আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অনলাইনে নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তা

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫
  • রেজা নওফল হায়দার

একটা সময় ছিল রঙিন খামে করে আসত শুভেচ্ছা কার্ড। সুন্দর সুন্দর কার্ড কেনার জন্য চলত প্রস্তুতি। অনেক দেখেশুনে কেনা হতো নববর্ষের কার্ড। বিপণি বিতানগুলোতে লেগে থাকত ভিড়। কর্মজীবনে ব্যস্ততার কারণে এখন আর সময় নিয়ে কার্ডের দোকানে যেতে পারছে না অনেকেই। গতি পাল্টে দিয়েছে জীবন। তাই বলে গ্রিটিংস কার্ডের কদর কমেছে সেটা মনে হয় ঠিক না। বরং বেড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিকে মানুষ অনেক আপন করে নিয়েছে। অনলাইনে বিশাল পসরা সাজিয়ে বসে আছে বেশ নামী দামী ওয়েবসাইট। কোনটা ফ্রিতে পাওয়া যায় আবার কোনটা কিনতে হয় অর্থ দিয়ে।

সামনে বৈশাখের প্রথম দিন। এরই মধ্যে ফেসবুকের স্ট্যাটাস পরিবর্তন করেছেন অনেকেই। টাইমলাইনের ছবি পরিবর্তন করেছেন। হার্ড কপি, কার্ডের যায়গায় সফটকপি এসেছে। মনের রঙে মাখিয়ে শুধু নির্দিষ্ট ইমেইলে সেন্ড করলেই হলো। আর এই রীতি বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে এরই মধ্যে।

রঙিন কাগজে ডিজাইন করা শুভেচ্ছা কার্ড বা গ্রিটিংস কার্ড। দোকানে গিয়ে শুভেচ্ছা কার্ড কেনা, সুন্দর প্যাকেটে তা ভরে ঠিক বন্ধুর বাসায় পাঠানো বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এখন সময় তথ্য-প্রযুক্তির। সবকিছুই হাতের নাগালে। অনলাইনে সার্চ করলে পাওয়া যায় সব খবরাখবর। যেমন সুন্দর সুন্দর ওয়াল পেপার, বর্ষবরণ, জন্মদিন বা বন্ধু দিবসের কার্ড। যেগুলো দিয়ে বরণ করে নেয়া যায় বিশেষ দিনগুলোকে। বিশ্বে এর চাহিদা অনেক। আমাদের দেশেও বর্তমানে এর চাহিদা বাড়ছে। উৎসব ছাড়াও সারপ্রাইজ দিতে যাদের ইচ্ছা, তাদের জন্য সুখবর। কার্টুন, এনিমেশন ছাড়াও অসাধারণ কিছু কথা দিয়ে তৈরি গ্রিটিংস কার্ড সরাসরি যে কাউকে পাঠানো যাবে বিনামূল্যে। উপহার হিসেবে ভালটা দিতে হলে সেখান থেকে মূল্য দিয়ে সংগ্রহ করতে হবে বিশেষ ডিজাইনের কার্ড।

কম-বেশি সবাই উপহার পেতে পছন্দ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া স্বাতি তার ব্যতিক্রম নয়। পছন্দ করে গ্রিটিং কার্ড। একটি নির্দিষ্ট কালারের যে কোন ডিজাইনের কার্ড কোথাও তা পেলে যতœ করে সংগ্রহ করে রাখে। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ল্যাপটপ খুলল সুমনা। ই-মেইল চেক করতে গিয়ে দেখল একটি নতুন মেইল এসে জমা হয়েছে ইনবক্সে। ঝটপট তা খুলে দেখল দেখে একটি চমৎকার গ্রিটিংস কার্ড। তাতে লেখা প্রিয় বান্ধবীর একটি প্রিয় কথা। দিনের শুরুতে অনলাইনে এমন একটা সুন্দর গ্রিটিংস কার্ড পেয়ে মহাখুশি। তাছাড়া কার্ডটি ছিল তার প্রিয় রঙের। যে রঙের প্রতি তার দুর্বলতা, ঠিক সে রঙ।

সবমিলিয়ে প্রযুক্তি এখন নানাভাবে দিচ্ছে রোমাঞ্চকর অনুভূতি। তা হচ্ছে নানা রঙে নানা ঢঙে। বৈশাখকে ঘিরে শতাধিক গ্রিটিংস কার্ড পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে। তাতে রয়েছে চিরায়ত বাংলার চিত্র। ঢোল, একতারা, বাঁশের বাঁশি, তালপাতার পাখা, রসের হাঁড়িসহ বাহারি ডিজাইন। কার্ডগুলো ডাউনলোড হচ্ছে প্রচুর। অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তথ্যপ্রযুক্তির বাজারে বৈশাখী আমেজ আর কেনাকাটা। সেদিকে আগ্রহ বেশি তরুণদের।

অভিমান অভিযোগ যাই থাকুক না কেন, একটি ছোট ক্ষুদে বার্তা, ই-মেইল পারে মনের চাপা কষ্ট দূর করতে। তাতে যদি থাকে সুন্দর একটি শুভেচ্ছা কার্ড, মন্দ হয় না। এ পদ্ধতিতে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা কমে যায়। বাড়ে সম্পর্কের বন্ধন আস্থা ও বিশ্বাস। প্রতিদিন চাহিদা বাড়ছে অনলাইনে নানারকম শুভেচ্ছা কার্ডের। সেই সঙ্গে নিত্যনতুন ডিজাইন ও রঙের চমক তো থাকছেই।

কার্ডগুলো পাওয়া যাচ্ছে বেশ কতগুলো ডিজিটাল ই-শপে। পছন্দের নানারকম গিফট আইটেম পাওয়া যাবে এ সাইটগুলোতে। সময়ের স্বল্পতায় যাদের শপিং করতে বাইরে যাওয়া অসম্ভব, তাদের জন্য ই-শপিং সাইটগুলো বেশ জনপ্রিয়। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাজানো ই-কার্ড থেকে এবার প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানান নিজের মতো করে। খুব সহজে এ কাজগুলো করতে বিভিন্ন বেসরকারী ব্যাংক বেশ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। অনলাইনে মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে লেনদেনে গতিময়তার সঙ্গে বেড়েছে জীবনযাপনে গতিময়তার ছন্দ। তাছাড়া কেনাকাটায় নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি নেই। হাতের কাছে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই হলো। ঘরে বা অফিসে বসে অনায়াসে সবকিছু করা যাবে নিমিষেই।

আর তাই বৈশাখ ঘিরে অসংখ্য শুভেচ্ছা কার্ড নিয়ে সাজিয়ে এদেশের বেশকিছু ই-কমার্স সাইট। বেশ কয়েক বছর ধরে এদেশে জনপ্রিয় হয়েছে এই সাইটগুলো। শুধু ডাউনলোড করুন আর পাঠিয়ে দিন প্রিয় মানুষটির কাছে। এর মধ্যে , http://www.bluemountain.com, http;//greetingcards.com,

http://www.hallmark.comline উল্লেখযোগ্য।

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

১১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: