আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এলাকার উন্নয়নে ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫
এলাকার উন্নয়নে ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা
  • ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড পরিক্রমা ১, ১১ ও ১২

এমদাদুল হক তুহিন ॥ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ২৫ জন। ১১ নং ওয়ার্ডে ১০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও আনুষ্ঠানিক যাচাই বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৫ জন। প্রতিটি ওয়ার্ডেই অনানুষ্ঠানিক প্রচারে নেমেছেন অনেক প্রার্থীই। সবার মুখেই নানা প্রতিশ্রুতি। প্রতিটি ওয়ার্ডে মাঠে আছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী কম। মাঠে তাদের দেখা মিলছে না। ১২ নং ওয়ার্ডে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ২ জন প্রার্থী রয়েছেন। ১০ নং ওয়ার্ডে তেমন কোন নাগরিক সমস্যা না থাকলেও বাকি দুটি ওয়ার্ডে একাধিক নাগরিক সমস্যা রয়েছে। ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ডে অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্নতাই মূল সমস্যা হলেও বৈদ্যুতিক বাতি, জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশাও লক্ষণীয়। তিনটি ওয়ার্ডেই মাদক দ্রব্যের ছড়াছড়ি। প্রার্থীরা বলছেন, নির্বাচিত হলে সকল নাগরিক সঙ্কট সমাধানের জন্য কাজ করবেন। সবার মুখে নানা প্রতিশ্রুতির খই ফুটলেও বিজয়ীর হাসি দেখতে এখনও অনেক সময়।

ওয়ার্ড ১০ ॥ নগরীর অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল। মতিঝিলের এইচ টাইপ কোয়ার্টার, টি এ্যান্ড টি কলোনি, পোস্টাল কলোনি, বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি, আইডিয়াল জোন, আল হেলাল জোন, হাসপাতাল জোন, হিন্দুপাড়া, পিডব্লিউডি স্টোর কম্পাইন্ড এলাকা নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১০ নং ওয়ার্ড গঠিত। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ওই ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ২৫৮ জন। কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দাখিল করেছেন ১০ জন। সর্বশেষ তথ্যমতে, তাদের সবাই বৈধ প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে ৬জন আওয়ামী লীগের, তারা হলেন জাহিদুল ইসলাম টিপু, বেলাল উদ্দিন বাবু, মনসুর আলী, ফারুক আহমেদ মনসুর, মাসরুর আহমেদ ও মোঃ শহীদ রেজা (বাচ্চু)। ২ জন বিএনপির, তারা হলেন মোঃ জুবাইর আলম খান ও মোঃ হারুন রশীদ। মোঃ শহীদ রেজা বাচ্চুর এনএনপির সমর্থক, মিজান উদ্দিন আহমেদের দলীয় কোন পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে জাহিদুল ইসলাম টিপু জনকণ্ঠকে বলেন, উন্নয়নের জন্য যা দরকার ছিল সব করে দিয়েছি। ইদগাহ মাঠ, একটি করে রুম বর্ধিতকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতিকরণ, ৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন ও আলাদা ওয়াকওয়ে স্থাপন করেছি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকায় আমার ওয়ার্ডে তেমন কোন সমস্যা নেই। সব দিক দিয়েই আমরা কাজ করেছি। আমি নির্বাচিত হলে এই ওয়ার্ডকে ওয়াইফাই জোনের আওতায় নিয়ে আসব। কলোনির ছেলেমেয়েদের জন্য আইডিয়াল স্কুলে ১০০ কোটা বর্ধিতকরণ করব।

আওয়ামী লীগের আরেক প্রর্থী মাসরুর আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করে একটি পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করব। কাউন্সিলর পদে লড়াইয়ে নামা বেলাল উদ্দিন বাবুও স্বীকার করেন তাদের ওই ওয়ার্ডে কাজ করার মতো তেমন কিছুই নেই। ফুটপাথ দখল, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়ন্ত্রণকে লক্ষ্য করে তিনি এগিয়ে যেতে চান।

ওই এলাকার বাসিন্দা লিমন জনকণ্ঠকে বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকায় আমাদের এলাকায় তেমন কোন সমস্যা নেই। নাগরিক সমস্যা যা ছিল সেসব সমাধান করা হয়েছে। থানার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে টিপু ভাই সমাজের সব রকমের উন্নয়ন করেছেন।

ওয়ার্ড ১১ ॥ অন্যদিকে দক্ষিণ ও উত্তর শাহজাহানপুর, রেলওয়ে কলোনি, খিলগাঁও বাগিচা শহীদবাগ, মোমেনবাগ, আউটার সার্কুলার রোড নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১১ নং ওয়ার্ড গঠিত। ওই ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৬৭৭ জন। নির্বাচন কমিশনরে তথ্য মতে, এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৫ জন। ১০ জন মনোনয়ন দাখিল করলেও তার মধ্যে ৫ জনেরই মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। জানা যায়, বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের একক প্রর্থী মোঃ হামিদুল হক। তবে সেলিম আহমেদ নিজেকে আওয়ামী লীগের বলে পরিচয় দিলেও এলাকার লোকজন তাকে তেমনভাবে চেনেন না। অন্যদিকে স্বতন্ত্র থেকে লড়ছেন এ বি এম হেলাল উদ্দিন, জাসদ থেকে সাংবাদিক ফিরোজ আলম মিলন ও বিএনপি থেকে মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

নগরীর এই এলাকার অধিকাংশই অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন। উত্তর শাহজাহানপুর ও দক্ষিণ শাহজাহানপুরকে বিভক্ত করা মাঝের লেকের পানিতে সব সময় ময়লা আবর্জনা ভেসে থাকতে দেখা যায়। জলাবদ্ধতা, সন্ত্রাসী কর্মকা-, মশার উপদ্রব ছাড়াও নানাবিধ নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত ওই এলাকা।

আওয়ামী লীগের প্রর্থী মোঃ হামিদুল হক (শামীম) নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, সন্ত্রাসমুক্ত একটি বসবাসযোগ্য সমাজ গড়ে তুলব। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, খেলার মাঠ সংস্কারকরণ, কমিউনিটি সেন্টর গড়ার ইচ্ছে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, মশার উৎপাত নির্মূলে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী এ বি এম হেলাল উদ্দিন তরুণ প্রজন্মের মানসিক মূল্যবোধ বিকাশের দিকে বিশেষ নজর দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এছাড়ার শাহাজাহানপুরের লেকটিকে পরিষ্কার পরিরচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করবেন বলে জানালেন। জাসদের প্রার্থী সাংবাদিক ফিরোজ আলম মিলন জনকণ্ঠকে বলেন, এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করার চেষ্টা করব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলেমেয়েদের নির্বিঘেœ যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলাকর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ওয়াইফাই জোনে পরিণত করব।

বিএনপির একক প্রার্থী ঢাকা চেম্বারের সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, আমি যদি নির্বাচিত হই আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সততার পরিচয় দিব। এলাকার জলাবদ্ধতা ও পানির সকল সমস্যা দূর করব।

ওয়ার্ড ১২ ॥ নগরীর মালিবাগ, গুলবাগ, শান্তিবাগ, বকশিবাগ ও ইন্দ্রপুরী এলাকা নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১২ নং ওয়ার্ডটি গঠিত। গুরুত্বপূর্ণ এই আবাসিক এলাকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৩১ হাজার ৯৪৭ জন। এই ওয়ার্ডে বৈধ কাউন্সিলর প্রার্থীর সংখ্যা ১০ জন। এরমধ্যে ৫ জন আওয়ামী লীগের, তারা হলেন আবদুল মুকিদ হাওলাদার, গোলাম আশরাফ তালুকদার, দিপন আলী খান, শেখ নেয়ামত উল্লাহ নবু ও শেখ সেকান্দর আলী। বিএনপির ৩ জন, তারা হলেন আবুল মনসুর, এ কে এম সাইফুল কবির আহমদ ও ফজলে রুবাইয়াত। বাকি ২ জন জাতীয় পার্টির, তারা হলেন শেখ নেয়াতম উল্লাহ নবু ও শেখ সরোয়ার।

রাজধানীর এই ওয়ার্ডটিতে পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই হঠাৎ করে বৈদ্যুতিক বাতি নিভে যাওয়া যেন নৈমিত্তিক ব্যাপার। মাদকদ্রব্যের ছড়াছড়ি অন্য সব এলাকার মতোই। শিশু-কিশোরদের নির্মল বিনোদনের জন্য এখানে নেই কোন খেলার মাঠ। বেশ কিছু নাগরিক অসুবিধার কথা স্বীকার করে তা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন লডাইয়ে নামা কাউন্সিলররা।

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

১১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: