মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মাইক্রোসফটের বাঁচা-মরার লড়াই

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫
  • ও জিন লি

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের দিক দিয়ে কয়েক বছর ধরেই ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে মাইক্রোসফট। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখথুবড়ে পড়ছে বারবার। প্রতিদ্বন্দ্বী এ্যাপেল তার ব্যবহারকারীদের দিয়েছে এ্যাপস্টোর যেখানে লাখ লাখ এ্যাপ্লিকেশনের ভেতর থেকে তারা বেছে নিতে পারেন তাদের পছন্দসই এ্যাপ, যা সকল এ্যাপেল ডিভাইসে একই সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে। শুধুমাত্র ডিভাইস বিক্রি করে নয়, বরং এ্যাপস্টোর থেকেই আসে এ্যাপেলের আয়ের ৩০ শতাংশ। কম্পিউটারের জগতে একক আধিপত্য নিয়ে মাইক্রোসফট বহু বছর আগেই ঠিক এ রকম একটি একক প্লাটফর্ম তৈরি করতে পারত যেখানে তার সকল ডিভাইসের জন্য কম্প্যাটিবল এ্যাপ্লিকেশন পাওয়া যাবে। কিন্তু সম্ভবত নিজ ডিভাইসের সফটওয়্যার তৈরির একক কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে রাখার জন্যই এ পথে পা বাড়ায়নি মাইক্রোসফট। শেষ পর্যন্ত ভুল উপলব্ধি করতে পেরে উইন্ডোজ ৮-এর জন্য এ্যাপস্টোর তৈরি করে মাইক্রোসফট। কিন্তু এখানেও আবার ভুল করে তারা। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা লাখখানেক জনপ্রিয় উইন্ডোজ এ্যাপ্লিকেশনগুলকে নতুন উইন্ডোজ ৮ প্লাটফর্মের উপযোগী না করে বরং নতুন এ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে মনোনিবেশ করে মাইক্রোসফট। যার ফলে একই কাজের জন্য একজন সাধারণ ইউজারকে সাহায্য নিতে হয় তিন ধরনের এ্যাপেরঃ উইন্ডোজ ৮ ফোনের জন্য একটি, নতুন উইন্ডোজ ৮ ট্যাবলেটের জন্য একটি এবং ডেস্কটপ পিসির জন্য এর প্রচলিত সফটওয়্যার। ফলাফল চূড়ান্ত বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় ইউজারদের মাঝে। দেরিতে মোবাইলের জগতে প্রবেশ করাও ছিল মাইক্রসফটের জন্য আরেকটি ভুল সিদ্ধান্ত, যখন প্রতিদ্বন্দ্বী এ্যাপেল এবং গুগল ইতিমধ্যে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে প্রায় আলোকবর্ষ এগিয়ে। এই সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই মাইক্রোসফট বাজারে এনেছিল উইন্ডোজ ৮ । যা কিনা একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের টাচপ্যাড, মোবাইল এবং ডেস্কটপ পিসিতে ব্যবহার করা যাবে। টাচস্ক্রিনকে মাথায় রেখে এই অপারেটিং সিস্টেমে প্রবর্তন করা হয় ‘টাইলড ইন্টারফেস’ এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রায় বিলুপ্তি ঘটানো হয় একেবারে উইন্ডোজের জন্মলগ্ন থেকে চলে আসা ‘স্টার্ট মেনু’ বাটনটির। তবে একেবারেই নতুন চেহারা নিয়ে এসে ফ্যানদের ভেতর সাড়া জাগাতে পারেনি উইন্ডোজ ৮।

বারংবার ভুল সিদ্ধান্ত এবং পরাজয়কে পেছনে ফেলে অবশেষে রুখে দাঁড়ানোর শেষ চেষ্টা হাতে নিয়েছেন মাইক্রোসফটের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ‘সত্য নাদেলা’। দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের ভেতর নাদেলা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম যার মধ্যে অন্যতম। খুব শীঘ্রই বাজারে আসছে এই নতুন অপারেটিং সিস্টেমটি। এর মাধ্যমে মাইক্রোসফট ফেরত আনছে এর বহুল জনপ্রিয় স্টার্ট মেনু বাটন। একজন উইন্ডোজ ৭ ব্যবহারকারী খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারবেন এই নতুন সিস্টেমের সঙ্গে। নতুন অনেক ফিচারের সঙ্গে সঙ্গে উইন্ডোজ ৭-এর পরিচিত ফিচারগুলোকে আরও উন্নতভাবে উপস্থাপন করবে উইন্ডোজ ১০। বাজারে আসার পর প্রথম বছর সকল উইন্ডোজ ৭ এবং ৮ ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে আপগ্রেড করতে পারবেন এই নতুন অপারেটিং সিস্টেমে। উইন্ডোজ ১০-এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো ইউজার খুব সহজেই তার প্রয়োজনমতো একে কাস্টমাইজ করে নিতে পারবেন উইন্ডোজ ৭ এবং ৮ এর মতো করে। নতুন অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি সাহসী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে মাইক্রোসফট। এখন থেকে মাইক্রোসফট সফটওয়্যার তৈরির একক কর্তৃত্ব না রেখে বরং ইন্ডেপেন্ডেন্ট ডেভেলপারদের জন্য ‘ইউনিভার্সাল উইন্ডোজ এ্যাপ’ তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছে। যার ফলে এখন থেকে একই এ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা যাবে সকল উইন্ডোজ ১০ ডিভাইসে, যার ভেতর থাকছে মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, পারসোনাল কম্পিউটার, এক্সবক্স ওয়ান গেম কনসোল এবং এমনকি ভবিষ্যত প্রযুক্তি ‘হললেন্স অগমেন্টেড-রিয়ালিটি হেডসেট’ এবং সকল ডিভাইসের জন্য একই এ্যাপস্টোর থেকে নামানো যাবে নতুন এ্যাপ। গত সপ্তাহেই আরেকটি চমৎকার ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট। উইন্ডোজ ১০ এ এমন সফটওয়্যার থাকবে যার মাধ্যমে বাজারে প্রচলিত আইওএস এবং এ্যান্ড্রোয়েড এ্যাপগুলো খুব সহজেই চালানো যাবে এতে। উদাহরণস্বরূপ জনপ্রিয় ‘ক্যান্ডি ক্রাশ’ গেমটি উইন্ডোজ ১০ এ চালিয়ে দেখায় মাইক্রসফট। সঙ্গে সঙ্গে বহু বছর ধরে চলে আসা ডেস্কটপ পিসির সফটওয়্যারগুলো কিভাবে কোন পরিবর্তন ছাড়াই উইন্ডোজ ১০ এ নিয়ে আসা যায় সে বিষয়েও কাজ করে যাচ্ছে মাইক্রোসফট। মাইক্রোসফটের ব্যবসা কৌশল এখন আর আগের মতো কতগুলো পিসি উইন্ডোজ ১০ ইন্সটল করল তা নিয়ে নয়, বরং আগামী ২-৩ বছরে অন্তত কয়েক শ’ কোটি ডিভাইস (ফোন, পিসি, ট্যাবলেট, গেম কন্সোল ইত্যাদিতে) উইন্ডোজ ১০ ছড়িয়ে দেয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। আশা করা যায় এই বিশাল ডিভাইস বেস দেখে ইউজার এবং ডেভেলপাররা উইন্ডজের প্রতি আবার আগ্রহ বোধ করবেন। সবকিছু হিসেব করলে মনে প্রশ্ন জাগে শেষ পর্যন্ত আবারো কি সাফল্যের মুখ দেখতে যাচ্ছে মাইক্রোসফট। এই প্রশ্নের জবাব মিলবে এ বছরের শেষ নাগাদ উইন্ডোজ ১০ বাজারে এলে। তবে আরেকটি পরাজয় মেনে নেয়ার সামর্থ্য নেই মাইক্রোসফটের, টিকে থাকতে হলে এবার জিততেই হবে। এ যেন মাইক্রোসফটের বাঁচা-মরার লড়াই। সূত্র : িি.িংঃৎধরঃংঃরসবং.পড়স/ংরহমধঢ়ড়ৎব

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫

২৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: