কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অনন্ত এবার অগ্রযাত্রার মহানায়ক...

প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০১৫

বাংলা সিনেমায় হঠাৎ একটা পরিবর্তন চোখে পড়ল বছর পাঁচেক আগে। যেমন ধরা যাক আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাকারবারির বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক কোন এক বীরের ফাইট কিংবা কোন কোন সন্ত্রাসী গডফাদারের বিরুদ্ধে কোন এক সৎ পুলিশ অফিসারের যুদ্ধ ঘোষণা। বাংলা সিনেমার দর্শক অপার বিস্ময়ে অবলোকন করল স্পেশাল ইফেক্ট আর অসামান্য সব গ্রাফিক্সের কাজ যা আগে কখনও দেখা যায়নি। আর এসব ছবি এডিটিং হয়ে এলো হলিউডের ইউনিভার্সাল স্টুডিও থেকে। বাংলা সিনেমার অবকাঠামোগত দুর্বলতা, দর্শকদের হলবিমুখ আচরণ কিংবা ভাল বাজেটের অভাবÑ এসব প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে যিনি এই পরিবর্তনের সূচনা করেছেন তিনি আর কেউ নন, অনন্ত জলিল যিনি সিনেমার ক্রেডিট লাইনে নিজেকে এজে পরিচয় দিতেই ভালবাসেন।

শুরুটা ২০০৮-এ। নিজের গার্মেন্টস ব্যবসার বিদেশী বায়ার যারা কিনা একই ইন্ডিয়ান ফিল্মের ইম্পোর্টার। তারা হঠাৎ তাকে প্রস্তাব দিলেন এখানে বাংলা সিনেমার দর্শক আছে প্রচুর। তুমি কিছু বাংলা সিনেমা আমাদের পাঠাও যেগুলো আমরা এখানে প্রদর্শন করব। কথা মতো কিছু বাংলা সিনেমা পাঠালেন অনন্ত। কিন্তু কাহিনী, কালার গ্রেডিং, সাউন্ড সিস্টেম এসব দেখে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না তারা। সর্বোপরি এসব ছবি আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা হলে প্রদর্শনের উপযোগী নয়। ফলে অনন্ত ভাবলেন নিজেই কেন শুরু করছেন না। শুরু হলো গল্প ও স্ক্রিপ্ট লেখার কাজ। কাজ শুরু হলো ‘খোঁজ দ্য সার্চ’ সিনেমার শূটিং। মুক্তি পাওয়ার পর বাংলা সিনেমার দর্শক পেল নতুনত্বের স্বাদ যা বাংলা সিনেমায় আগে কখনও দেখা যায়নি। দেশ-বিদেশের মনোরম সব লোকেশনে শূটিং, গ্রাফিক্সে এনিমেশনের কাজ এবং সর্বোপরি একটা মিশনভিত্তিক গল্প যে গল্পের মূলে আছে দেশপ্রেমের ছোঁয়া। এ প্রসঙ্গে অনন্ত জলিল বলেন, ‘আমি ছবি বানানোর আগে বাংলাদেশের বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেই। বাংলাদেশের দুর্নীতি, পোশাক শিল্পে দেশী ও আন্তর্জাতিক মহলের ষড়যন্ত্র, অস্ত্র চোরাকারবারি কিংবা জঙ্গীবাদÑ এসব নিয়ে সিনেমা বানিয়ে দেশের তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করাই আমার লক্ষ্য।’ আর এ কারণেই আর অনন্তর সব ছবিতেই থাকে একটি ম্যাসেজ যা দেশের মানুষের প্রতি এক ধরনের ধাক্কা, সততাকে পুঁজি আলোর পথে আসার আহ্বান। বাংলা সিনেমার প্রযুক্তিতে যে পরিবর্তন এসেছে গত ক’বছরে তা অনন্তর হাত ধরেই। নিজের ছবির এডিটিং করেছেন হলিউডের ইউনিভার্সাল স্টুডিও থেকে। এছাড়া চেন্নাই, বোম্বেসহ এমন সব স্টুডিওতে কাজ করেছেন যেখানে বলিউডের বড় বড় স্টারের ফিল্মের কাজ হয়। শূটিং করতে ছুটে গেছেন কখনও থাইল্যান্ড, কখনও মালয়েশিয়া। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, গ্রাফিক্সের জন্য আর্টিস্টদের ভিনদেশ থেকে উড়াল দিয়ে এনেছেন। উদ্দেশ্য আর কিছু নয়। একটা ভাল সিনেমা নির্মাণ যা কিনা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়। ইতোমধ্যে তার অভিনীত ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ একাধিক দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে যা বাংলা সিনেমার জন্য এক অভূতপূর্ব অর্জন।

বাংলা সিনেমায় বাজেট একটা বড় সমস্যা। একটা পরিপূর্ণ ফিল্ম তৈরি করতে যে বাজেটের প্রয়োজন তা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো দিতে চান না। সেখানে অনন্তর হাত ধরেই দেশে বড় বাজেটের ছবি নির্মাণ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ফিল্মে স্পন্সরশিপ নিয়ে কাজ করার ট্রেন্ড শুরু হয়েছে ‘মোস্ট

ওয়েলকাম-২’ থেকে যেখানে পরিচালক নিজেও মনের মতো করে কাজ করতে পারছেন, স্পন্সরদাতারাও তাদের প্রোডাক্ট প্রমোশনের সুযোগ পাচ্ছেন ফিল্মের বিভিন্ন দৃশ্যে, কারণ ফিল্ম একটা বড় মিডিয়া যেখানে অনেক দর্শক একসঙ্গে বসে প্রেক্ষাগৃহে বসে উপভোগ করছেন।

নিজের রয়েছে একটা আলাদা সত্ত্বা। দেশের সরকার ঘোষিত একজন কমার্শিয়ালি ইম্পর্টেন্ট পারসন (সিআইপি) তিনি। সুনামের সঙ্গে অবদান রাখছেন দেশের গার্মেন্টস শিল্পে। এত কিছুর মাঝেও টাইম ম্যানেজমেন্ট করছেন কিভাবে জানতে চাইলে অনন্ত বলেন, ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত কঠিন একটা কাজ। বিশেষ করে শূটিং না থাকলে সপ্তাহে ৬ দিন অফিস করি আমি। দেশে-বিদেশে অসংখ্য মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে হয়। সময় করে টিভি প্রোগ্রামগুলোতে যেতে হয়। তবুও আমার যে মিশন তা সাকসেসফুল করতে কাজের সময় বের করে নিতেই হয়।’ এছাড়াও শুধু ফিল্মে অভিনয়ই নয়। অনন্ত এখন খুঁজছেন ২৫ জন নতুন মুখ। সাধারণত সুপার স্টার পর্যায়ে পৌঁছানোর পর নিজের প্রযোজনার নতুন মুখদের সুযোগ দিতে হলে অনেক বড় মনের হতে হয়। সে জায়গাতেও উদার অনন্ত। নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মুনসুন ফিল্মস’-এর ব্যানারে পরবর্তী ছবি ‘দ্য স্পাই, অগ্রযাত্রার মহানায়ক’। আর এ ছবির জন্য অনন্ত শুধু নায়ক-নায়িকা খুঁজছেন না, খুঁজছেন শিশু শিল্পী, সিনিয়র আর্টিস্ট, কমেডিয়ান, ভিলেন থেকে শুরু করে বাংলা সিনেমায় যেসব চরিত্র প্রয়োজন তার সব কিছুই। অডিশন হবে সারা বাংলাদেশের সব বিভাগেই। সেখান থেকে ৩০০ জনকে বাছাই করে ঢাকা আনা হবে। তাদের গ্রুমিং করে ১০০ জনের একটা শর্টলিস্ট থেকে বাছাই করা হবে চূড়ান্ত ২৫ জনকে। তবে অনন্তের প্রত্যাশা এই ২৫ জনের বাইরেও গ্রুমিং করা ১০০ জন শিল্পী হলো বাংলা সিনেমার অর্জন যারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে বাংলা সিনেমায়। আর ব্যবসা আর ফিল্মের পাশাপাশি একাধিক সামাজিক কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করতেও পিছপা নন অনন্ত। যেমন ধরা যাক এতিমখানার কথা। ৪টা এতিমখানা রয়েছে অনন্তের যেখানে সমাজের নানাবিধ সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা একটা আশ্রয় নিয়ে নিজেদের জীবনকে গড়ে তুলছেন পরম মমতায়। এছাড়া একটা বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ করছেন সাড়ে ২৮ বিঘা জমির ওপর। প্রয়োজন মতো সাহায্য করছেন দেশের বিভিন্ন অসহায় দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের। বিশেষ করে প্রখ্যাত নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকনকে উচ্চ চিকিৎসার জন্যে বিদেশ গমনের জন্য অনুদান প্রদান উল্লেখযোগ্য। অনন্তর প্রত্যাশা দেশের ফিল্মের অবস্থা দিনে দিনে পরিবর্তন হবে, গল্পে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা উঠে আসবে, তার ছবি দেখে দেশের তরুণ সমান উদ্বুদ্ধ হবে দেশপ্রেমের প্রতি, দেশের কল্যাণের প্রতি। শুভ হোক অনন্তর এ যাত্রা, বাস্তবায়িত হোক অনন্তর এ প্রত্যাশা এটাই আমাদের কামনা।

প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০১৫

২৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: