মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দাদা সাহেব ফালকে পেলেন শশী কাপুর

প্রকাশিত : ৯ এপ্রিল ২০১৫

চলতি বছরের ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘দাদা সাহেব ফালকে’ পেলেন বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা শশী কাপুর। বাবা পৃথ¦ীরাজ কাপুর ও বড় ভাই রাজ কাপুরের পথ ধরে এবার তিনিও পেলেন এ সম্মাননা। মুম্বাইয়ের বিখ্যাত সিনেমা পরিবারের এই নিয়ে তিনজন এ পদক পেলেন। ৭৭ বছরের ওই অভিনেতার নাম প্রস্তাব করেন পাঁচ সদস্যের জুরি বোর্ড। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবারের ফালকে পুরস্কারের জন্য শশী কাপুরের নাম চূড়ান্ত করেন। এরই মধ্যে বড় ভাই রাজ কাপুরের ছেলে ঋষি কাপুরের কাছ থেকেও পেয়েছেন তিনি উষ্ণ অভিনন্দন। ট্যুইটারে কাকাকে অভিনন্দন জানিয়ে ঋষি লিখেছেন, ‘ভারতীয় সিনেমায় অসামান্য অবদানের জন্য মর্যাদাপূর্ণ দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার পেলেন শশী কাপুর। তুমিই যোগ্য ব্যক্তি। ভগবান তোমার মঙ্গল করুন।’

বি-টাউনের একসময়ের অন্যতম অভিনেতা, ত্রিশূলখ্যাত নায়ক শশী কাপুরের আত্মপ্রকাশ হয়েছিল ১৯৪৮ সালে ‘আগ’ এবং ১৯৫১ সালে ‘আওয়ারা’তে শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয় করে। ওই দুটি ছবির নায়ক ছিলেন বড় ভাই রাজ কাপুর। ‘আওয়ারা’ ছবিটি ছিল রাজ কাপুরের নিজের ছবি। এরপর লাইট-ক্যামেরা-এ্যাকশনের দুনিয়াতে আটকে যান সত্তর দশকের বলিউড সুপারস্টার শশী কাপুর। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। তবে পুরোপুরি নায়করূপে ১৯৬১ সালে ‘ধর্মপুত্র’ ছবিতে দেখা যায় শশীকে। এরপর একাধিক হিট ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি দাপটের সঙ্গে। অভিনয়-জীবনে কাজ করেছেন মোট ১৬৩টি চলচ্চিত্রে। তাঁর অভিনীত বক্স অফিসে ঝড় তোলা ছবিগুলোর মধ্যে আছেÑ দিওয়ার, সত্যম শিবম সুন্দরম, কালা পাথর, নেমক হালাল, কভি কভি, শান, দো ওউর দো পাঁচ, ত্রিশূল ইত্যাদি। ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সিনেমাতেও পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন কাপুর পরিবারের এ সদস্য। কয়েকটি ব্রিটিশ এবং আমেরিকান ছবিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। যেমন, দ্য হাউসহোল্ডার, শেক্সপিয়রওয়ালা, বম্বে টকিজ এবং হিট এ্যান্ড ডাস্ট। এ সকল ছবিতে অভিনয় দক্ষতা দেখিয়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন এ বরেণ্য শিল্পী। অসংখ্য চলচ্চিত্রে নিজের দ্যুতিময় উপস্থিতির সুবাদে ভারতের চলচ্চিত্র ইতিহাসে নিজেকে এক অনন্য স্থানে নিয়ে গেছেন শশী। তিনি তাঁর সময়ের একজন অন্যতম অভিনেতা হিসেবে নিজের সামর্থ্য মেলে ধরেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় ছাড়াও তিনি ছিলেন ভারতীয় থিয়েটারের একজন পরিশ্রমী কর্মী। একাধিক নাটকেও তিনি অভিনয় করেছেন। ১৯৭৮ সালে পৃথক প্রোডাকশন হাউস খুলে কয়েকটি ছবির প্রযোজনা করেছিলেন। ছবিগুলো হলোÑ জুনুন (১৯৭৮), কলিযুগ (১৯৮০), ৩৬ চৌরঙ্গী লেন (১৯৮১), বিজেতা (১৯৮২), উৎসব (১৯৮৪) এবং আজুবা (১৯৯১)। অমিতাভ বচ্চন এবং ঋষি কাপুর অভিনীত ‘আজুবা’ ছবিটির পরিচালনা করেছিলেন তিনি নিজেই। নির্মাণ করেছেন একটি রাশিয়ান চলচ্চিত্রও (ঠড়ুাৎধংযপযবহরুব ইধমফধফংশড়মড় ঠড়ৎধ, ১৯৮৮)। ১৯৯৮ সালে পরিচালক আইভরি মার্চেন্টের ইংরেজী ছবি ‘সাইট স্ট্রিটে’ শেষ অভিনয় করেছিলেন শশী কাপুর।

বম্বে টকিজ এবং জুনুন চলচ্চিত্রের সহ-অভিনেত্রী জেনিফার ক্যান্ডেলের সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলেন শশী। ১৯৮৪ সালে জেনিফারের মৃত্যু হয়। তাঁর আরেক বড় ভাই শাম্মি কাপুর ছিলেন বলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা। বর্তমানে প্রবীণ এ অভিনেতা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত। ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারেন না। কয়েকদিন আগেই অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর। পুরস্কার ঘোষণার পর শশীর ছেলে অভিনেতা কুনাল কাপুর ভারতের সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভিকে তাঁর বাবার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, ‘বাবার প্রথম কথা হলো, আমি পেয়েছি পুরস্কার... আমি? এরপর তিনি একটু হাসলেন।’ গুণী এ অভিনেতার ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার এবং সম্মাননা। ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি তিন বার। ২০১১ সালে ভারত সরকারের কাছ থেকে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ অর্জন করেন তিনি। এবার যুক্ত হলো দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার। এর আর্থিক মূল্য ১০ লাখ ভারতীয় রুপী। সঙ্গে থাকবে স্বর্ণকমল ও একটি শাল। উল্লেখ্য, ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনক দাদা সাহেব ফালকের জন্মশতবর্ষে ১৯৬৯ সাল থেকে ‘দাদা সাহেব ফালকে সম্মাননা’ দেয়া শুরু হয়। ভারতীয় সিনেমায় আজীবন স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দিয়ে থাকে ভারত সরকার।

গদ্য আচার্য

প্রকাশিত : ৯ এপ্রিল ২০১৫

০৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: