আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সাক্ষ্য বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন খালেদা জিয়া

প্রকাশিত : ২৫ মে ২০১৫, ১১:৫৫ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দুর্নীতির দুই মামলায় গত ৫ মে নেওয়া সাক্ষ্য বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁর অনুপস্থিতে ওইদিন প্রথম সাক্ষীর বিরুদ্ধে দেওয়া সাক্ষ্যগ্রহণ আইনানুগ হয়নি বলে উল্লেখ করে এ আবেদন জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খালেদার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ওই দুই দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে।

সোমবার সকাল দশটা ৩৫ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে সাক্ষ্য বাতিলের আবেদন জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

গত ৫ মে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আংশিক সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদ। সোমবার তার অসমাপ্ত সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিপক্ষের জেরার দিন ধার্য রয়েছে। অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও বাদী ও প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন হারুন-অর-রশিদ। গত ৫ মে দুই আসামির পক্ষে তাকে জেরা শেষ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। সোমবার তাকে অন্য আসামিদের পক্ষে অসমাপ্ত জেরারও দিন ধার্য রয়েছে।

ওইদিন নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজির হননি খালেদা। তার অনুপস্থিতিতে এসব সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা আইনানুগ হয়নি বলে উল্লেখ করে তা বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন খালেদার আইনজীবী।

আদালতের শুরুতেই এ আবেদনের শুনানি চলছে।

এদিকে দুই মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সকাল নয়টা ৫৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হয়ে সকাল দশটা ৫২ মিনিটে বকশিবাজারে আদালতে পৌঁছান খালেদা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাত সাক্ষীর অন্য ছয়জন হচ্ছেন- সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার হারুনুর রশিদ, অফিসার (ক্যাশ) শফিউদ্দিন মিয়া, আবুল খায়ের, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দা নাজমা পারভীন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আফজাল হোসেন। হারুন-অর-রশিদের দুই মামলারই সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হলে এ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামি মোট ছয়জন। খালেদা ছাড়া অন্য পাঁচজন হচ্ছেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। আসামিদের মধ্যে ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক, বাকিরা জামিনে আছেন।

অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান জামিনে আছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।

অন্যদিকে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।

দুই মামলারই বাদী হলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ খান।

প্রকাশিত : ২৫ মে ২০১৫, ১১:৫৫ এ. এম.

২৫/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: