আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সিটি নির্বাচন ॥ রাজনীতি কি স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে?

প্রকাশিত : ৩ মে ২০১৫
  • চিন্তাভাবনা পুলিশে

শংকর কুমার দে ॥ দেশব্যাপী পেট্রোলবোমার সহিংস সন্ত্রাসের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ও স্বস্তির নিশ্বাস ফিরিয়ে এনে দিয়েছে তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠান।

সরকার কৌশলে তিন সিটি নির্বাচন দিয়ে বিএনপিকে কুপোকাত করার নীতি গ্রহণ করে শক্ত হাতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে। এতে রাজনীতির অঙ্গনে দুর্যোগের ঘনঘটা কেটে গিয়ে আবারও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসার আলোর আভা উঁকি দিতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ক্লান্তির অবসান ঘটিয়ে ছুটির আমেজ নিয়ে এসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে। পুলিশের উচ্চ পর্যায় ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলাপ করে এই ধরনের খবর পাওয়া গেছে।

সূত্র জানান, ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রামের সিটি নির্বাচনের সময়ে এবং নির্বাচনোত্তর যে সহিংস সন্ত্রাসের ঘটনার আশঙ্কা ছিল তা কেটে গেছে। তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলে আসছিল পেট্রোলবোমার সহিংস সন্ত্রাসের তা-বলীলা। এই সহিংস সন্ত্রাসের মধ্যেই তিন সিটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে এক দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেয় সরকার।

বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবার নির্বাচন শুরুর মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই তা বর্জন করার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে শক্ত হাতে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে তিন সিটি নির্বাচন রক্তপাতহীন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হওয়ায় রাজনীতির অঙ্গনে শান্তির সুবাতাস বয়ে আনতে সাহায্য করেছে।

সূত্র জানান, গত ৫ জানুয়ারি থেকে তিন মাস ধরে পেট্রোলবোমার সহিংস সন্ত্রাস চালিয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, দৈনন্দিন জীবনযাপনে অচলাবস্থার সৃষ্টি করে চলেছিল বিএনপি। তারও আগে যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধ, বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের তা-বলীলা চালিয়েছে জামায়াত-শিবির। তারপর দশম জাতীয় সংসদের বছর পূর্তির দিন ৫ জানুয়ারি থেকে টানা তিন মাস বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ-হরতালের নামে পেট্রোলবোমার সহিংস সন্ত্রাসের মধ্যেই ঘোষণা করা হয় তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে তিন সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার বিষয়টি ছিল একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। আশঙ্কা করা হয়েছিল তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কেন্দ্র করে যে কোন অজুহাতেই হোক আবার সহিংস সন্ত্রাসের ঘটনায় ফিরে যেতে হরতালসহ সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচী দিতে পারে বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। কিন্তু তারা এই ধরনের কর্মসূচী গ্রহণের আগেই সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনোত্তর সহিংসতার আশঙ্কায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সতর্ক করে দেয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি ঘটাতে না পারে সেই চ্যালেঞ্জ শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছে সরকার।

পুলিশ সদর দফতরের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, বিগত প্রায় চার মাস ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ছুটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রায় চার মাস ধরে টানা সহিংস সন্ত্রাস মোকাবেলায় পালাক্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। পরিবার পরিজনের সঙ্গে মিলিত হতে পারেননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এখন তারা আবার পরিবার পরিজনের সঙ্গে ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে সহিংস সন্ত্রাসের যাত্রা শুরু করে জামায়াত-শিবির। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধের দাবিতে সহিংস আন্দোলন, জামায়াত-শিবিরের তা-বের পর আবারও টানা সহিংস সন্ত্রাসের তা-বলীলা অব্যাহত থাকে। টানা তিন মাসের পেট্রোলবোমার সহিংস সন্ত্রাসের ঘটনায় দেড় শতাধিক মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাসহ বহু লোককে আহত, পঙ্গু করে অর্থনৈতিক অবস্থাসহ জনজীবনে অচলাবস্থার সৃষ্টি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে জনজীবেন শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য তিন মাসের বেশি সময় ধরে ময়দানে রাখা হয় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলাপ হলে তারা জানান, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত প্রায় এক বছরে মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক বহু সঙ্কট ও ইস্যু এসেছে। কিন্তু প্রত্যেকটি সঙ্কট ও ইস্যু সরকার চ্যালেঞ্জ নিয়ে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। সরকারের পতন না ঘটিয়ে বাড়ি ফিরে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান দলীয় কার্যালয়ে তিন মাস অবস্থান, আবার আকস্মিক প্রত্যাবর্তন, তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ, বর্জন নানা ধরনের নাটকীয় ঘটনা ঘটে গেছে। বিএনপির ঘোষিত বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে না যাওয়া এবং স্থানীয় সরকারের তিন সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সরকারের কৌশলের কাছে হেরে গেছে এবং নৈতিক পরাজয় হয়েছে বিএনপির। এখন বিএনপি চাইলেও সরকারের বিরুদ্ধে সহজে ব্যাপক আকারের বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে বলে মনে হয় না। সরকারকে টলটলায়মান অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পর এখন আবার সরকার আরও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে চলে এসেছে। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শান্তির সুবাতাস বয়ে এনেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। জনমনে ফিরে এসেছে শান্তি ও স্বস্তির নিশ্বাস। তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সরকারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ফিরে এসেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রকাশিত : ৩ মে ২০১৫

০৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: