কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নতুন চ্যাম্পিয়নের অপেক্ষায় ॥ ওয়ার্ল্ড কাপ ক্রিকেট-১২

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • রো ড টু মে ল বো র্ন

১১তম বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের ১৫টি ম্যাচ খেলাও হয়ে গেছে। নন-টেস্টপ্লেয়িং দেশ আয়ারল্যান্ড দাপটের সঙ্গে তিনবারের ফাইনালিস্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এ বিশ্বকাপে প্রথম অঘটনটি ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জমিয়ে দিয়েছে। তবে পরের ম্যাচে ক্যারিবীয়রা পাকিস্তানকে হারিয়ে আবার খেলায় ফিরে এসেছে। প্রথম দুই ম্যাচে পাকিস্তান ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে এবং ইংল্যান্ড দুই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে কোয়ার্টারে ওঠার পথটা কঠিন করে ফেলেছে। তাদের নক আউট পর্বে খেলতে হলে বাকি ম্যাচগুলোয় জয়ের বিকল্প নেই। তবে অস্ট্রেলিয়া, দ. আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড প্রত্যাশা অনুযায়ী জয়ের ধারা ধরে রেখেছে। এবারের বিশ্বকাপে এই তিন দলকেই শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার বলে ভাবছেন অনেকে। যদিও পথ এখনও অনেকটাই বাকি। বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে শুরুটা ভালই করেছে। নবাগত আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১০৫ রানের বড় জয় দিয়ে সূচনা করেছে বাংলাদেশ। আর এই জয় বাংলাদেশকে কোয়ার্টারের পথে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। বিশ্বকাপে এবার ভাল খেলছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। প্রথম ৩ ম্যাচ জিতে তারা বলতে গেলে কোয়ার্টারে উঠেই গেছে। অস্ট্রেলিয়াও কোয়ার্টারে যাবে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। পাকিস্তান ও দ. আফ্রিকাকে হারিয়ে ভারত বলতে গেলে কোয়ার্টারে উঠেই গেছে। দ. আফ্রিকা ভারতের কাছে হারলেও কোয়ার্টারে যাবে না এ কথা কেউ মানবেন না। অনেকের ধারণা, এবারের শিরোপা লড়াই এই ৪ দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে কথায় বলে ‘শেষ ভাল পার, সব ভাল তার’। শেষটা যারা ভাল করতে পারবে তারাই শেষ হাসি হাসবে। অনেকেই চাইছেন এবার নতুন কোন দল কাপ জিতুক। আর তাই নিউজিল্যান্ড বা দ. আফ্রিকার দিকে তাকিয়ে আছেন তারা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ১১তম আসরটা এরই মধ্যে বেশ জমে উঠেছে সে কথা নির্দ্বিধায় বলে দেয়া যায়। বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনার একাদশ পর্বে আজ থাকছে একাদশ বিশ্বকাপ নিয়ে কথকতা। লর্ডস থেকে মেলবোর্ন। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ৪০ বছর। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ৪০ বছরের পথচলা নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক আয়োজন ‘রোড টু মেলবোর্ন’ এর শেষ পর্ব। লিখেছেন : কথা সাহিত্যিক ও সাহিত্য সংগঠক : সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১১তম আসর শুরু হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ঠিক ভ্যালেন্টাইন-ডে’র দিনে। বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেটপাগল মানুষ প্রিয়জনকে ভালবাসা নিবেদনের সঙ্গে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ভালবাসায়ও সিক্ত হয়। ১১তম বিশ্বকাপের আয়োজক অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এ কথা আর নতুন করে বলার আবশ্যকতা আছে বলে মনে হয় না। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের এটা দ্বিতীয়বার আয়োজন। এর আগে ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফলতার সঙ্গে প্রথমবার বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আয়োজন করেছিল। এবার উদ্বোধনী দিনে অনুষ্ঠিত হয় দুটি ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের কাছে এশিয়ার সিংহ শ্রীলঙ্কা হারে ৯৮ রানে। দিনের অপর ম্যাচে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১১ রানের বড় জয় পায় অপর স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া এবার পঞ্চমবারের মতো কাপ জয়ের লক্ষ্যে খেলছে। অপরদিকে নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য ’৯২ সালে মার্টিন ক্রোর অধরা কাপটাকে ছোঁয়া। এ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে রাউন্ড রবিন লিগে ১৪টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দলগুলো হলো- ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দ. আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুইয়ে, বাংলাদেশ, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, আরব আমিরাত ও আফগানিস্তান।

অংশগ্রহণকারী ১৪ দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপ এ-তে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ, স্কটল্যান্ড ও আফগানিস্তান এবং গ্রুপ বি-তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান, দ. আফ্রিকা, জিম্বাবুইয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আরব আমিরাত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। গ্রুপ পর্বের শীর্ষ ৮ দল খেলবে কোয়ার্টার ফাইনাল। কোয়ার্টার ফাইনাল বিজয়ী ৪ দল সেমি ফাইনাল এবং সেমি ফাইনালে জয়ী দুই দল ২৯ মার্চ মেলবোর্নে ফাইনাল খেলার মধ্যে দিয়ে প্রতিযোগিতার পর্দা নামবে।

বিশ্বকাপের আগে ৬ নবেম্বর ২০১৪ বেশ ঘটা করে শুরু হয়েছিল ১১তম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ‘কাউন্ট ডাউন’। কাউন্ট ডাউন অর্থাৎ দিন গণনার পালা। তার মানে ৬ নবেম্বর থেকে শুরু হয়েছে উল্টো করে ১০০ দিন গোনা। তার মানে ৬ নবেম্বর থেকে বিশ্বকাপের বাকি ছিল ১০০ দিন। উল্টো করে গুনতে গুনতে ডেট লাইন ১৪ ফেব্রুয়ারিতে এসে দিন গোনার পালা শেষ হয়। আর সেই কাউন্ট ডাউনটা ঘটা করে বিশ্ববাসীকে জানিয়েছিল দুই স্বাগতিক ৪ বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও ছয়বারের সেমিফাইনালিস্ট নিউজিল্যান্ড। সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউসে এক মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মঞ্চ আলোকিত করে ‘কাউন্ট ডাউন’র জানান দেন অসেট্রলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী তিন অধিনায়ক এ্যালান বর্ডার, স্টিভ ওয়াহ ও রিকি পন্টিং। উপস্থিত ছিলেন অনেক লিজেন্ডের সঙ্গে অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কসহ অস্ট্রেলিয়া দল। দলকে পঞ্চমবারের মতো কাপ জয়ে উদ্বুদ্ধ করতে অসি ক্রিকেটের ঐতিহ্য তুলে ধরা হয় এ অনুষ্ঠানে। অসিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ‘কাউন্ট ডাউন’র উৎসবে পিছিয়ে থাকেনি সহ-আয়োজক নিউজিল্যান্ডও। ছয়বারের সেমিফাইনালিস্ট কিউইরাও অকল্যান্ডে ও পার্ল হারবারে আয়োজন করে অপর ‘কাউন্ট ডাউন’ অনুষ্ঠান। অকল্যান্ডে দলকে উজ্জীবিত করতে স্যার রিচার্ড হ্যাডলি, ক্রিস হ্যারিস, ব্রেন্ড্রন ম্যাককালাম কিউই ক্রিকেটের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। ওদিকে পার্ল হারবারে অসি তারকা এ্যান্ডি বিকেল, ডোমিয়েন ফ্লেমিং, কিউই তারকা স্টিফেন ফ্লেমিং, ক্রিস কেয়ার্নসরা একটি ক্রিকেট খেলার প্রোমো প্রকাশে অংশ নেন।

এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রাইজমানি ৮০ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। আগের বিশ্বকাপ থেকে এ বিশ্বকাপের প্রাইজমানি বেড়েছে অনেকটাই। প্রাইজমানি বাড়লেও বাড়ছে না খেলার মান। প্রাইজমানি এক কোটি মার্কিন ডলার ছুঁতে আর মাত্র বাকি বিশ লাখ ডলার। এই ৮০ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, রানার্স আপ দল পাবে ১৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, চার সেমিফাইনালিস্ট প্রত্যেকে পাবে ৬ লাখ মার্কিন ডলার করে, সেমিতে হেরে গেলেও থাকবে ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া ম্যান অব দ্য ম্যাচ, ম্যান অব দ্য ফাইনাল ও প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলের জন্যও রয়েছে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন দলের প্রাইজমানি ছিল ৪ হাজার পাউন্ড, রানার্স আপ দলের ২ হাজার পাউন্ড এবং ম্যান অব দ্য ম্যাচের ২০০ পাউন্ড। ’৭৫ থেকে ২০১৫। ১৯৭৫ সালের সেই ৪ হাজার পাউন্ড এখন গিয়ে পৌঁছেছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে। লর্ডস থেকে মেলবোর্ন। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ৪০ বছর। আর এই ৪০ বছর বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রাইজমানি বেড়েছে অনেকগুণ।

বিশ্বকাপটাকে আরও সুন্দরভাবে শেষ করতে এ বিশ্বকাপেও কিছু বিশেষ নিয়ম-কানুন প্রয়োগ করেছে আইসিসি। সবগুলো এক নিয়মে অনুষ্ঠিত হয় না। প্রত্যেক বিশ্বকাপে নিয়ম-কানুনে কিছু রদ-বদল হয়েই থাকে। কিছু নতুন নতুন বিধিনিষেধ আরোপিত হয়। এবারও তাই হয়েছে। প্রথম বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে প্রত্যেক দলকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একবার করে মোকাবেলা করতে হয়েছে। তৃতীয় বিশ্বকাপে তা করা হয় দুইবার করে। ফলে প্রথম বিশ্বকাপে যেখানে মোট ম্যাচ ছিল ১৫টি তৃতীয় বিশ্বকাপে তা বেড়ে ২৭টিতে গিয়ে দাঁড়ায়। এবারের বিশ্বকাপে সে ম্যাচ সংখ্যা ৪৯টি। এবারের বিশ্বকাপেও আইসিসি বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নক আউট থেকে ফাইনাল পর্যন্ত (কোয়ার্টার-ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল) কোন ‘সুপার ওভার’ থাকবে না। ফাইনাল ‘ম্যাচ টাই’ হলে উভয় দলকে চ্যাম্পিয়ন বলে ঘোষণা করা হবে। কোয়ার্টার-ফাইনাল ও সেমি-ফাইনালে ম্যাচ টাই হলে গ্রুপ পর্বে সেরা দল পরের পর্বে খেলবে। তবে ডি আর এস (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম) এ কোন রদবদল হচ্ছে না। তা আগের মতোই যথারীতি বহাল থাকবে।

একাদশ বিশ্বকাপে যে ভেন্যুগুলোতে খেলা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া : মেলবোর্র্ন : আসন সংখ্যা ১,০০,০২৪, এডিলেড : আসন সংখ্যা ৫৩,৫০০, সিডনি : আসন সংখ্যা ৪৮,০০০, ব্রিসবেন : আসন সংখ্যা ৪২,০০০, পার্থ : আসন সংখ্যা ২৪,৫০০ ও হোর্বাট : আসন সংখ্যা ২০,০০০ জন নিউজিল্যান্ড : অকল্যান্ড আসন সংখ্যা ৪৬,০০০, ওয়েলিংটন : আসন সংখ্যা ৩৩,০০০, ক্রাইস্টচার্চ আসন সংখ্যা ২০,০০০, নেপিয়ার আসন সংখ্যা ২০,০০০, হ্যামিল্টন আসন সংখ্যা ক্যানবেরা আসন সংখ্যা ১৩,৫০০, ১২,০০০, ডুনেডিন আসন সংখ্যা ৬,০০০, নেলসন আসন সংখ্যা ৫,০০০ জন।

এবারের বিশ্বকাপে কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে তা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। ভারত শিরোপা ধরে রাখতে পারবে কিনা তা নিয়েও আলোচনার শেষ নেই। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে ভারত এখন শিরোপা জেতার রেসে টিকে আছে। অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম শিরোপা জয়ের অপেক্ষায়ও আছেন অনেকে। তবে বেশিরভাগ দর্শক চাইছেন নতুন কোন চ্যাম্পিয়নকে। আর এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ৬ বারের সেমিফাইনালিস্ট নিউজিল্যান্ড ও বিশ্বকাপের ভাগ্যবঞ্চিত দল দ. আফ্রিকা। তাদেরও শুরুটা ভালই হয়েছে। এখন অপেক্ষা শেষটা ভাল হয় কিনা সেটা দেখার।

প্রিয় পাঠক, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ৪০ বছরের পথচলা নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজন ‘রোড টু মেলবোর্ন’ এ অনেকদিন আপনাদের সঙ্গে ছিলাম। ধারাবাহিক এ লেখার আজ শেষ পর্ব। আবার ফিরে আসব অন্য এ আয়োজনে। ভাল থাকবেন সবাই।

e-mail : syedmayharulparvey@gmail.com

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: