মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত মেয়র প্রার্থীদের ॥ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এখন চলছে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের শেষ সময়ের প্রচার কাজ। শনিবার বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও নগরীর অলিগলিতে গণসংযোগ চালান প্রার্থীরা। তারা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। বিশেষ করে মেয়র প্রার্থীরা বিজয়ী হলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন ভোটারদের কাছে। একেক প্রার্থী একেক স্লোগান নিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সফলতা ও ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে পাল্টাপাল্টি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে সহিংসতার বিরুদ্ধে ও উন্নয়নের পক্ষে বক্তব্য আসে প্রার্থীদের মুখ থেকে। আজ রবিবার রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে প্রচারণ। ফলে প্রার্থীরা এখন ছুটে চলেছেন বিরামহীন। গণসংযোগকালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, নির্বাচিত হলে উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামের চেহারা পাল্টে দেব। অপরদিকে, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম বলেন, কমলা লেবুর পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয় ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন শনিবার গণসংযোগ করেন নগরীর জালাবাদ ওয়ার্ড ও আগ্রাবাদের বিভিন্ন এলাকায়। এদিন তিনি একাধিক মতবিনিময় সভায়ও অংশগ্রহণ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউনুস গনি চৌধুরী, সাদ মুসা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ মহসিন এবং স্থানীয় নেতারা। সকালে নগরীর জালালাবাদ এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানায় গণসংযোগ চালান আ জ ম নাছির। এ সময় কুশল বিনিময় ও ভোট প্রার্থনা করেন। মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি পোশাক শ্রমিকদের জন্য আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া কর্পোরেশনের উদ্যোগে শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য সিটি সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের কর্মকা-ের সমালোচনা করে আ জ ম নাছির বলেন, তিনি চট্টগ্রামকে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করেছেন। সুন্দর এ নগরীকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনকে যে বরাদ্দ দিয়েছিলেন তা তিনি সঠিকভাবে উন্নয়ন কাজে ব্যবহারে ব্যর্থ হয়েছেন। আমি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী। চট্টগ্রামকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর মহাপরিকল্পনা রয়েছে। মেয়র নির্বাচিত হলে সরকারের সহায়তা নিয়ে বন্দরনগরীর চেহারা পাল্টে দেব। তিনি আরও বলেন, আগের সতেরো বছরের মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামকে হেলদি সিটিতে পরিণত করেছিলেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম শহর এক অন্যরকম উচ্চতায় উপনীত হয়েছিল। কিন্তু সে ধারাবাহিকতা মনজুর আলম রক্ষা করতে পারেননি। বরং চট্টগ্রামকে পিছিয়ে দিয়েছেন। মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি বন্দরনগরীকে মেগাসিটিতে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করে হাতি প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলম শনিবার গণসংযোগ করেন নগরীর দেওয়ানবাজার ও আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায়। এ সময় তিনি বলেন, অনেকেই সমাজসেবার নাম করে সমাজের সহজ সরল মানুষদের ধোকা দেয়। তবে জনগণ এখন অনেক সচেতন। মিথ্যা, অপপ্রচার আর ধোঁকাবাজির মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার দিন শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আশা করি নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেবে। ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারলে কমলালেবুর বিজয় কোন অপশক্তি ঠেকাতে পারবে না।

সদ্য সাবেক এই মেয়র বলেন, কমলালেবুর পক্ষে গণজোয়ার দেখে সরকারী দলের লোকজনের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাই তারা নানা ধরনের গুজব রটাচ্ছে। তিনি এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে ২৮ এপ্রিল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

মনজুর আলম শনিবার সকালে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে নগরীর দেওয়ানবাজার দিদার মার্কেটের সামনে থেকে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেন। এর পর ঘাটফরহাদবেগ, খলিফাপট্টি, কোরবানীগঞ্জ, লামার বাজার, বউবাজার, টেরিবাজার, মাজার রোড, জেল রোড, পাথরঘাটা এলাকায় গণসংযোগ করেন এবং এলাকবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সামশুল আলম, মোঃ হারুন জামান, স্বপন, আলাউদ্দিন, মিলন, আবুল বশর, মদিনা বিএনপির সেক্রেটারি আলতাফ হোসেন, আলাউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫

২৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: