মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বিশ্বসেরা ম্যাগাজিন ‘ইলি’

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫
  • পান্থ আফজাল

ইলি একটি ফরাসী ঘরানার ফ্যাশন, সৌন্দর্য, স্বাস্থ্য এবং বিনোদনবিষয়ক বিশ্বব্যাপী জীবনধারা ম্যাগাজিন। ইলি বিশ্বের সেরা বিক্রয় ফ্যাশন ম্যাগাজিনের মধ্যে অন্যতম স্থান দখল করে আছে। বিশ্বের সেরা এই ম্যাগাজিন ১৯৪৫ সালে পিয়রে লাজারিফ এবং তার স্ত্রী হেলেন গরডনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অদ্ভুত শিরোনামের এই ইলির ফরাসী মানে তিনি বা তার যা আজও পৃথিবীব্যাপী মানুষের কাছে সমাদৃত।

তবে ১৯৬০ সালে ফ্যাশনকে উপজীব্য করে প্রায় ৮ লাখ অনুগত পাঠককের কথা চিন্তা করে ইলি নতুন সেøাগান নিয়ে আসে ‘যদি সে পরে, তবে সে ইলি পরে’ যা কিনা ফরাসী ভাষায় অনুবাদ করলে হয় ‘সি ইলি লিট, ইলি লিট ইলি’। আর ১৯৮১ সালে ড্যানিয়েল ফিলিপাচ্চি এবং জঁ-লুক লাগারদেরে ক্রয় করে নেয় হাচিট্টি ম্যাগাজিন যার সঙ্গে ইলিও সংযুক্ত ছিল। অবশ্য তখন ইলি সবেমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চালু করা হয়েছিল। তবে ইলির চীনা সংস্করণ ১৯৮৮ সালে শেষমেশ প্রকাশ করা হয়েছিল। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সম্পূর্ণ পক্ষঘাতগ্রস্ত থাকাকালীন সময়ে ইলির অতীত সম্পাদক জাঁ-ডমিনিক বাউবির অসামান্য লেখা পাঠকমহলে প্রচুর জনপ্রিয়তা পায়।

ইলির প্রকাশনা ফ্রান্সে শুধুমাত্র সাপ্তাহিকভাবে বের হয় কিন্তু বিশ্বব্যাপী এটি বের হয় মাসে মাসে। ইলি বিশ্বের বৃহত্তম ফ্যাশন ম্যাগাজিন যা অন্তত ২৮টি ভাষাতে ৪৩টি আন্তর্জাতিক সংস্করণে প্রায় ৬০টিরও বেশি দেশে প্রকাশিত হয়। প্রযুক্তিগতভাবে প্রায় ৩৩টি ওয়েবসাইট নিরীক্ষা করে দেখা যায় যে, একটি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের সাবস্ক্রিপশনকৃত পাঠকদের ৭৩ শতাংশই হলো ইলির পাঠক। বিশ্বব্যাপী ইলির ৩৩টি ওয়েবসাইটে সম্মিলিতভাবে অনন্য দর্শক হলো ২৫ মিলিয়ন আর প্রতিমাসে তারা দেখে ৩৭০ মিলিয়ন পেজ। এই বিশ্বসেরা ম্যাগাজিনের পাঠক সংখ্যা ৬৯ মিলিয়নে ছাড়িয়েছে যার মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশ পাঠকই নারী। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসবের মধ্যে ১৮ থেকে ৪৯ বছরের নারীর সংখ্যাই বেশি।

ইলির প্রথম আন্তর্জাতিক সংস্করণ চালু করা হয়েছিল জাপানে, ১৯৬৯ সালে। তারপর একে একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে ১৯৮৫ সালে চালু করা হয় ইলির সংস্করণ। পরের বছর স্পেনে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৮৭ সালে এটি শুরু হংকং এবং ইতালিতে। তবে এই ম্যাগাজিনটি ১৯৮৮ সালে পর পর ৬ দেশ অর্থাৎ জার্মানি, ব্রাজিল, চীন, সুইডেন, গ্রীস এবং পর্তুগালে চালু করা হয়েছিল ব্যাপক পরিসরে। এরপর ১৯৮৯ সালে নেদারল্যান্ডস ও ক্যুবেক, ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়া ও তাইওয়ান এবং ১৯৯৬ সালে সর্বশেষ রাশিয়ান সংস্করণে এই বিখ্যাত ম্যাগাজিনটি প্রকাশ করা।

আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ইলির সদর দফতর হলো প্যারিসে। সুসংবাদ এই যে, ডিসেম্বর ২০১৩ সালে, ইলির নকশা পরিচালক হিসেবে রেনডি মাইনরকে নিয়োগ দেয়া হয়। ইলির প্রধান সম্পাদক, রবি ম্যাইইয়ারজে ইলির পাঠক সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, ‘আমাদের পাঠকরা চিন্তার দিক দিয়ে যথেষ্ট তরুণ এবং অবশ্যই একটি দুঃসাহসিক কাজ জীবনকে উপভোগ করা।’

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

২৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: