মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জেফরীরহস্য

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫
  • দিলরুবা শাহানা

অন্যের কথা কান পেতে শোনা শোভন নয়। উপদেশটা যদিও সত্যি। তবে কোন কথা শুনতে না চাইলেও যদি ছিটকে এসে কানের পর্দায় আঁছড়ে পড়ে তাতে শ্রোতার কোন দোষ থাকে না। তো তেমনি এক ছিটকে আসা কথা দিরানকে হতভম্ব করে দিল। রাত প্রায় সাড়ে দশটা বাজে। গভীর মনোযোগে সামনে ছড়ানো কাগজপত্রে গোয়েন্দার মতো চোখ চালাচ্ছিল। কাজ কঠিন না তবে অসম্ভব মন দিয়ে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়শুদ্ধতা যাচাই করে দেখতে হয়। একটাই ভাললাগা এখানে খুঁজে পায় যা হলো চোখ ছাড়া শরীরের অন্য কোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তেমন চাপ পড়ে না। তদুপরি নানা বিচিত্র বিষয় জানা হয়।

সপ্তাহে তিন দিন বিকেল পাঁচটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত এই কাজ দিরানকে অনেক কিছু দিয়েছে। প্রথমত পরিবেশ, দ্বিতীয়ত রুচিবান ভদ্রসঙ্গ তার ওপর কাজও পছন্দসই। পয়সাও খারাপ না।

এটা তৃতীয় সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন। আজই খট্্কাটা লাগল। ভদ্রলোক কম বয়সী প্রফেসর মানুষ। তবে কাজপাগলা। না হলে রাত এগারোটা-বারোটা পর্যন্ত এখানে পড়ে থাকে।

দিনের বেলা সেক্রেটারির রুম যেটি তাতে বিকেল থেকে দিরানের রাজত্ব চলে। পাশের রুমে প্রফেসর। কখনো কখনো দিরানকে কাজ বুঝিয়ে দেন। কখনো বা সামান্য গল্পও হয়েছে। তবে পরিচয় সামান্য দিনের বলে ব্যক্তিগত বিষয়ে তেমন কিছু জানা হয়নি। শুধু এর মাঝে একদিনই রাত দশটার পরও দিরান কিছু একটাতে চোখ ডুবিয়ে চুইংগামের মতো চেয়ারে সেটে ছিল। দেখে তাড়া দিলেন। ‘যাও বাড়ি যাও, সব বউ তো আমার বউয়ের মতো এসব মানবে না।’

আজও দিরান দেরি করছে। ভদ্রলোককে একটা বিষয় বলতে হবে। কিভাবে বলবে সেটাই ভেবে সে চিন্তিত। ফ্যাসাদ বাঁধিয়েছে সে নিজে। কেনই বা সে কুকুরের ছবিটি দেখে এতো আগ্রহ দেখালো। নিজের মনের কথাই বা কেন অকপটে বলতে গেল। আর ভদ্রলোকও পরম দাতা সেজে ওর বউকে কুকুর দিয়ে দেবেন বলেছেন।

ছবিটি সত্যিই চমৎকার। অন্তত দিরানের তাই মনে হয়েছে। কুকুর কোলে মহিলা বসে। খুব সুন্দর কুকুরটি। সে যখন কুকুর দেখে আনমনা। ভাবছিল কবে গুছিয়ে বসবে এদেশে আর নাহীনকে একটা কুকুর এনে দেবে। এনে ঠিক দেয়া যাবে না। কিনে দিতে হবে। উন্নত দেশে বেওয়ারিশ কুকুর মেলে না। কিনতে হয় তাকে। ছবির দিকে একটু বেশি সময়ই বোধহয় তাকিয়েছিল দিরান।

কি দেখছো, ইনি আমার স্ত্রী’

ভদ্রলোকের কথায় বিপন্ন দিরান আচমকা বলে উঠল।

কুকুরটাকে দেখছি- আমার বউও কুকুর খুব পছন্দ করে, ঢাকাতে ওর একটা কুকুর ছিল।

তার স্ত্রীকে না দেখে কুকুর দেখছে বলাতে ভদ্রলোক যে অখুশী হবেন না তা দিরান নিশ্চিত জানতো। পশুপাখির জন্য এদের অসম্ভব ভালবাসা। অবাক হয়েছিল একবার। যখন টিভিতে দেখালো এ্যালেন বোর্ডার ক্রিকেট পুরস্কার উৎসবে খেলোয়াড় কলিন মিলার সবুজ হলুদ রঙে রাঙ্গানো চুল দিয়ে প্রাক্তন খেলোয়াড় ও ক্রিকেট ধারাবর্ণনাকারী রিচি বোনার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করল। পুরস্কারও নিতে নিতে কলিন তার দুই কুকুর রিচি ও বেনাকেও ধন্যবাদ জানালো।

মুখ দেখে মনে হলো রিচি বেনা যেন খুশিই হয়েছে তাতে। দিরানও কুকুর ভালবাসে। তবে তার কোন বন্ধু বা তার স্ত্রী নাহীনও যদি কুকুরের নাম দিরান রাখে তবে সে মোটেও সুখীবোধ করবে না।

যেই বলল কুকুর ওর ভালবাসে শুনে পরদিনই ভদ্রলোক ওকে বললেন,

‘আমার স্ত্রী তোমাদের কুকুরটা দিয়ে দেবেন, ওকে তোমরা আদর করে রাখবে তো?

অনেক ধন্যবাদ, আমরা অবশ্যই ওকে যত্ন করে রাখবো, তবে...’

ওকে বাক্য শেষ করতে না দিয়ে উনি বললেন,

‘আমাদের এখন পুকুর পোষার মতো অবস্থা নাই।’

কুকুর পোষার অবস্থা বলতে ভদ্রলোক কি বুঝালেন তা দিরান বুঝল না। তার নিজেরও কুকুর রাখার সামর্থ্য আছে কিনা তা তখনও সে জানত না। তার ধারণা ছিল ছোটমতো কুকুর রাস্তায় পেলে আদর করে তুলে নিয়ে আসলেই হলো। তাতেই হবে। এর বেশি অর কি চাই। ব্যাপার যে অত সোজা নয় ধাক্কা খাওয়ার পর টের পেল।

আজ সে দেরি করে বসেছিল কুকুরের দায় থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। তখনই কথাটা কানে এলো। যদিও ভদ্রলোক বলেছেন, দু’সপ্তাহ পর ওরা কুকুরটা পেয়ে যাবে। সময় আছে তবুও কথাটা আগেই বলে দেয়া উচিত হয়ত। ঠিক তখনি টেলিফোনের আলাপচারিতার খানিকটা ওর কানে ঢুকলো।

তুমি কি এখনও জেফরীকে নিয়েই আছ? সে খুব মজার তাই না?

দিরান অবাক হলো। ক্ষোভ হলো তার। যে মহিলার স্বামী রাত পর্যন্ত কাজে ব্যস্ত সে কিনা বাড়িতে অন্য আরেকজনের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটাচ্ছে। মহিলার জায়গায় নাহীনকে কল্পনা করে কুপিত হলো সে, বিবমিষা হলো তার। দিরান ভাবলো ওদের বোধহয় ডিভোর্স হতে যাচ্ছে তাই এখন কুকুর বিদায়ে ব্যস্ত। এমন সম্পর্কের চেয়ে ডিভোর্স হওয়াই সুস্থতার লক্ষণ বলে মনে করা হলো দিরানের।

তারা কেন কুকুরটা নেবে না তার এক বানোয়াট কাহিনী সে ফাঁদবে। সত্যি কারণাটা বলবে না। বললে তার রাগ চলে আসবে। বলতে চায় না। ঢাকাতে নাহীনদের মধ্যবিত্ত আবাস ভেঙ্গে এ্যাপার্টমেন্ট তোলার পরও কুকুর ছিল। বিল্ডিংয়ের চারপাশে দেয়ালঘেরা ছোট্ট আঙ্গিনাতে কুকুর রবো থাকতো। ওকে নিয়ম করে বেড়ানো খেলানোর দরকার হতো না কখনো। রবো নিজেই যেত বেড়াতে গেটের বাইরে। আবার সুযোগ পেলে কখনো রাস্তার পুকুরও দু’একজন ওর কাছে বেড়াতে চলে আসতো। তবে তাদের বেশিক্ষণ রবোর আতিথ্য গ্রহণ সম্ভব হতো না এ্যাপার্টমেন্টের দারোয়ানের যন্ত্রণায়। রবো নাহীনের কুকুর হলেও ঐ বিল্ডিংয়ের অন্যান্য বাসিন্দারাও ওকে পছন্দ করত। কারণ রবো ছিল শান্ত ও বন্ধুভাবাপন্ন।

সেই রবোর জন্য নাহীনের মায়া দেখে দিরানের মনে হয়েছিল কোন একদিন সে নাহীনকে কুকুর কিনে দেবে। আর এখন ভাল সুন্দর কুকুর পেয়েও ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে বলেই রাগ হচ্ছে।

এই সময়ে প্রফেসর ভদ্রলোক নিজের কামরা থেকে বেরিয়ে এলেন। অবাক হয়ে বললেন-

‘কি ব্যাপার এখনও আছ যে?’

দিরান একটু ইতস্তত করে বললো-

‘একটা কথা বলতে চাইছি জানি না কিভাবে নেবে তুমি।’

একটু থামলো সে। ভদ্রলোক শঙ্কিত গলায় বলে উঠলেন-

‘কি তুমি আর আসনে না কাজ করতে?’

দিরানকে উনি পেয়েছেন স্টুডেন্ট ইউনিয়নের সামনে ক্যান্টিন থেকে। পর পর দু’তিনদিন দুপুরের খাবার সময়ে যখন দিরানকে দেখলেন ল্যাপটপ সামনে খুলে গভীর মনোযোগে এক বন্ধুকে তার থিসিসের সংশোধনীতে সাহায্য করছে তখনি ভাবলেন এই ছেলেকে পেলে তার নতুন রিসার্চ স্টাডিতে কাজে লাগানো যাবে। এই মুহূর্তে যখন স্ত্রীও তার আরেক দুশ্চিন্তা হয়ে উঠেছে তখন দিরানকে হারানো সহ্য হবে না। না হলে তো স্ত্রীই তার বড় শক্তি ছিল। দিরান তাকে আশ্বস্ত করে বললো-

‘না না যাচ্ছি না, তবে সমস্যা হলো আমরা কুকুরটা নিতে পারছি না এখন’

‘তুমি বলেছিলে তোমার স্ত্রী কুকুর খুব পছন্দ করে তাহলে...’

ভদ্রলোককে কথা শেষ করার সুযোগ না দিয়ে দিরান বলে উঠলো-

‘আমার বউ নতুন একটা কাজ পেয়েছে তো তাই কুকুরের জন্য এখন সময় বের করা মুশকিল হয়ে গেছে, সত্যিই দুঃখিত।’

কথাটা বলে হাফ ছাড়লো দিরান। এরা খুঁটিয়ে জানতে চাইবে না কোথায় চাকরি পেয়েছে, কত টাকা বেতন, রাতের শিফট নাকি, ওভারটাইম (দেশে হলে উপড়ি) আছে কিনা ইত্যাদি সাতকাহন। একবার এক বাংলাদেশী ভদ্রলোক রস করে নিজের জাতের লোকের সীমাহীন কৌতূহল নিয়ে বলতে বলতে মজার এক ঘটনা বর্ণনা করে বললেন,

‘...দেশীভাইয়ের শুধু বাকি ছিল আমাকে জিজ্ঞেস করার, ভাই আপনি কোন ব্র্যান্ডের আন্ডারওয়েয়ার পরেছেন আর আপনার স্ত্রীর ব্রা কোন কোম্পানির হাহ হাঃ হাঃ।’ এদিক দিয়ে এরা ভাল যে ব্যক্তিগত কোন বিষয়ে প্রশ্ন করে না। তাতেই সত্যভাষী দিরান রেহাই পেল যেন। আসলে ওরা যে কুকুরটা নিতে পারছে না বাড়ির মালিকের যন্ত্রণায় তা ভদ্রলোককে না বলাই দিরানের মনে হলো ভাল।

দিরানের ধারণা ছিল সাদা চামড়ার সবাই বোধহয় কুকুর ভালবাসে। একদম ভুল ধারণা। তাদের বাড়িওয়ালী ধবধবে চামড়ার ঝকঝকে এক বুড়ি কিন্তু কুকুর দেখতে পারে না একেবারে। একই ছাদের নিচে তিনটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আবাসন। তিন পরিবার ব্যক্তিগত নিজস্বতা নিয়ে থাকছে। প্রত্যেকের নিজ নিজ পেছনের উঠোন বা আঙিনা আছে। তবে সামনের আঙিনা সর্বজনীন। এ ধরনের বাসস্থানকে এরা বলে ইউনিট। হাসিখুশি ছিপছিপে বুড়িদাদি বাড়িওয়ালী জানিয়েছেন এখানে কুকুর পোষা যাবে না। সে নাকি হল্যান্ড বা নেদারল্যান্ড নামের কোন এক দেশ চল্লিশ বা পঁয়তাল্লিশ বছর আগে ছেড়ে আসে থাকার জায়গার অভাবে। বাড়িঘরে কুকুর রাখতে ওরা অভ্যস্ত নয়। এখানে এসেও সে কুকুরের সঙ্গে ঘেঁষাঘেঁষি বা মাতামাতি পছন্দ করেনি।

‘তোমাদের দেশেও তো মানুষের প্রচ- ভিড় শুনি তাইলে কুকুর থাকে কই?’ বিস্মিত প্রশ্ন ছিল তার। দিরান বা নাহীন এই কথার উত্তর দেয়নি। যদিও দিরানের ইচ্ছে হয়েছিল বলতে ‘থাকে তোর মাথায়’। তার দেশে মানুষের ভিড়ে কুকুরও আছে। মনে মনে ভাবলো তাকে তো মেরে ফেলা যাবে না। প্রাণিবৈচিত্র্য নষ্ট করা উচিত কি? কুকুরগুলো চুরিছ্যাচড়ামি করে লাথিঝাঁটা খেয়ে বেঁচে তো আছে। হয়ত সব কুকুর যত্ন-আত্মি পায় না তবে প্রকৃতি আর পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে তো।

কুকুর চিন্তা বাদ দিয়ে জেফরী চিন্তায় আচ্ছন্ন হলো দিরান। ঘরে ফিরে খেতে খেতে নাহীনকে কাহিনীটা শুনালো।

‘আশ্চর্যতো! ভদ্রলোক অত রাতে কাজে আর মহিলা ঐ দিকে...!’

নাহীনও বিরক্তি নিয়ে কথাটা বলল। দিরান তার ধারণার কথা বলল-

‘বোধহয় ওদের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে, দেখ না আদরের কুকুর বিদায় করছে, ভদ্রলোককেও চিন্তিত মনে হলো, তবে ওদের ব্যাপার-স্যাপার অন্যরকম,’ ‘ঠিকই বলেছ আমরা সম্পর্ককে চিরকালীন ভাবি তাই ভেঙে গেলে কষ্টটা বড় বেশি পাই।’

‘কিন্তু শেষ হওয়ার আগেই জেফরীর সঙ্গে মাখামাখি এটা অসহ্য।’ ‘এমন তো হতে পারে যে জেফরী ওদের কুকুরের নাম।’ ‘না না কুকুরের নামতো রেক্স।’

‘আরে আমাদের পাশের ঘরে ভদ্রলোকের নামও রেক্স, কি অদ্ভুত কথা, মানুষ আর কুকুরের একই নাম’!

‘তাতে কি আসে যায়, আমরাও তো বলি মিনি বিড়াল, বলি না বল?’

‘বিড়ালের নাম মানা যায় তাও; কিন্তু তাই বলে কুকুর’।

‘ভাবছি কুকুরের নাম কি রকম হলে শ্রুতিমধুর হয় তার তালিকা তৈরি করে বই প্রকাশ করবো।’

এই বিষয় নিয়ে হাসাহাসি করল ওরা। কুকুর না আনতে পারাতে নাহীনেরই বেশি মন খারাপ হওয়ার কথা যদিও। দেখা গেল সে বেশ সামলে নিয়েছে দুঃখটা। নাহীন মজার কথা শুনালো-

‘জান রিডার্স ডাইজেস্টে পড়লাম নিউইয়র্কে নাকি ঘরভাড়া নিতে চাইলে পোষা কুকুরকে ইন্টারভিউ পাস করতে হয় তবেই ভাড়াটিয়া যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।’

‘শুন নাহীন রবোর একটা বাচ্চা-টাচ্চা হলে আমরা ওটাকেই বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসবো, কি বল?’

‘আরে ও কুকুর; কুকুরী নয়’

‘আচ্ছা ওর কাছে যারা আসতো তারা কেউ জেফরী নয় সবাই জেনী ছিল তবে।’ ‘তাই হবে হয়তো, চুম্বকের ধর্ম যেমন বিপরীত মেরুতে আকর্ষণ প্রাণী জগতেও তেমনটিই দেখা যায়।’

সব কথা ও হাসির পর ওরা দু’জনে ঘুমাতে গেল। ঘুম সহজে আসছিল না। স্বামী-স্ত্রীর একান্ত জগত বড় অদ্ভুত। খুব কাছাকাছি তবুও দু’জনের মন দুই দোলায় দুলছিল। নাহীন ভেবে আপ্লুত হচ্ছিল দিরানের আন্তরিকভাবে কুকুর আনার চেষ্টা দেখে। দিরান কুকুরপ্রেমিক নয় তবুও নাহীনের ইচ্ছা পূরণের জন্য তার এই উদ্যোগ।

দিরান ভাবছিল কুকুর না পেয়েও নাহীন কেন মন খারাপ করল না? উল্টো দিরানকে হাসিখুশি রাখতেই সময়টা ভরিয়ে তুললো। আর ঐ ভাগ্যহত প্রফেসরের স্ত্রী কি তেমনি আনন্দে সময় পূর্ণ করে তোলে কখনো। মনে হয় না।

আসলে নাহীন তার প্রিয় কুকুরের স্মৃতির মাঝে তার ফেলে আসা দেশ, প্রিয় পরিবেশ, আপনজনকে লালন করে চলেছে নীরবে, নিভৃতে। দীর্ঘদিনের সঙ্গী রবোর বদলে অন্য কেউ সে হাহাকার ভুলিয়ে দিতে পারবে না সে নাহীন বোঝে।

পরদিন বিকেলে দিরান কাজে পৌঁছে দেখলো ওর টেবিলে কতগুলো প্যাকেট রাখা। মনে হলো বইয়ের প্যাকেট। ভদ্রলোক বেরিয়ে এসে প্যাকেটগুলো নিচে মেঝেতে রাখতে রাখতে বললেন-

‘আজ আটটার মাঝেই চলে যাব বুঝেছ, কাল ভোরে আমার স্ত্রী চলে যাচ্ছেন। চিরকালের জন্য নয় অবশ্যই; মাত্র তিন মাসের জন্য দার্জিলিংয়ে নিজের কাজ করতে, সঙ্গে যাচ্ছে কে জান?’

বলে প্যাকেট ছিঁড়ে একটা বই বের করে ওকে দিয়ে বললো-

‘জেফরী আর্চার যাচ্ছে তার সঙ্গে, তবে স্বশরীরে নয় যাচ্ছে দু’মলাটের মাঝে বন্দী হয়ে, সমালোচনায় বলা হয়েছে সে নাকি এই সময়ের সেরা গল্প বলিয়ে; আমি নিজে অবশ্য তার কোন গল্পই পড়িনি।’

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫

০৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: