রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় দল আসে নদীয়া থেকে

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

এক সময় মেলার মাঠে যাত্রা, সার্কাসের পাশাপাশি রঙ-বেরঙের পুতুল নাচ প্রদর্শিত হতো। এখন আর গ্রামবাংলায় এ ঐতিহ্যবাহী মনোরঞ্জনের মাধ্যমটি চোখে পড়ে না। মেলার অনুমতি না পাওয়া, পেশা বদল, আকাশ সাংস্কৃতির প্রভাব ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙালী সংস্কৃতির অন্যতম জনপ্রিয় এ মাধ্যমটি।

১৯৮০ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের বদরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন সাধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রথম পুতুল নাচ প্রর্দশন করা হয়। এ জন্য এলাকার আশাননগর গ্রামের রেজাউল হক তরফদার ভারতের পশ্চিম বঙ্গের নদীয়া জেলার গান্নাপুর থেকে সুকুমার ও তার দল নিয়ে আসেন। দলে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ২০-৩০ জন লোক ছিল। এদের কাজ থেকে উৎসাহিত হয়ে রেজাউল হক তরফদার পৈত্রিক ৮-১০ বিঘা জমি বিক্রি করে পুতুলসহ মালামাল তৈরি করেন। এরপর নিজে দল চালাতে থাকেন। দলের নাম দেন রংমহল পুতুল নাচ। আজ এদের অনেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ, আবার কেউ কেউ মারা গেছেন। মরহুম রেজাউল হক তরফদারের ছেলে শুকুর আলি জানান, তাঁর বাবা পুতুল নাচ দলের প্রতি এতই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন যে, বছরের ৫-৬ মাস তাঁর ঘর-সংসারের দিকে খেয়ালই থাকত না। দলে থাকলে ভালই লাভ হতো কিন্তু দল রেখে বাড়ি এলে ফিরে গিয়ে লোকসান গুনতে হতো। এভাবে তিনি ১৫-২০ বিঘা জমি বিক্রি করেছেন। মহিলা পুতুলে কণ্ঠ দেয়া আব্দুর রাজ্জাক পিরু জানান, পুতুল নাচ দল নিয়ে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় শো করেছি। নামে পুতুল নাচ কিন্তু এই পুতুলের মাধ্যমে সতী বেহুলা, রাজা হরিষচন্দ্র, রূপবান, বেদের মেয়ে জোসনার মতো অসংখ্য লোককাহিনী ও ঐতিহাসিক পালা দর্শকদের আনন্দ-বেদনা দিয়েছে। স্থানীয় কুতুবপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন টাইগার অভিযোগ করেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মেলার অনুমতি না দেয়ায় শো করা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বেকার হয়ে শিল্পী-কলাকুশলীরা বাধ্য হন অন্য পেশা বেছে নিতে।

Ñরাজীব হাসান কচি

চুয়াডাঙ্গা থেকে

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: