কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট শুরু আজ ফতুল্লায়

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫
বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট শুরু আজ ফতুল্লায়

মিথুন আশরাফ ॥ আজ ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট যে উইকেটে গড়াবে, মঙ্গলবার খেলার আগেরদিন দুপুরে কাভার দিয়ে তা ঢাকা ছিল। অন্য উইকেটে দুপুরে বোলিং অনুশীলন করছিলেন ভারতের বোলাররা। হঠাৎ করে মুহূর্তেই বিরাট কোহলি কি না সেই কাভার সরিয়ে উইকেটের ঘাস পর্যবেক্ষণ করতে লেগে গেলেন। সঙ্গে সেই উইকেটে ব্যাট-বলের অনুশীলনও করতে চান। কী আশ্চর্য্য বিষয়! যখন মাঠকর্মীদের দিয়ে কাভার সরিয়ে এমন কাজ করতে শুরু করেছেন, দৌড়ে এসে কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা তা আটকে দেন। আবার উইকেটে কাভার দিয়ে দেন। প্রেসবক্স থেকে এ নিয়ে গামিনি-কোহলির মধ্যে কিছুক্ষণ তর্কযুদ্ধ হতেও দেখা গেল। শেষপর্যন্ত কোহলিকে হার মানতেই হলো। খেলাতেও কী বাংলাদেশের বিপক্ষে হার হবে কোহলির ভারতের?

কোহলির এমন আচরণই বুঝিয়ে দিচ্ছে, দুই দলের মধ্যকার সিরিজের একমাত্র টেস্টটি উইকেট নির্ভরই হতে চলেছে। উইকেটই টেস্টের রং যে কোন সময় বদলে দিতে পারে। এ উইকেট নিয়ে যে দিনভর আলোচনা চলেছে। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে তো উইকেট না বোঝার কথাই বলে দিয়েছেন। কোচই সবার আগে উইকেট না বোঝার কথা উঠাতেই সবাই চমকে গেল। কোচ কিনা উইকেট বুঝছেন না! কোহলি তা না বললেও আচরণই বুঝিয়ে দিয়েছে, উইকেট নিয়ে ভাবনা আছে ভারতেরও। সেই ভাবনা দেখা গেছে হাতুরাসিংহের এমন বলার পরই। বাংলাদেশী সাংবাদিকদের মধ্যে তখন হাতুরাসিংহের ‘কৌশল’ এটা আলোচনা হলেও, ভারত থেকে সিরিজ কাভার করতে আসা সাংবাদিকরা কিন্তু এ নিয়ে খুব সিরিয়াস দেখা গেল।

উইকেটে ঘাস আছে। সেই ঘাস আলাদাভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাতে রোল করা হয়েছে। ঘাসগুলো উইকেটের সঙ্গে মিশে গেছে। সেই রোল করা হয়েছে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত! তাতেই বোঝা যাচ্ছে, উইকেট যদি এ রকম থাকে ব্যাটিং হবে দুর্দান্ত। ব্যাটসম্যান ভুল না করলে আউট করা কঠিন হয়ে পড়বে। সঙ্গে স্পিনারদের জন্যও থাকবে সুবিধা। যতদিন ঘাস থাকবে, ততদিনই ব্যাটসম্যান ও স্পিনারদের মধ্যে একটা দুর্দান্ত লড়াইয়ের দেখা মিলবে। যে দল টস জিতবে, তারাই যে ব্যাটিং নেবে তা বোঝাই যাচ্ছে।

বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা তো যতই মুখে বলুক, ‘জিততে চাই’, অন্তরে তাদের ‘ড্র’ই আছে। তাই তো ব্যাটসম্যান ও স্পিন নির্ভর দল নিয়ে নামবে। যেখানে এক পেসার নিয়ে খেলার অনেক সম্ভাবনাও দেখা দিচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ব্যাটসম্যান বেশি নিয়ে খেলার ফল পেয়েছে বাংলাদেশ। যে পাকিস্তানকে কখনই রুখতে পারেনি বাংলাদেশ, টেস্ট ড্র করেছে। এবারও সেই লক্ষ্যেই দল এগিয়ে যাচ্ছে। জেতার জন্য খেললে হারার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। তাতে ড্র’র অভ্যাস যদি এখনই ভালভাবে গড়া যায়, তাতে ক্ষতি কী? ড্র’র অভ্যাস গড়া হলে জয়ের অভ্যাসের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া যাবে। বাংলাদেশ সেই কাজটি ভারতের বিপক্ষেও করতে চাচ্ছে। এতে এখন সাফল্য মিললেই হয়।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলে থাকলেও ব্যাটসম্যান কাম উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাসের টেস্ট অভিষেক হয়নি। আজ ভারতের বিপক্ষে সেই সুখকর মুহূর্ত মিলে যেতে পারে। যতদূর জানা গেছে, উইকেটরক্ষকের ভূমিকায় লিটনকে দেখা যেতে পারে। তাতে করে একজন ব্যাটসম্যানও বেড়ে যাবে।

অবশ্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ড্র করতে হলে কোহলি, রাহানে, শিখর, রোহিতদের আটকাতে হবে। সেই কাজ করতে হবে তাইজুল, জুবায়ের, মঙ্গলবার অনুশীলন না করা সাকিব, শুভগতদের। এর সঙ্গে খেলার আগের দিন বিশ্রামে থাকা রুবেল, সৌম্যরা দু’একটি উইকেট নিতে পারলে সুবিধাই হয়। আর ব্যাটিংয়ে তামিম, ইমরুল, মুমিনুল, মুশফিক, সাকিব, লিটন, শুভগত, সৌম্যকেই হাল ধরতে হবে। পাকিস্তানের মতো এখন একটি ইনিংসে বড় কোন জুটি কিংবা বড় কোন ইনিংস মিলে গেলেই হয়। ভারতের বিপক্ষে এর আগে ৭ টেস্ট খেলে বৃষ্টির সুবাদে ১টি ড্র, বাকি ৬টিতেই হার যে হয়েছে; তা থেকে বের হতেও পারে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে ৫ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে ড্র’ও করতে পারে বাংলাদেশ।

তবে একটি স্থানে দুই দলই ভয়ের মধ্যে আছে। ফতুল্লায় বর্তমান দুই দলের কোন ক্রিকেটারই টেস্ট খেলেননি। ওয়ানডে খেলেছেন। তবে টেস্ট খেলা কাররই হয়নি। ২০০৬ সালে ফতুল্লায় একটি টেস্টই হয়েছিল। এরপর আর কোন টেস্ট ফতুল্লায় হয়নি। ৯ বছর পর আবার যখন ফতুল্লায় টেস্ট হচ্ছে, ’০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, হেইডেন, হাসি, পন্টিং, গিলক্রিস্ট, শেনওয়ার্নদের নিয়ে গড়া দলের বিপক্ষে লড়াই করে হারার স্মৃতিই তাই প্রেরণা হয়ে সামনে আসছে। বাংলাদেশ তো এবার অনেক পরিণত দল। ২০১০ সালে যখন দুই দলের মধ্যকার সর্বশেষ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হয়, তখন বীরেন্দর শেবাগ বাংলাদেশকে ‘অর্ডিনারি’ দল বলার সঙ্গে বলেছিলেন, ‘২০ উইকেট নেয়ার ক্ষমতা হয়নি।’ কিন্তু এবার কোহলি সেইসব দিকে গেলেনই না। বাংলাদেশকে সমীহই করলেন।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে বাংলাদেশের সঙ্গে যে জিতেছিল ভারত, তাতে সমালোচনা হয়েছিল, সেই বিষয়গুলোও আসল। কিন্তু কেউই তাতে সায় দিলেন না। টেস্ট খেলা বলেই হয়ত সেই বিষয়গুলো আসছে না। তবে দুই দল যেভাবেই হোক জয়ের চেষ্টার কথাই বলল। বাংলাদেশের অবশ্য ড্র হলেই হয়। ভারতের কাছে টেস্টে হারের গোলকধাঁধা থেকে মুক্ত হওয়াই যে এখন প্রথম কাজ। সেই কাজের শুরু হচ্ছে আজ।

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫

১০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: