আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশের কঠিন চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনাল
  • মিথুন আশরাফ

সাত বছর আগের কথা। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলা বাংলাদেশের। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ। শুরুতেই চমক জাগায় বাংলাদেশ। ভারতকে হারিয়ে দেয়। এরপর শ্রীলঙ্কার কাছে ভারতের হারে, বারমুডার কাছে বাংলাদেশের জয়ে বাংলাদেশ উঠে যায় শেষ আটে! বাংলাদেশ যেন গর্জে ওঠে। সেই থেকেই শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা। দল বিশ্বকাপের মতো ক্রিকেট মহাযজ্ঞে প্রথম রাউন্ড অতিক্রম করতে পারে, সেই বিশ্বাসও তৈরি হয়ে যায়। ২০১১ সালেও স্বপ্ন দেখা হয়। কিন্তু একটুর জন্য পূরণ হয়নি। এবারও দেশের মানুষ, ক্রিকেটপ্রেমী এমনকি ক্রিকেটাররাও কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন কী এবারও পূরণ হবে? বিশ্বকাপে মোট ১৪টি দেশ খেলছে। দুই গ্রুপে খেলা হবে। একেক গ্রুপে থাকছে ৭টি করে দল। ৪৪ দিনের এ টুর্নামেন্টে মোট ৪৯টি ম্যাচ হবে। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে ৭টি করে মোট ১৪টি ভেন্যুতে খেলা হবে। বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। বাংলাদেশ খেলবে গ্রুপ পর্বে ৬টি ম্যাচ। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও আরেক স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে বাংলাদেশকে ৪টি ম্যাচ জিততে হবে। তিনটি ম্যাচ জিতলে আশা থাকবে। তবে ২০১১ সালের মত আবারও রানরেটে বিদায় নেয়ার শঙ্কাও থাকবে। অবশ্য বাংলাদেশ যে অন্তত তিনটি ম্যাচ জিততে পারে, সেই বিশ্বাস কোচ চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহেরও আছে। নিজেই বলেছেন, ‘তিনটি ম্যাচ জেতার সামর্থ্য আছে।’ আর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা যে কতটা কষ্টসাধ্য বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাই তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে চাই। কিন্তু তা কঠিন কাজ।’ এ কঠিন কাজটিই সাধন করতে হবে বাংলাদেশকে। কিন্তু দুটি দল ছাড়া সব প্রতিপক্ষই শক্তিশালী। এজন্যই কেউ আত্মবিশ্বাসের সুরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কথাটি বলতে পারছেন না। আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডকে হারাবে বাংলাদেশ, এটি সবার ধারণা। এছাড়া বাকি ৪ প্রতিপক্ষই শক্তিশালী। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড আছে গ্রুপে। এ তিনটি দল যে কতটা শক্তিশালী, এশিয়ার দলগুলো যে এ দলগুলোর কাছে কতটা অসহায় তা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের খেলা দেখেই বোঝা যায়। সেখানে বাংলাদেশ কতটা কী করতে পারবে, তা নিয়ে সবার ভেতরই ভয় আছে। আরেকটি দল আছে, শ্রীলঙ্কা। এই দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশ লড়াই করার সক্ষমতা রাখে।

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন এমনিতেই এশিয়ার দলগুলোর জন্য কার্যকর নয়। সেখানে বাংলাদেশ আবার খেলতে গেছে ২০০৮ সালের পর। অস্ট্রেলিয়ায় সর্বশেষ দল ২০০৮ সালে খেলেছে। ৬ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই আবার বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ খেলবে দল। ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যানবেরায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে, ২১ ফেব্রুয়ারি ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ২৬ ফেব্রুয়ারি মেলবোর্নে শ্রীলঙ্কা ও ৯ মার্চ এ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। আর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সর্বশেষ বাংলাদেশ খেলেছে ২০১০ সালে। চার বছর পর কিউইদের মাটিতে খেলবে বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দল যথাক্রমে ৫ মার্চ নেলসনে স্কটল্যান্ড ও ১৩ মার্চ হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ড।

দুই দেশের কন্ডিশন নিয়ে যেখানে হিমশিম খেয়েছে পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কার মতো দল, সেখানে বাংলাদেশকে নিয়ে তাই উচ্চস্বরে আশা করছে না কেউই। তবে দল জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে যেভাবে প্রতিটি ম্যাচেই জিতেছে, বিশ্বকাপে অন্তত একটি বড় দলকে হারাবে মাশরাফিবাহিনী; সেই আশা করা হচ্ছে। যে কাজটি ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ছাড়া বাংলাদেশ প্রতি বিশ্বকাপেই করে থাকে।

১৯৭৫ সাল থেকে বিশ্বকাপ চলছে। প্রতি চার বছর পর পর বিশ্বকাপ হয়। এ পর্যন্ত ১০টি বিশ্বকাপ হয়েছে। বাংলাদেশ অংশ নিয়েছে চারটি বিশ্বকাপে। ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭ ও ২০১১ সালের বিশ্বকাপে খেলেছে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ছাড়া প্রতিটি বিশ্বকাপেই বড় একটি দলকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলে পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়েছে। ২০০৩ সালে অবশ্য করুণ দশা হয়েছে বাংলাদেশের। একটি ম্যাচে জিততে পারেনি, উল্টো কানাডার মতো দলের কাছেও হেরেছে। তবে ২০০৭ সালে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এমন আতঙ্কই তৈরি করেছে, বাংলাদেশ যে শক্তিশালী দল হয়ে উঠছে তা বুঝিয়ে দিয়েছে।

এ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ শুধু শক্তিশালী দলকে হারায়নি, টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে। ভারতের মতো দলকে হারানোর পর দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকেও হারিয়েছে। শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা। যেই বিশ্বকাপ আসে, বাংলাদেশ প্রথম পর্বের গ-ি অতিক্রম করবে; সেই স্বপ্ন দেখা হয়।

২০১১ সালের বিশ্বকাপের খেলা বাংলাদেশও হয়। এবার যেন আশা আরও বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সমান ৬ পয়েন্ট নিয়েও রানরেটে পেছনে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। তবে এ আসরেও বাংলাদেশ হারায় বড় একটি দলকে। সেই দল ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমরা বড় সব দলকে হারানোর যোগ্যতা দেখিয়েছি। তাই হারানোর সামর্থ্য আছে আমাদের।’ সেই সামর্থ্য এবারও বাংলাদেশ দেখিয়ে দিতে পারলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের পেছনে ফেলে কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠে যেতে পারে বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয়, সেই স্বপ্ন ২০০৭ সালের পর এবারও পূরণ হয় কিনা।

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: