মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইউক্রেন নিয়ে শান্তি আলোচনা পরস্পরকে দোষারোপ করছে রাশিয়া-পশ্চিমা বিশ্ব

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • আতাউর রহমান রাইহান

রুশ প্রেসিডেন্ট ভাদিমির পুতিন ইউক্রেন সংকটের জন্য আবারও পশ্চিমাদের দায়ী করেছেন। জার্মানি ও ফ্রান্সের উদ্যোগে ইউক্রেইন সঙ্কট মোকাবেলায় নতুন করে শান্তি আলোচনা বুধবার শুরু হবে। ওই বৈঠকের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এবং ইউক্রেইনে লড়াই বন্ধে ফান্স ও জার্মানির দেয়া প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখার মধ্যে এ অভিযোগ করেন পুতিন। তবে সহিংসতা বন্ধে ফ্রান্স ও জার্মানির প্রস্তাবের পক্ষে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। এদিকে সর্বশেষ খবর অনুসারে সঙ্কট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে গেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মের্কেল। প্রেসিডেন্ট পুতিন বর্তমানে মিসর সফরে আছেন। তিনি সোমবার অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলো ন্যাটোর সম্প্রসারণ না করার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেছে এবং দেশগুলোকে তাদের অথবা রাশিয়ার যে কোন একটিকে বেছে নিতে চাপ দিয়ে আসছে। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমারা রাশিয়ার স্বার্থকে উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বুধবার ইউক্রেন সঙ্কটের বিষয়ে নতুন একটি শান্তি প্রচেষ্টার প্রাক্কালে পুতিন এসব কথা বলেন।

মিসরের আল আহরাম সংবাদপত্রকে দেয়া সাক্ষাতকারে পুতিন বলেন, আমরা অব্যাহতভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের ইউক্রেনে হস্তক্ষেপের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে হুঁশিয়ার করেছিলাম। তিনি গত বছর ভিক্টর ইয়োনোকভিচ-বিরোধী আন্দোলনে মদদ দেয়ার জন্য পশ্চিমাদের অভিযুক্ত করেন। ওই বিক্ষোভে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে একটি চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ইয়োনোকভিচ সরকারের পতন হয়।

এদিকে ইউক্রেনের ব্যাপারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ‘জালিম’ শাসকের মতো আচরণ করছেন বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্য। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত রোববার এমন অভিযোগ করে দেশটি। ইউক্রেন-সঙ্কট নিয়ে বলতে গিয়ে পুতিনকে নিয়ে এমন কড়া মন্তব্য করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড।

ইউক্রেন-সংকট সমাধানে যুক্তরাজ্যের এগিয়ে আসাটা অপ্রাসঙ্গিক বলে দাবি করার বিষয়টি নাকচ করেছেন হ্যামন্ড। স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে পরাজিত করতে পারবে না ইউক্রেন, এটা বাস্তবিক অবস্থানও নয়। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমাধান হতে হবে।’

ইউক্রেন-সংকটের প্রেক্ষাপটে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই ব্যক্তি (পুতিন) আন্তর্জাতিক সীমান্তে সেনা পাঠিয়েছেন। এই একুশ শতকে অন্য একটি দেশের ভূখণ্ড দখল করে তিনি বিশ শতকের জালিম শাসকের মতো আচরণ করছেন। সভ্য জাতি এমন আচরণ করে না।’

ইউক্রেনে নতুন শান্তি পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মের্কেল। সেখানে প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে।

এমন এক মুহূর্তে মের্কেলের সঙ্গে বসতে যাচ্ছেন ওবামা, যখন ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য চাপের মধ্যে রয়েছে দেশটির প্রশাসন। তবে মের্কেলসহ অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা মনে করেন, অস্ত্র সরবরাহ লড়াইকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এর আগে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্কেল এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ মস্কো সফর করেন।

এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বিদ্রোহীদের হামলায় আরও নয়জন সরকারী সৈন্য নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বিদ্রোহীরা প্রায় শতবারের মতো সরকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। দেবালতসেব শহরের কাছে তীব্র লড়াই চলছে বলে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।

রাশিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা মস্কোতে আলোচনায় বসে ইউক্রেনের সংঘাত অবসানে একটি শান্তি পরিকল্পনার খসড়া তৈরিতে একমত হয়েছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা না হলেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো শনিবার বলেছেন, পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে এ উদ্যোগ কাজে আসতে পারে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মের্কেল গত শুক্রবার রাতে মস্কোতে চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন। তিন দেশেরই সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তারা ওই বৈঠককে ‘উল্লেখযোগ্য এবং গঠনমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন।

মস্কোতে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক শেষ হওয়ার পরপরই মের্কেল এবং ওলাঁদ দ্রুত মস্কো ত্যাগ করেন। বৈঠকের পর তিন নেতার পক্ষ থেকে যৌথ কোন সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি বা বিবৃতি দেয়া হয়নি।

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: