রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রমজানের খাবার-দাবার

প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৫
  • সাইমুম সাদ

বছর ঘুরে আবার দরজায় কড়া নাড়ছে রমজান। এই মাসে রোজাদাররা সারাদিন রোজা রাখেন তাই তার খাবার চাহিদা রুচি, খাবার-দাবারের ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এমনকি ঘুমের রুটিনও পরিবর্তিত হয়। রমজান মাসে পরিবারের সবাই একসঙ্গে রোজা রেখে একসঙ্গে ইফতার করার মজাটাই আলাদা। পরিবারের কর্তা ব্যক্তিরা সারাদিন অফিসের কাজে বাইরে থাকলেও ঠিক ইফতারের আগে বাসায় চলে আসেন ব্যাগ ভর্তি ইফতারের পসরা নিয়ে। শসা, ছোলা, মুড়ি জিলাপি, লেবু, পেঁয়াজু, খেজুরসহ নানা পদের খাবারে সাজানো হয় ইফতারের প্লেট। খাবার-দাবার নিয়ে রমজানে যখন এত আয়োজন তখন আমরা অনেকেই ভুলতে বসি কোনটি মানসম্মত খাবার কোনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। সামনে যা পাই তাই গ্রোগাসে গিলে ফেলি। কিন্তু এভাবে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শরীরের ওপর বড়সড় কোন ধকল ডেকে না এনে চলুন রমজানে আপনার খাবারের স্বাস্থ্যসম্মত কয়েকটি মেন্যু জানা যাক-

সেহ্রিতে যা খাবেন

সারাদিন না খেয়ে থাকতে হবে তাই সেহ্রিতেই যতটা সম্ভব পেটটাকে ভরিয়ে রাখার চেষ্টা কখনোই করবেন না। আপনার ক্ষুধা নিবারণের জন্য ঠিক যতটুকু খাবার দরকার ততটুকুই খাবেন। মাত্রাতিরিক্ত খেলে লাভের লাভ কিছুই হবে না শুধু শুধু সারাদিন অস্বস্তিতে ভুগবেন। আবার অনেক খাবার আছে যেগুলো অল্প খেলেই আপনি নানাবিধ ঝুটঝামেলায় পরতে পারেন। আর তাই আপনার সেহ্রির মেন্যুটা তৈরি করার সময় লক্ষ্য রাখবেন কিছুতেই যেন ‘ঝুটঝামেলা’ না থাকে।

* গরম গরম ভাতের সঙ্গে সবজি দিয়ে আটপৌড়ে টাইপের সেহ্রি সেরে ফেলতে পারেন তবে চাইলে সঙ্গে ছোট মাছও রাখলে মন্দ হয় না, এতে সারাদিনে আপনার পানির পিপাসা কম লাগবে। শরীরের কেমিক্যাল ব্যালেন্সটাও ঠিক থাকবে।

* যাদের ভাত খাওয়ার খুব একটা আগ্রহ নেই তারা রুটি-ডাল খেতে পারেন।

* আঁশযুক্ত খাবারের প্রতি গুরুত্ব দিন। কারণ এই জাতীয় খাবার হজম হতে দেরি হয়। তাই ক্ষুধা লাগে দেরিতে।

* দুধে আপনার কোন সমস্যা না থাকলে হালকা গরম এক গ্লাস দুধ খেয়ে ফেলতে পারেন।

ইফতারে যা খাবেন

সারাদিন রোজা থাকার পর পাকস্থলী খারিকটা দুর্বল হয়ে পড়ে তাই খাবার পেয়েই হাপুস-হুপুস করে খাবার শুরু করে দেবেন না। আস্তে আস্তে খাবার চেষ্টা করবেন।

* প্রথমে পানি বা শরবত দিয়ে শুরু করুন।

* খোরমা বা খেজুর রাখাটা জরুরী সঙ্গে ছোলা থাকলে মন্দ হয় না তবে খেয়াল রাখবেন ছোলাতে মসলার পরিমাণটা যেন কোনমতেই বেশি না হয়। এতে আপনার এ্যাসিডিটি বেড়ে যাবে।

* কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে চাইলে ইফতারেরর সময়ই একগ্লাস ইসবগুল খেতে পারেন।

* ইফতারিতে মিষ্টি জাতীয় খাবারে মনোযোগ দিতে পারেন। কারণ সারাদিন রোজা থাকার পর শরীরটা ক্লান্ত হয়ে আসে আর এ সময়ে মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে গ্লুকোজ শরীরটাকে তরতাজা করতে সহায়তা করে। এই তালিকায় প্রথম পছন্দে জিলাপিকে রাখতে পারেন।

* বেশি বেশি ফল খান। ফল খেলে শরীরের ভিটামিন, শক্তি, খনিজ পদার্থের অভাব পূরণ করবে। পেঁপে, কলা, আমসহ প্রায় সব ফলই খেতে পারেন। তবে আপনি কোন ফল খাবেন তা নির্ভর করে আপনার সামর্থ্যরে উপর।

* ইফতারির পর দই-চিঁড়া খেলেও মন্দ হয় না। চিঁড়ার মধ্যে রয়েছে এ্যাসিডিটি কমানোর ক্ষমতা আর দই পরিপাক হয় খুব সহজেই। রোজাদারের পেট ঠা-া রাখার জন্য স্বস্তিদায়ক একটি রেসিপি।

যা খাবেন না

* সাইট্রাস বা লেবু জাতীয় ফল যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। ইফতারের সময় খালিপেটে সরাসরি টক কিছু খাওয়া ঠিক হবে না। লেবুতে রয়েছে এসিড যা পাকস্থলীর এসিডের সঙ্গে মিলে আপনাকে নাকাল করে ছাড়বে।

* মসলায় একটু সংযমী হন। বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ বা গোল মরিচ একটু কমই খান।

* টমেটোকে এই মাসটার জন্য বিদায় জানানোই ভাল। টমেটোর সস, সালাদ থেকে শুরু করে অধিক টমেটো দিয়ে তৈরি রান্না করা খাবারে আপনার বুকে জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে।

* চর্বিযুক্ত খাবার খাবেন না।

* বড়জোড় দু’এককাপ চা-কফি খেতে পারেন। এর বেশি খেতে চাইলে এ্যাসিডিটি আপনার ওপর হানা দিতে পারে।

* কোল্ড ড্রিঙ্ককে এই মাসের জন্য ‘না’ করে দিন।

প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৫

১৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: