কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সাঙ্গা-মাহেলার শেষ বিশ্বকাপ

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
সাঙ্গা-মাহেলার শেষ বিশ্বকাপ
  • অতশী আলম

শেষের শুরুর অপেক্ষায় শ্রীলঙ্কার দুই তারকা ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে। লঙ্কার সাবেক দুই অধিনায়কের এবার অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপই ক্যারিয়ারের শেষ। শেষটা স্মরণীয় করে রাখতে দু’জনই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ দু’জনই এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণীকারী ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব জয়াবর্ধনের (৩৩টি)। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাঙ্গাকারা খেলেছেন ৩০টি ম্যাচ।

শ্রীলঙ্কার সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন মাহেলা জয়াবর্ধনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে ১৯৯৭ সালে। ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেকের পরের বছরই অভিষেক ঘটে ওয়ানডে ক্রিকেটে। এবার নিয়ে তিনি পঞ্চম বিশ^কাপে অংশ নিচ্ছেন। বিশ^কাপ ক্যারিয়ারে জয়াবর্ধনের সেরা সাফল্য ২০০৭ আসরে। লঙ্কান দলের অধিনায়ক হিসেবে এ আসরের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ী ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন। ২০১১ বিশ^কাপ ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ছয় উইকেটে পরাজিত ম্যাচে ৮৮ বলে অপরাজিত ১০৩ রান করেন জয়াবর্ধনে।

২০০৭ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ছিলেন ৩৭ বছর বয়সী মাহেলা। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু ২০১১ বিশ্বকাপে কুমার সাঙ্গাকারার সহকারী হিসেবে ফের দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব ছেড়ে দেন। অধিনায়কত্ব পান তিলকারতেœ দিলশান। কিন্তু দিলশানের অব্যাহত ব্যর্থতার পর লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধে ফের অধিনায়কত্বের গুরু দায়িত্ব বর্তে মাহেলার কাঁধে। তখন তিনি শর্ত দিয়েছিলেন এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। কথা রেখে আবারও দায়িত্ব ছাড়েন। এখন সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে খেলে চলেছেন। ১৯৯৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে জয়াবর্ধনের। এর পরের মৌসুমে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন। স্মরণীয় সাফল্য হিসেবে তিনি ২০০৬ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বাধিক ব্যক্তিগত ৩৭৪ রান করে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নেন। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জয়াবর্ধনেকে বছরের সেরা আন্তর্জাতিক অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করে। পরের বছর বছরের সেরা টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মানেও ভূষিত হন। এবার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়ে স্মরণীয় করতে চান। এ প্রসঙ্গে জয়বর্ধনে বলেন, বিশ্বকাপে অনেক সুখকর স্মৃতি আছে। তবে এবারের বিশ্বকাপই শেষ আমার। শেষটা ভাল করতে চাই।

কুমার সাঙ্গাকারাও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যান ২০০৩, ২০০৭ ও ২০১১ সালের পর ২০১৫ আসরে চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন। ২০০৩ আসরে তার উল্লেখযোগ্য পারফরমেন্স ছিল সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অপরাজিত ৩৯ রান। আর ২০০৭ বিশ্বকাপে বারমুডার বিরুদ্ধে ৭৬ ও ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৫৪ রানসহ চারটি হাফ সেঞ্চুরি। ২০১১ বিশ^কাপ দারুণ কাটান সাঙ্গাকারা। এ আসরে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক সাঙ্গাকারা নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১১১ রানসহ মোট ৪৬৫ রান করেন।

বর্তমানে বয়স সাঁইত্রিশ পেরিয়ে, গর্বের জাতীয় জাসির্তে চৌদ্দ বছর, অথচ ব্যাট হাতে এখনও অপ্রতিদ্বন্দী সাঙ্গাকারা। আসন্ন বিশ্বকাপ খেলে তুলে রাখবেন রঙিন পোশাক, খেলবেন কেবল আভিজাত্যের টেস্ট। গেল বছর কলম্বোয় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল বন্ধু মাহেলা জয়াবর্ধনের সঙ্গে ঘরের মাটিতে সাঙ্গাকারারও শেষ ওয়ানডে। রঙিন পোশাকের কিংবদন্তিতুল্য ব্যাটসম্যানকে বিদায় জানাতে ভরে গিয়েছিল প্রেমাদাসার গ্যালারি। স্বভূমে দুই মহা তারকা সাঙ্গা-মাহেলার বিদায়ের জন্যই সিরিজটিকে মনে রাখবে স্বাগতিকরা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যেখানে বেশ করেই স্মরণ করবে ‘সোনালী সাঙ্গাকে।’ আহ্ কী পারফরমেন্স, কি ওয়ানডে, কি টেস্টে? ব্যাট হাতে রানের ফল্গুধরা বইয়ে দিয়েছেন আধুনিক ক্রিকেটের সুপার হিরো। জন্মভূমিতে শেষ ইনিংসে করেছেন ৩৩, তাতে বছরের কীর্তি ম্নান হয়নি এতটুকো। এ নিয়ে ২০১৪ সালে ওয়ানডেতে তাঁর মোট রান ১২৫৬। সেঞ্চুরি ৪ ও হাফ সেঞ্চুরি ৮টি, গড় ৫০.২৪! কেবল ওয়ানডে নয়, টেস্টেও চলতি বছরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সাঙ্গাকারা। আভিজাত্যের সাদা পোশাকে করেছেন ১৪৮৬ রান। সেঞ্চুরি ৪ ও হাফ সেঞ্চুরি ৯টি, গড় ৭৮.২১। ক্রিকেট ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে একই বছর একইসঙ্গে টেস্ট ও ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের অনন্য কীর্তি স্থাপন করলেন বাহাতি এই উইলোবাজ। আগের চারজন হচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যার ভিব রিচার্ডস (১৯৭৬), ব্রায়ান লারা (১৯৯৫), অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল (১৯৭৭) ও রিকি পন্টিং (২০০৫)। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ স্মরণীয় করার প্রত্যয় জানিয়েছেন সাঙ্গাকারাও।

বয়সে মাহেলার চেয়ে সাড়ে তিন মাসের ছোট, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগমন তিন বছর পরে, আপতদৃষ্টে এ ছাড়া কোন পার্থক্য নেই। বন্ধুত্বের বন্ধনে মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারার মাঝে এক চুল ব্যবধান নেই। দু’জনের জন্মই যেন লঙ্কান ক্রিকেটের সেবা করার জন্যে, হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই দায়িত্বই পালন করে এসেছেন। তাই তো সুযোগ পেলেই দু’জন দু’জনকে প্রশংসায় ভাসান। এই যেমন জয়াবর্ধনে সম্পর্কে সম্প্রতি সাঙ্গাকারার মূল্যায়ন, ‘মাহেলা আসলে ক্রিকেট দেখতে পেত। ক্রিকেটের সঙ্গে কথা বলত। ক্রিকেটের সঙ্গে বসবাস করত। ক্রিকেটে এমন ধ্যানমগ্ন সাধক আমি কমই দেখেছি। অনেকেই আমাদের বন্ধুত্বের কথা জানেন। কিন্তু এক অর্থে ও আমার গুরুতুল্য বন্ধু। ২০০০ সালে আমি যখন ক্রিকেটে আসি, সে তখন প্রতিষ্ঠিত। সহ-অধিনায়ক। নতুন হিসেবে আমাকে সাদরে গ্রহণ করে নিয়েছিল। এরপর ক্যরিয়ারে এত এত অর্জন সবকিছুতে বন্ধনটা দৃঢ় হয়েছে। ওর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাহায্য ছাড়া আমি আজকের সাঙ্গাকারা হতে পারতাম না।’

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: