কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বিলিওনিয়র হওয়ার সৃজনশীল উপায়

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫
  • আরিফুর সবুজ

প্রতিটি মানুষই স্বতন্ত্র। তাই বলে কী মানুষের মাঝে কোন মিল থাকবে না, এমন নয়। মানুষে মানুষে অনেক জায়গায়েই মিল আছে, অমিলও আছে। সফল মানুষদের মাঝে যেমন বেশ কিছু ক্ষেত্রে মিল-অমিল খুঁজে পাওয়া যায়, তেমনি ব্যর্থ মানুষের মাঝেও মিল-অমিল খুঁজে পাওয়া যায়। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষের মাঝে মিল-অমিল খুঁজে পাওয়া যাবে। দিনকে দিন তরুণ বিলিওনিয়ার মিলিওনিয়ার সংখ্যা বেড়ে চলছে। আর এদের মধ্যে বেশ কিছু জায়গায় মিল খুঁজে পেয়েছেন গেমস চ্যাঞ্জারস এ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পিটার ভুগড। তিনি নিজেও মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে মিলিওনিয়ার হয়েছিলেন। পিটার ভুগড তরুণ মিলিয়নরদের মাঝে যে মিলগুলো খুঁজে পেয়েছেন, সেগুলোর আলোকে তিনি আগামী প্রজন্মে অর্থকড়ি আয় করার জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। সেই পরামর্শের আলোকেই আজকের আয়োজন।

তাগিদ ও তাড়না না পেলে কিছু হবে না

অনেকে সারাজীবন ধরে চেষ্টা করেও মিলিয়ন তো দূরে থাকুক, লাখ টাকারই মুখ দেখতে পারে না। আর ত্রিশ বছর বয়সেই অনেক তরুণ-তরুণী বিশ্বের সেরা বিলিয়নর, মিলিয়নরের তালিকায় উঠে যাচ্ছে। লটারির ভাগ্যে যে এরা কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামাচ্ছে, এমন নয়। এরা টাকা কামাতে পারছে নিজের মধ্যকার তাগিদ ও তাড়নার কারণে। এত অল্প বয়সে যারা টাকার মালিক হচ্ছে, তারা নিজেরা ছোটবেলা থেকেই বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখত। সেই স্বপ্ন পূরণে তারা কাজ করে গেছে। হেলাফেলায় সময় নষ্ট করেনি। ভবিষ্যতে সুযোগ আসবে, এমন আশা নিয়ে তারা বসে বসে দিবাস্বপ্ন না বুনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে যখন থেকে স্বপ্ন দেখছে তখন থেকেই। ভুগড মনে করেন, সফল হওয়ার চাবিকাঠি আছে নিজের মধ্যে ভাল কিছু করার তাগিদের মধ্যেই। তিনি বলেন, ‘যদি আপনি কোটিপতি হতে চান, তবে আপনাকে অলস হলে চলবে না কিংবা সামনে সুযোগ আসতে পারে সে আশায় দিন গুজরান করলে হবে না। আপনাকে আপনার তাগিদ ও তাড়না অনুযায়ী ত্বরিত কাজে নেমে পড়তে হবে।’

বিজ্ঞ পরামর্শক ছাড়া ভুল হতেই পারে

তরুণ বয়সে ভুল করাই স্বাভাবিক। থর্নডাইকের ‘ট্রায়াল এ্যান্ড এরর’ তথ্যে বলা হয়েছে, মানুষ ভুল করতে করতেই শেখে। ভুল থেকেই মানুষ সবচেয়ে ভাল শিখতে পারে। আরেকটি সত্য হলো মানুষ ঠেকে শিখে। তরুণদেরই জীবনে ভুল করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তারা জীবন সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না। ফলে কাজকর্মে ভুল হতেই পারে। কিন্তু ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে একটি ভুল একদম লালবাতি জালিয়ে দিতে পারে। তাই এখানে সদা সর্তক থাকতে হয়। এক্ষেত্রে বিজ্ঞ পরামর্শক দরকার। যে কিনা তাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের ভুলগুলো ধরিয়ে দেবে। এবং সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন ভুগড। যেসব তরুণ-তরুণী মিলিয়নর হয়েছে তাদের বেশির ভাগেরই সাফল্যের পেছনে একজন বিজ্ঞ পরামর্শক কাজ করেছেন বলে ভুগডের ধারণা। তিনি আরও বলেন, ‘একজন বিজ্ঞ পরামর্শক তরুণ উদ্যোক্তাদের ভুল শুধরেই শুধু দেন না, তাদের চিন্তার জগতকেও প্রসারণ ঘটান এবং সঠিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেন।’

সময় গেলে সাধন হবে না

সময়ই অর্থ। সময় নষ্ট করা মানে অর্থ নষ্ট করা। সময়কে তাই কাজে লাগাতে হবে অর্থ আয়ের কাজে। তবে চাকরি করে এত অল্প বয়সে মিলিয়নর হওয়া বেশ কঠিনই বলে মনে করেন ভুগড। আটটা-চারটা কিংবা নয়টা-পাঁচটা অফিস করে মিলিয়নর হওয়া অনেকটাই অসম্ভব। মিলিয়নর হতে হলে সৃজনশীল কিছু কিংবা ব্যবসায় করতে হবে। আর এতে দিতে হবে পর্যাপ্ত সময়। তরুণ মিলিয়নদের মধ্যে দেখা গেছে, এদের সবাই কোন না কোন সৃজনশীল কাজের মাধ্যেমে কিংবা ব্যবসায়ের মাধ্যমে মিলিয়নর হয়েছেন। বর্তমান যুগে অধিকাংশ তরুণই ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে কিংবা অভিনব কোন ব্যবসায়ের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ আয় করছেন। এজন্য এদের প্রচুর সময় দিতে হয়েছে। নিজের প্যাশনের পেছনে প্রচুর সময় দিয়েই তারা আজকের অবস্থানে এসেছেন বলে জানিয়েছেন ভুগড। তাই অল্প বয়সেই টাকা পয়সা কামাতে হলে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে কাজে। সময় নষ্ট করা যাবে না। সময় ফুরালে সাধন হবে না গো। সাধন হবে না।

অন্যরা কী ভাবল, তা নিয়ে ভাবার সময় নেই

পাছে লোকে কিছু বলে, এই ভাবনাতেই কিছু করা হলো না। সারাবিশ্বের কোটি কোটি মানুষের এই ভাবনা। আর এই ভাবনাই তাদের জন্য কাল। ভুগড বলেন, ‘যারা কোন কাজ করতে গিয়ে অন্যরা কী ভাববে চিন্তা করে কাজ করে না, সাফল্য তাদের জন্য নয়। তরুণ মিলিয়নররা মানুষের সমর্থনের পেছনে ঘুরে সময় নষ্ট করে না। কে কী ভাবল, তা নিয়ে পড়ে থাকলে তাদের আর এগিয়ে যাওয়া লাগত না।’ সত্যিই তাই। পৃথিবীতে যারা সফল, তাদের জীবনী পড়তে গেলেই দেখা যায়, লোকে তাদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করত, পাগল ভাবত। কিন্তু তারা মানুষের কথাকে মাথায় না নিয়ে নিজেদের কাজ করে গেছেন। তাদের কীর্তির জন্য এখনও মানুষ তাদের স্মরণ করে। আর যারা হাসি-ঠাট্টা করত, তারা কিন্তু মহাকালের ভেলায় হারিয়ে গেছে। তাই কে কী বলল, সেদিকে কর্ণপাত না করে নিজের কাজ করে যেতে হবে, যেমন করে গেছে আজকের যুগের তরুণ মিলিয়নররা। এখানে আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘ওল্ড ম্যান্ড এ্যান্ড দ্য সি’র বুড়ো সান্তিয়াগোর সেই বিখ্যাত ডায়ালগ, ‘হু কেয়ারস হু’-ই যথার্থ।

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫

২১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: