মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

নবীন ভোটারের চোখে জনপ্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫
  • অঞ্জন আচার্য

শায়লা শারমিন ঈশিতা

কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং স্টেট, ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ, ঢাকা

এবার প্রথম ভোট দেব আমি। বেশ সম্মানিত বোধ করছি। দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আমার মতামত নেয়া হচ্ছে। মূলত আমি ঢাকা উত্তরের ভোটার। সেক্ষেত্রে অবশ্যই একজন কর্মঠ, উচ্ছল, দায়িত্বশীল প্রার্থী খুঁজব আমার মূল্যবান ভোটের প্রাপক হিসেবে। ঢাকা উত্তর বা দক্ষিণ বলি, আমাদের একটি ভয়াবহ সমস্যা হলো যানজট। তার পরেই আসবে নোংরা ময়লা আবর্জনার কথা। কখনও ওয়াসা রাস্তা খুঁড়ছে, তো কখনও ডেসা। কখনও এলাকাবাসী যেখানে সেখানে ইচ্ছে মতো ময়লা ফেলছে তো কখনও ময়লার গাড়ি উপচেপড়া ময়লা ছড়াতে ছড়াতে যাচ্ছে। সমস্ত কিছু নির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনার আওতায় নেই, বরং কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদা কাজ করে যাওয়ায় বিশৃঙ্খলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে উন্নয়ন! তাই বলতে চাই, পুরনো নিয়ম ভেঙে বর্তমান প্রার্থীরা যেন একটু নতুনভাবে ভাবেন। তারা যেন শুধুমাত্র ভোট চাইতেই মানুষের দ্বারে দ্বারে না যান। এক্ষেত্রে তাদের প্রতি আমার চাওয়াটা এমন যে, তারা বা তিনি প্রথমে এলাকাভিত্তিক সমস্যাগুলোকে খুঁজে নিয়ে তালিকাভুক্ত করবেন। অন্তত প্রতি দু’মাস অন্তর এলাকাবাসীর কাছে যাবেন। আর তাদের তালিকা কতটুকু ছোট হলো বা নতুন সংযোজন কি, সে ব্যাপারে সবাইকে অবহিত করবেন। প্রকৃতপক্ষে একজন ভোটার হিসেবে, বিশেষ করে প্রথম ভোটার হিসেবে আমি অবশ্যই আমার মতামত দেবার এই মাধ্যমকে অনেক বেশি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি।

অমিত আচার্য হিমেল

অনার্স তৃতীয় বর্ষ, গণিত বিভাগ

ঢাকা কলেজ, ঢাকা

প্রথম ভোটার হওয়ার অনুভূতি সত্যিই অতুলনীয়। দেশ পরিচালনায় যারা ভূমিকা রাখেন তাদের বাছাই করার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র অবদান রাখতে পারার এ সুযোগ পাওয়াটা সত্যিই আনন্দের। এখন নিজেকে দেশের একজন পরিপূর্ণ নাগরিক হিসেবে মনে হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন কাজে ভোটার আইডি কার্ড প্রয়োজন পড়ে। সেটি প্রথম যখন হাতে পাই, ভীষণ ভাল লেগেছিল। এখন আসা যাক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভোটার আমি। আমার প্রত্যাশা, প্রগতিশীল চিন্তাভাবনার মানুষ এবং ভোটের আগে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি যিনি রক্ষা করতে জানেনÑ এমন নগরপিতাই আমি চাই। আমার মতে, যে মানুষ সত্যিকার অর্থে দেশের জন্য নিবেদিত এবং দেশের চরম সঙ্কটময় পরিস্থিতিতেও নিজের জীবনকে বিপন্ন করতে কুণ্ঠা বোধ করেন না, তিনিই আমার পছন্দ। তাছাড়া সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে যে দাঁড়ায় অবলীলায়, এমন মানুষকেই আমি জয়ী দেখতে চাই আসছে নির্বাচনে। একই সঙ্গে বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, যেমন : ট্রাফিক জ্যাম, বিশুদ্ধ পানির অভাব, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থার অভাব ইত্যাদি দূরীকরণে যিনি নিজ স্বার্থ ত্যাগ করে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন এবং প্রকৃতপক্ষে যিনি একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, মানবতাবাদী, শুদ্ধ মনের মানুষÑ আমি তাকেই ভোট দেব। আমি মনে করি, এমন মানুষই মেয়র হওয়ার যোগ্যতা রাখেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর হওয়ার যোগ্য।

অংকন শ্রেষ্ঠা

বিএ অনার্স, ইংরেজী বিভাগ

চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম

বেশ কয়েক বছর আগে ভোটার হলেও এবারই প্রথম ভোট দিতে যাব। মাঝখানে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবার সুযোগ পাইনি। আর তাই প্রথমবারের উত্তেজনা তো একটু আছেই। পাশাপাশি নিজেকে কেমন জানি অনেক বেশি দায়িত্ববান কেউ মনে হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিনের প্রচারণায় বিভিন্ন প্রার্থীরা যখন ভোট চেয়ে অনুরোধ জানাচ্ছেন। মনে হচ্ছে আমি অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ কেউ। ভোটাধিকার প্রয়োগের এই সুযোগটা মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছি না। মেয়র, কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে চিন্তা করেই নিজের মতামতটা জানাতে চাই। তারুণ্যের প্রতি আগ্রহটা থাকবে স্বাভাবিকভাবেই। এছাড়া যিনি তরুণদের গুরুত্ব দেবেন, তরুণদের ইচ্ছাগুলোকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার কথা দেবেন বা যার মধ্যে তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সঠিক যোগ্যতা থাকবে তাঁকেই বেছে নেব। আর চট্টগ্রামের স্থানীয় সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রধান জলাবদ্ধতা। ইশতেহারে বা প্রতিশ্রুতিতে যিনি এই সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে বাস্তবিক দিকটা তুলে ধরবেন, তাঁর প্রতিই দুর্বলতাটা বেশি থাকবে। আর চিহ্নিত দুর্নীতিবাজকে প্রত্যাখ্যান করব স্বভাবতই।

এইচএম নজরুল ইসলাম সুজন

আইন বিভাগ (প্রথম বর্ষ), তৃতীয় সেমিস্টার

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা

এই বছর আমি নতুন ভোটার হয়েছি। তাই অনেক উত্তেজনা বিরাজ করছে মনের মধ্যে। আমার প্রাণের এই ঢাকা শহরে আর আবর্জনার স্তূপ থাকবে না, থাকবে না জলাবদ্ধতা, রাস্তায় থাকবে না যানজট আর অন্ধকারে ঘটবে না আর দুর্ঘটনা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে খুঁজে বেড়াচ্ছি আমার সেই মনের মতো মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীকে, যে কিনা আমার মতো কোটি রাজধানীবাসীর আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে সচেষ্ট থাকবে। আমি ঢাকা দক্ষিণের একজন ভোটার হিসেবে প্রথমেই একজন ভাল মেয়র চাইব, যে কিনা তার দলীয় প্রভাব হতে বের হয়ে দুর্নীতিমুক্ত একটি সিটি কর্পোরেশন গঠন করবে এবং বলিষ্ঠ ও শক্ত হাতে পরিচালিত করবে এই মহানগরীকে। যে পরিকল্পিতভাবে ঢাকার আবর্জনা, জলাবদ্ধতা, অন্ধকারের জন্য বাতি, নারীদের ও ঢাকার নিরাপত্তা, যানজট, বিদ্যুত, গ্যাস, নিরাপদ পানির সরবরাহের সমস্যা নিরূপণ ও সমাধান নিশ্চিত করবে। আর এলাকার কাউন্সিলররা এলাকার সমস্যা নির্ধারণ করে তা তুলে ধরবে মেয়রের কাছে এবং সমস্যা সমাধানে তাগিদের মাধ্যমে দ্রুত এলাকার উন্নয়ন ঘটাবেন।

ইনজামাম উল হক নাভীন

বিবিএ (প্রথম বর্ষ)

সরকারী কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম

প্রথমবার ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়ে ভোটের দিনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। অনুভূতিটা খুবই ভাল। তবে প্রার্থী বেছে নিতে অবশ্যই তরুণ কাউকেই বেছে নেব। রাজনৈতিক আচরণ ভাল, ভদ্র প্রার্থীর প্রতি দুর্বলতা থাকবে অবশ্যই। এছাড়া তরুণদের প্রতি যিনি অনেক বেশি মনোযোগী, তরুণদের সঙ্গে যাঁর সম্পৃক্ততা বেশি, আধুনিক প্রযুক্তির সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখেন এমন কাউকে ভোট দেব। এছাড়া নগরীতে এখন বিলবোর্ডের জন্য সবুজ দেখা যায় না। যত্রতত্র ময়লা, খেলার মাঠগুলো খুবই বেহাল। তিলোত্তমা চট্টগ্রামের পথে পথে এখন ধুলোর আস্তরণ। পাহাড়গুলোও ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। কর্ণফুলীও দখলে ও দূষণে বিপর্যস্ত। এসব থেকে আমাদের মুক্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেবেন যিনি, তাঁকেও এগিয়ে রাখব।

সাদ্দাম হোসেন

শিক্ষার্থী, সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয়

কলেজ, ঢাকা

প্রথম ভোটার হওয়ার যে কি আনন্দ, তা বলে বোঝাতে পারব না। নিজেকে অনেক বড় বড় লাগছে। এবারের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেই প্রথম ভোট দেব। এ নিয়ে আমার উত্তেজনার শেষ নেই। অপ্রিয় হলেও সত্য, বিশ্বের বাস-অযোগ্য নগরীগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম। আমি চাই এমন একজন মেয়র যে আমাদের এ অপবাদ থেকে মুক্তি দেবেন। মেয়রকে অবশ্যই হতে হবে শিক্ষিত, মার্জিত, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ। যে কিনা সবসময় আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন। আর মাদক এবং সন্ত্রাস নির্মূলে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫

২১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: