মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ওয়ার্বলারের মহাসাগর পাড়ি

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫

পরিযায়ী পাখিরা একটানা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে থাকে। কখনও কখনও সে পথ হয় হাজার হাজার মাইল। কোথাও না থেমেও তারা দিব্যি অমন দূরত্ব পাড়ি দিতে পারে। কিন্তু চিন্তা করুন ব্ল্যাকপোল ওয়ার্বলার নামে এক জাতের গায়ক পাখির কথা। পাখিটা এত ছোট যে হাতের তালুতে সহজেই ধারণ করা যায়। ওজন মাত্র ১২ গ্রাম। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধ ডলার মুদ্রার চেয়ে সামান্য কিছু বেশি। এমন ছোট ও হাল্কা ওজনের একটা পাখি উত্তর আমেরিকা থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকায় চলে যেতে পারে কোথাও না থেমে।

ব্ল্যাকপোল ওয়ার্বলারের বাস উত্তর আমেরিকার আর্কটিক সন্নিহিত চিরসবুজ বনভূমি। প্রতি বছর শরতে তারা পেটপুরে খেয়েদেয়ে শরীরে প্রচুর চর্বি জমা করে। যাতে শীত নামার সময় তারা কানাডা থেকে যাত্রা করে সমুদ্রের ওপর দিয়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপমালায় পৌঁছতে পারে। পক্ষী বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের ধারণা ছিল, পাখিটি সরাসরি আটলান্টিকের ওপর দিয়েই ক্যারিবিয়ানে যায় এবং এমন যাত্রা করার ক্ষমতা তাদের আছে। কিন্তু অপর বিশেষজ্ঞরা এতটা নিশ্চিত ছিলেন না। তাদের ধারণাও অমন যে ছোট ও হাল্কা ওজনের পাখি ওরা এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার ক্ষমতা কোথায় পাবে? সেই শক্তিই বা কোথায় তাদের। এই বিশেষজ্ঞদের আরও ধারণা, পাখিটি স্থলভাগের ওপর দিয়ে উড়ে দক্ষিণে আসে। বসন্তে আবার উত্তরে ফিরে যাবার সময় এই স্থলভাগের পথটাই তারা ব্যবহার করে থাকে।

সত্যি আসলে কোনটা, বিশেষজ্ঞদের কাছে তা একটা ধাঁধাই থেকে গিয়েছিল। দু’বছর আগে গবেষকরা এই রহস্যের সমাধানের একটা সুযোগ পেয়ে যান। সে সময় ১০ সেন্টের রৌপ্য মুদ্রার সমান একটা যন্ত্র বেরিয়েছিল, যার নাম ‘জিওলোকেটর’। যন্ত্রটি একই সঙ্গে দিনের আলো এবং সময়ের উপাত্ত রেকর্ড করে রাখতে পারে। এই যন্ত্রের সহায়তায় গবেষকদের পক্ষে পাখিটির সম্ভাব্য পথের হদিস বের করা সম্ভব হয়ে ওঠে। ২০১৩ সালে একটি আমেরিকান ও একটি কানাডীয় টিম প্রায় ২০টি ব্ল্যাকপোল ওয়ার্বলারের গায়ে জিওলোকেটর লাগিয়ে ছেড়ে দেন। দুটো দলেই আলাদা আলাদাভাবে কাজ করে। এক বছর পর আমেরিকান দলটি জিওলোকেটর লাগানো তিনটি পাখি এবং কানাডীয় দলটি ২টি পাখি পুনরায় ধরে ফেলে। গবেষকরা লক্ষ্য করেন যে, পাখিগুলো প্রকৃতই সমুদ্রের ওপর ২২৭০ থেকে ২৭৭০ কিলোমিটার পথ উড়ে গেছে। পাখিদের হিসপানিওলা অথবা পয়ের্টোরিকো পৌঁছাতে ২/৩ দিন লেগে যায়। এই দুই স্থান হলো ভেনিজুয়েলা ও তার কাছাকাছি জায়গায় পৌঁছার বিরতিস্থল। ব্ল্যাকপোল ওয়ার্বলারের মতো এত ছোট ও হাল্কা ওজনের একটা পাখির পক্ষে একটানা এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া অসাধারণ ব্যাপার বলে গবেষকরা মন্তব্য করেছেন। তবে তাঁরা বলছেন যে, এর চেয়েও ছোট পাখি, যার নাম লাল ঠোঁটওলা হামিংবার্ড এবং যা ওয়ার্বলারের সাইজের তিন ভাগের একভাগ, সেটিও শেষ পর্যন্ত ওয়ার্বলারের এই রেকর্ড ভাঙ্গার ক্ষমতা রাখে। তবে সমস্যা হলো, গাবেষকরা এখনও হামিংবার্ডের দেশান্তর যাত্রা হদিস বের করতে পারেনি। কারণ সেই হদিস বের করার যে যন্ত্র, সেই জিওলোকেটর এতই বড় যে হামিংবার্ডের গায়ে লাগনো সম্ভব নয়।

সূত্র : বার্ড সায়েন্স

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫

০৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: