হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধির পথে আরেক ধাপ

প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৫

কৃত্রিম বুদ্ধির আবির্ভাব কি অনিবার্য? পুরোদস্তুর কৃত্রিম বুদ্ধির আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে কি মানবজাতির ভবিষ্যত নতুন করে নির্ধারিত হবে? এটা কি মানবজাতির ধ্বংস ডেকে আনতে পারে? স্বনামধন্য বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তো এমন হুঁশিয়ারি একাধিকবার উচ্চারণ করেছেন। এলন মুস্ক নামে বিজ্ঞান শিল্পের আরেক উদ্যোক্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধি মানবজাতির অস্তিত্বের প্রতি সবচেয়ে বড় হুমকিতে পরিণত হতে পারে। বিল গেটসও কৃত্রিম বুদ্ধি সম্পর্কে সাবধান থাকতে বলেছেন।

কৃত্রিম বুদ্ধি জিনিসটা আসলে কী? সেটা হলো মেশিন বা সফটওয়্যারে প্রদর্শিত বুদ্ধি। বিজ্ঞানীরা আজ এমন কম্পিউটার বা কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরির কাজে ব্যস্ত, যা বুদ্ধি দ্বারা চালিত আচরণে সক্ষম। কারো কারো আশঙ্কা, একদিন এমন কম্পিউটার বের হবে যা বুদ্ধির দিক দিয়ে মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে। মানুষের ওপর তখন তা আর নির্ভর করবে না। নিজেরই তখন নিজেদের চালিত করবে। তাই যদি হয় তাহলে ওপরে উল্লিখিত ওই ব্যক্তিদের আশঙ্কা মোটেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। এজন্য পরিস্থিতিটা বিচক্ষণতার সঙ্গে ভাবতে হবে এবং এজন্য প্রথম পদক্ষেপটা হবে কম্পিউটার এখন কী করতে পারে এবং ভবিষ্যতে সম্বাব্য কী কী করতে পারবে তা জানা। কম্পিউটারের প্রসেসিং পাওয়ার বেড়ে যাওয়া এবং ডিজিটাল ডাটার ক্রমবর্ধমান প্রাচুর্যের কারণে কৃত্রিম বুদ্ধির ক্ষমতা অনেক বেড়ে গেছে। মানব মস্তিষ্কের নিউরনের স্তরগুলোর কৃত্রিম রূপ তৈরি করে এবং বিপুল পরিমাণ ডাটা সঙ্কুচিত অবস্থায় এনে কম্পিউটার আজ কিছু কিছু কাজ সম্পাদনের কৌশল নিজেরাই নিজেদের শেখাতে পারে। ফলে প্যাটার্ন চিনতে পারা বা অনুবাদ করা প্রায় মানুষের মতোই তারা করতে পারে। তার ফলে অনেক জিনিস যা একদা মনেরই কাজ বলে পরিগণিত হতো, তা আজ কম্পিউটার প্রোগ্রামের আওতায় চলে এসেছে। যেমন ২০১৪ সালে ফেসবুক ‘ডিপকেস’ নামে এমন এক এলগোরিদম উদ্ভাবনা করেছে, যা ৯৭ শতাংশ সময়ে ব্যক্তির চেহারা চিনতে পারে।

অনুমান করা, বিচার করা, সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো যে কাজগুলো প্রচলিত অর্থে মানুষের বুদ্ধির সঙ্গে সম্পৃক্ত কম্পিউটার এখনও সেই ক্ষমতার ধারেকাছে যেতে পারেনি বটে, তথাপি কৃত্রিম বুদ্ধি মানব জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন আনার মতো ইতোমধ্যে যথেষ্ট শক্তি ও ক্ষমতা করায়ত্ত করছে। মানুষের কিছু পরিপূরক কাজ করে দিচ্ছে কম্পিউটার। দাবার কথাই ধরুন। যে কোন মানুষের চেয়ে কম্পিউটার ভাল দাবা খেলতে পারে। অবশ্য দাবার সেরা খেলোয়াড় এই মেশিন নয়। গ্যারি কাসপারভের ভাষায় সেটা হলো ‘সেন্টাউর’Ñ অর্থাৎ মানুষ ও এলগোরিদমের মিশ্র দল। সকল ধরনের কর্মকা-ের বেলায় এ জাতীয় মিলিত শক্তিই মূল ধারায় পরিণত হবে। কৃত্রিম বুদ্ধির সহায়তায় মেডিক্যাল ইমেজগুলোতে ক্যান্সারের সন্ধান বের করার ক্ষমতা ডাক্তারদের বহুলাংশে বেড়ে যাবে। তেমনি লাখো মানুষের মধ্যে বিশেষ একজনের কণ্ঠস্বর ঠিকই নির্ণয় করা যাবে কম্পিউটারের সাহায্যে। একাডেমিক রিসার্চের কাজকর্ম অনেকগুণে সহজতর হবে। বাস্তব জগত সম্পর্কে নতুন নতুন অজানা তথ্য অতি সহজে ও বিস্ময়করভাবে উন্মোচিত হবে। সবই হবে কৃত্রিম বুদ্ধি তথা বহুগুণ শক্তিশালী কম্পিউটারর সহায়তায়। এখানে মূল ব্যাপারটা হচ্ছে উপযুক্ত এলগোরিদম উদ্ভাবন করা।

কয়েক দশকের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে মানব মস্তিষ্ক সাধারণ এ্যাটম দিয়ে তৈরি একটি মেশিনের অতিরিক্ত কিছু নয় । মেশিন সাধারণ শক্তিগুলোকে কাজে নিয়োগ করে এবং প্রকৃতির সাধারণ নিয়মসূত্র মেনে চলে। এর মধ্যে রহস্যময় কোনকিছু নেই। তাই যদি হয়, তাহলে কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করা কিংবা এমন মেশিন তৈরি করা, যা দেখতে মস্তিষ্ক থেকে আলাদা অথচ মস্তিষ্কের মতো একই কাজ করেÑ এমনটা নীতিগতভাবে সম্ভব। মানুষের মতো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন তেমন মেশিন উদ্ভাবনে গুগল এক ধাপ এগিয়ে গেছে।

চিন্তা বা ভাবনাগুলোকে সঙ্কেতাবদ্ধ করার লক্ষ্যে গুগল এমন এলগোরিদম উদ্ভাবন করেছে, যার ফলে এক দশকের মধ্যে কমনসেন্স বা সাধারণ জ্ঞানবোধসম্পন্ন কম্পিউটার বের করা যাবে। কৃত্রিম বুদ্ধি নিয়ে গবেষণারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী অধ্যাপক জিওফ হিন্টন, যিনি বছর দুয়েক ধরে গুগলের সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তিনি বলেন, এমন কম্পিউটারকে আমাদের বন্ধুদের মধ্যে একজন বলে গণ্য করা যাবে। এমন কম্পিউটারের যুক্তি দিয়ে বিচার-বিবেচনা করার, স্বাভাবিক কথোপকথন করার এমনকি ঠাট্টা মশকরা করার ক্ষমতাও থাকবে। হিন্টন বলেন, বর্তমান সফটওয়্যারের আরও অনেক বিকশিত সংস্করণ বের করা সম্ভব, যার মানুষের মতো বিচার বুদ্ধি বা যুক্তি খাটিয়ে কিছু করার মতো কাছাকাছি ক্ষমতা থাকবে।

সূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৫

২৭/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: