মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মানবপাচার চক্রের তিন সদস্য আটক

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মানবপাচার শুধু সমুদ্রপথেই হচ্ছে না। পাচারকারীরা যে দিক থেকেই সুবিধা পাচ্ছে সেদিক দিয়েই পাচার করছে মানব সন্তান। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব এবার সীমান্তপথে ভারতে পাচার মানবপাচারকারী চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করেছে। রবিবার রাজধানীর পল্লবীর কাফরুল থেকে তাদের আটক করেছে র‌্যাব-৪। তারা হলেন মোঃ ওয়াসিম আকতার (নয়ন), মোঃ জামাল সরকার, মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (শিশির)।

তাদের পাচারের শিকার দুই ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়। এরা হলেন-রাকিব খন্দকার ও হাবিব। এ দুজন র‌্যাবের এক সংবাদ সন্মেলনে জানিয়েছেন কিভাবে তাদের ভাল বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের মাসের পর মাস আটকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে বাধ্য করা হয়। এ সময় তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকাও আদায় করা হয়।

মানবপাচারকারী এ চক্রটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০ জনকে পাচার করে। ভারতের চেন্নাই ও তামিলনাড়ুতে দুটো ক্যাম্পে আটক এ সব বাংলাদেশী এখনও সেখানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। যারা মুক্তিপণ দিচ্ছে তাদের দুবেলা খেতে দেয়া হয়। যারা টাকা দিতে গড়িমসি করছে তাদের অনাহারে অর্ধাহারে রেখে চরম অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।

এ চক্র সম্পর্কে র‌্যাব জানায়, গত ১৮ মার্চ ভিকটিম রাকিব ও হাবিসসহ বেশ ক’জনকে উন্নত বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে পাঠানোর কথা বলে সাতক্ষীরায় নেয়া হয়। সেখানে ভারত থেকে আসা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য মোঃ মনিরুজ্জামান ডালিমের কাছে বিক্রয় করা হয় এ দুজনকে। এতে তিনি পাসপোর্ট এবং ভিসা ছাড়াই অবৈধপথে ভিকটিমদের ভারতে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের তামিলনাড়ু প্রদেশের একটি স্থানে তিন মাস আটকে রাখে। ভিকটিমদের দিয়ে পাচারকারীরা দাস হিসেবে বিনা মজুরিতে কাজ করায়। কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করলে তাদের শারীরিক নির্যাতন করা হতো। এ সময় তাদের পরিবারকে ফোনে বলতে বাধ্য করে যে, তারা সেখানে ভালই আছে এবং ভাল বেতনের চাকরি করছে। এ জন্য পাচারকারীদের আরও কিছু টাকা পাঠাতে হবে।

র‌্যাব-৪ অধিনায়ক শাহাবুদ্দিন খান জানান, ভিকটিম রাকিব ও হাবিব তিন মাস থাকার পর কৌশলে কোন এক বাঙালীর সহায়তায় ভারত থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসতে সক্ষম হন। এরপর তারা র‌্যাব-৪-এর শরণাপন্ন হলে এ বিশেষ অভিযান চালিয়ে এদের আটক করা হয়।

সম্প্রতি থাইল্যান্ডের জঙ্গলে গণকবর আবিষ্কৃত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে মানবপাচারের বিষয়টি। এরপর বিভিন্ন সময়ে ট্রলারে ও নৌকায় রওনা দেয়া বিপুল সংখ্যক মানুষকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি রয়েছে বাংলাদেশীরাও। মানবপাচার-কারীদের আস্তানা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধারে বিশেষ অভিযানে নামে র‌্যাব। কক্সবাজারের পাশাপাশি র‌্যাব সাতক্ষীরাসহ অন্যান্য সীমান্ত এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরুতেই গত মাসে ধরা পড়ে তিন জন। ওই চক্রের পর রবিবার তাদের আটক করা হয়। এমন আরও বেশ ক’জন পাচারকারীর রাজধানীতে ঘাঁটি রয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫

০১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: