙ্গীদের মধ্যে বড় ধরনের প্রেস উইং বা ফরেন অফিসের কর্তাব্যক্তিরা ছিলেন। ২৭ তারিখ সকালেই ওয়েবসাইট দুইটি দিয়ে মেসেজের মাধ্যমে বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোকে অনুরোধ করলে অনেকেই ছাপাতেন বলে আমি মনে করি। কেউ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে শুনিনি। নিলে শেখ হাসিনাও ২৮ তারিখ সকালে ইন্টারভিউ দুইটি বাংলাদেশের কাগজে দেখতে পেতেন, কিন্তু দেখেননি।

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০১৪

লেখক : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

প্রকাশিত : ২ নভেম্বর ২০১৪

০২/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: