মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

হাওড় কইলে হাকালুকি আর যত কুয়া বেটা কইলে মাখন মনসুর আর সব পুয়া

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫

হাওড় কইলে হাকালুকি আর যত কুয়া, বেটা কইলে মাখন মনসুর আর সব পুয়া। এই প্রবাদটি এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওড় পারের জনগণের মুখে মুখে। হাকালুকি হাওড় বাংলাদেশের অন্যতম মিঠাপানির জলাভূমি। এর পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড় ও পূর্বে পাথারিয়া মাধব পাহাড় বেষ্টিত হাকালুকি হাওড় সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার সাতটি উপজেলায় বিস্তৃত। ছোট বড় ২৩৮টিরও বেশি বিল ও ছোট বড় ১০টি নদী নিয়ে গঠিত এ হাওড় বর্ষাকালে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর এলাকায় পরিণত হয়। এই হাওড়ে বাংলাদেশের মোট জলজ উদ্ভিদের অর্ধেকেরও বেশি এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সঙ্কটাপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি পাওয়া যায়। হাওড় তীরবর্তী দারিদ্র্যপীড়িত কৃষক ও জেলে সম্প্রদায় প্রতিনিয়ত প্রতিকূলতার ভেতর সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে। তাদের জীবন-জীবিকা এখন হুমকির সম্মুখীন। একই ঘরে বাস করে একাধিক পরিবার। নেই পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও সুপেয় পানীয় জলের সুবিধা। হাকালুকি হাওড় মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত। হাওড় তীরের এই পাঁচ উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষ জীবন-জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই হাওড়ের ওপর নির্ভরশীল। অতিমাত্রায় হাওড়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় হাওড়ের উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে মানুষের জীবন-জীবিকা।

অকাল বন্যা আর দীর্ঘ খরায় প্রতি বছরই ক্ষেতের ফসল হারিয়ে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের মীরশংকর-সাদিপুর, বাদে ভূকশিমইল, বরমচার ইউনিয়নের আকিলপুর ও ভাটেরা ইউনিয়ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এখানকার জীবনমান উন্নয়ন তো দূরের কথা অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর দিনযাপন করে যাচ্ছেন দারিদ্র্যপীড়িত জনসাধারণ। জেলেপাড়া অধ্যুষিত সাদিপুরের মৎস্যজীবিরা জানায়, বছরের ৩-৪ মাস হাওড়ে মৎস্য আহরণ করলেও ৮-৯ মাস তাদের বেকার সময় পার করতে হয়।

হাকালুকি হাওড় পরিবেশবান্ধব পর্যটন উন্নয়নের জন্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এ হাওড় বছরের বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে। শীত মৌসুমে হাওড়ের দিগন্ত বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বিলের কান্দিগুলো সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। বিলের জলের মাঝে ও চারিধারে জেগে থাকা সবুজ ঘাসের গালিচায় মোড়া কিঞ্চিৎ উঁচুভূমি বিলের জলে প্রতিচ্ছবি ফেলে সৃষ্টি করে অপরূপ দৃশ্য। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় হাওড়ের জলরাশির মাঝে সূর্যের প্রতিচ্ছবি সত্যই দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর। শীতকালে হাওড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সমৃদ্ধ করে অতিথি পাখির আগমন ও কলরব। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অতিথি পাখিরা আসে হাকালুকি হাওড়ে খাদ্য ও আবাসস্থলের সন্ধানে এবং বেছে নেয় বিল, নদী, খাল, কৃষিভূমি ও বিস্তৃত প্রান্ত শীতকালীন নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে। হাকালুকি হাওড় পরিণত হয় দেশী ও অতিথি পাখির মিলনকেন্দ্রে।

অতিথি পাখির সর্ববৃহৎ এই সমাগমস্থলে প্রতিবছর পুরো শীত মৌসুম হাওড়ে বিচরণ করে পাখিরা আবার গরমের শুরুতেই তারা ফিরে যায় নিজ আবাসস্থলে। শীত মৌসুমে খাদ্যের সন্ধানে হাকালুকি হাওড়ের পোয়ালা, চিনাউরা, পলোভাঙ্গা, ধলিয়া, চাতলা, পিংলাসহ বিভিন্ন বিলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসে নানা প্রজাতির লাখ লাখ অতিথি পাখি।

পাখির অবাধ বিচরণে অন্যরকম সৌন্দর্য ফুঠে ওঠে হাকালুকি হাওড়ের বিলগুলো। কিন্তু এক শ্রেণীর অসাধু পাখি শিকারি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির ছিটানো বিষটোপ আর পাতা ফাঁদে ধরা পড়ে হাজার হাজার অতিথি পাখি। ফলে প্রতি বছরই অতিথি পাখির সমাগম হ্রাস পাচ্ছে। বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির দেশী-বিদেশী পাখি।

Ñসৈয়দ হুমায়েদ শাহীন মৌলভীবাজার থেকে

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫

২৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: