কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বড় দুই দলে ॥ বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

এমদাদুল হক তুহিন ॥ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নং ওয়ার্ডে নাগরিক সমস্যার অন্ত নেই। জলাবদ্ধতা, গ্যাস-পানি-বিদ্যুত সঙ্কট ছাড়াও কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠের অপর্যাপ্ততা রয়েছে। ওয়ার্ডটিতে বাল্যবিবাহের মতো কুসংস্কারও রয়েছে। ঋষিপাড়ায় এই মাত্রা অত্যাধিক। তবে ঢাকা দক্ষিণের ২৫, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ডের অন্য দুটিতে নাগরিক সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম। তিন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ২৩ জন। বিএনপির প্রার্থীরা ভোটযুদ্ধের লড়াইয়ে নেমেও অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি উভয় দলে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। তাদের অধিকাংশই স্থানীয় সংসদ সদস্য সমর্থিত প্রার্থী। প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে টানার সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন।

ওয়ার্ড ২৫ ॥ ঢাকা দক্ষিণের নবনির্ধারিত ২৫ নং ওয়ার্ডটি পূর্বে ৬১ নং ওয়ার্ড নামে পরিচিত ছিল। কাজী রিয়াজ উদ্দিন রোড, পুষ্পরাজ সাহা লেন, আতশখানা লেন, রাজা শ্রীনাথ স্ট্রিট, হরমোহন শীল স্ট্রিট, শেখ সাহেব বাজার, গঙ্গারাম বাজার লেন, নগর বেলতুলি লেন, সুবল দাস রোড, জগন্নাথ সাহা রোড এলাকা নিয়ে অত্যন্ত অবহেলিত এই ওয়ার্ডটি গঠিত। ২০ হাজার ৭৬ ভোটের বিপরীতে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৪ জন। আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন পেয়েছেন হাজী মোঃ দেলোয়ার হোসেন (লাটিম), একই দল থেকে বিদ্রোহী হয়ে লড়ছেন হাজী সেলিম সমর্থিত মোঃ মনির হোসেন (ঘুড়ি), বিএনপি থেকে সমর্থন পেয়েছেন হাজী আলতাফ হোসেন (রেডিও) এবং স্বতন্ত্র পরিচয়ে হাজী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ (ঝুড়ি)।

সমাজ ব্যবস্থার দিক দিয়ে অনুন্নত এ ওয়ার্ডটিতে জলাবদ্ধতা, গ্যাস-পানি-বিদ্যুত সঙ্কট, কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠের অপর্যাপ্ততাসহ নাগরিক সমস্যার অন্ত নেই। অত্যন্ত ঘিঞ্জিপূর্ণ ওয়ার্ডটিতে যানজট, যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুন্নত, বাল্যবিবাহের মতো কুসংস্কারের প্রচলন রয়েছে। ঋষিপাড়ার বাসিন্দা অজিত কুমার দাস জনকণ্ঠকে বলেন, এলাকায় প্রায়ই ওয়াসার পানির সঙ্কট দেখা দেয়, এছাড়া পানিতে দুর্গন্ধতো আছেই। ওই পানিতে গোসল করলে চোখ জ্বলে।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হাজী মোঃ দেলোয়ার হোসেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও শিক্ষার মান খুবই অনুন্নত, রাস্তাঘাট এবড়ো-থেবড়ো, ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। আমি নির্বাচিত হলে সকল নাগরিক সমস্যা সমাধানে নিজেকে নিয়োজিত করব। আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ মনির হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, নির্বাচিত হলে পানির পাম্প, শিশু হাসপাতাল ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করব। এলাকার বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ওয়ার্ড ২৬ ॥ দক্ষিণের ২৬ নং ওয়ার্ডটি পূর্বে ৬২ নং ওয়ার্ড নামে পরিচিত। রসুলবাগ, আজিমপুর রোড, বটতলা, বিসি দাস স্ট্রিট, লালবাগ রোড, আজিমপুর সরকারী কলোনি, পলাশী সরকারী কলোনি ও ঢাকেশ্বরী রোড এলাকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ ওয়ার্ডটি গঠিত। ২৮ হাজার ৫০০ ভোটারের বিপরীতে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৮ জন। অওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন পেয়েছেন মোঃ ওসমান গনি (লাটিম), বিএনপি থেকে মীর অশরাফ আলী আজম (মিষ্টি কুমড়া)। বিরোধীদল জাতীয় পার্টির হয়ে লড়ছেন মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম (ঠেলাগাড়ি)। আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহী হয়ে লড়ছেন আলহাজ মোঃ হাসিবুর রহমান (রেডিও), মোঃ সেলিম খান (ঘুড়ি)। জানা যায়, সেলিম খান এলাকায় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী হিসাবে পরিচিত। বিএনপি থেকে বিদ্রোহী হয়ে লড়ছেন বদিউল আলম সুইট (ঝুড়ি)। মতিউর রহমান জালাল (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট) ও মতিউর রহমান মিনারের (টিফিন ক্যারিয়ার) দলীয় কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। নাগরিক সমস্যার মধ্যে যানজট, অবৈধ গাড়ি পার্কিং, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতাই মূল সমস্যা। এছাড়া জলাবদ্ধতা, গ্যাস ও পানির সঙ্কট অন্যান্য এলাকার মতোই।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোঃ ওসমান গনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এলাকার সকল নাগরিক সমস্যা সমাধানে কাজ করব। বিশেষ করে যানজট সমস্যা নিরসনে বিশেষ পদক্ষেপ নেব। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার রাস্তাঘাটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ ও অবৈধ গাড়ি পার্কিং বন্ধ করে এলকার সর্বাত্মক উন্নয়নের চেষ্টা করব। অপর প্রার্থী মোঃ সেলিম খান বলেন, মাদক-সন্ত্রাস দূর করে এলাকার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার লক্ষ্যে প্রাচ্যের মডেল অনুসরণ করব। শিক্ষার মানোন্নয়নে ছেলেদের জন্যে আলাদা স্কুল নির্মাণের ইচ্ছা আছে।

ওয়ার্ড ২৭ ॥ দক্ষিণের ২৭ নং ওয়ার্ডটি ৬৩ নং ওয়ার্ড নামে পরিচিত ছিল। আওতাধীন এলাকাগুলোর হলো হোসনী দালান, বকশিবাজার, নাজিমউদ্দিন রোড, বকশিবাজার লেন, নবাববাগিচা, নূর ফাতাহ লেন, জয়নেক রোড, বুয়েট স্টাফ কোয়ার্টার, তাঁতখান, খাজে দেওয়ান, আমলাপাড়া, ঢাকেশ্বরী ও গির্দা উর্দু রোড। ১৭ হাজার ৩৭১ ভোটের বিপরীতে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ১১ জন। আওয়ামী লীগের সমর্থনে ওমর-বিন-আব্দাল-অজিজ (মিষ্টি কুমড়া), বিএনপির শাহিদা মোর্শেদ (লাটিম), জাতীয় পার্টি থেকে মোঃ মাসুম চৌধুরী (ঠেলাগড়ি) অন্যান্যদের তুলনায় মাঠে সরব। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহী হয়ে লড়ছেন ৩ জন; তারা হলেন মোঃ জিন্নাত আলী (রেডিও), মোঃ আনিসুর রহমান হুমায়ূন (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট) ও মোঃ ফয়সাল হোসেন (করাত)। বিএনপি থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী ৪ জন; তারা হলেন মোঃ ইয়াসিন (ঘুড়ি), হাজী মোহাম্মদ আলী (এয়ারকন্ডিশনার), হাজী মোঃ আমজাদ হোসেন (ঝুড়ি) ও হাজী মোঃ মাইজ উদ্দিন (কাঁটা চামচ)।

সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। হোসনী দালান এলাকায় দলে দলে বিভক্ত হয়ে বসে আছে কয়েকটি গ্রুপ। মিটিং-মিছিল ছাড়াও উচ্চ সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছেন কেউ কেউ। জানা যায়, জলাবদ্ধতা, গ্যাস সঙ্কট, অপর্যাপ্ত আলো, পাঠাগার ও বিনোদন ব্যবস্থার সঙ্কট রয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছর ওয়ার্ডটি বিএনপির নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিএনপি নেতা প্রয়াত গোলাম মোর্শেদ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন, তার মৃত্যুর পর স্ত্রী শাহিদা মোর্শেদ এর দায়িত্ব পালন করেন।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ জিন্নাত আলী জনকণ্ঠকে বলেন, নির্বাচিত হলে মাদক, জলাবদ্ধতা ও সন্ত্রাসী কর্মকা- দমন করে ওয়ার্ডকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে শান্তির পক্ষে কাজ করব।

আওয়ামী লীগের সমর্থনে ভোট যুদ্ধের লড়াইয়ে নামা তরুণ নেতা ওমর-বিন-আব্দাল-অজিজ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, ডিজিটাল ওয়ার্ড নির্র্মাণই আমার মূল লক্ষ্য। ওয়ার্ডের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা ছাড়াও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে আমার বিশেষ মনোযোগ থাকবে।

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

১৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: