মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কঠোর আইন করে নাশকতা দমনের দাবি

প্রকাশিত : ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • সংসদ সদস্যরা সোচ্চার

সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রয়োজনে যে কোন কঠোর আইন প্রণয়ন করে আন্দোলনের নামে নাশকতা-সহিংসতা ও জঙ্গীবাদ দমনের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। সোমবার অনির্ধারিত বিতর্কে অংশ নিয়ে তাঁরা হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন, এসএসসি পরীক্ষার সময় একজন শিক্ষার্থীর গায়ে আঘাত লাগলে বিএনপি নেত্রী রেহাই পাবেন না। তাঁকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়ে তাঁরা বলেন, স্বাভাবিক আইনী প্রক্রিয়ায় বিএনপি-জামায়াত জোটের নাশকতা দমন করা যাবে না। দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠন করে নাশকতাকারী ও হুকুমদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে আর কেউ দেশের মানুষের জীবন নিয়ে এমন নিষ্ঠুরতা দেখানোর সাহস পাবে না।

ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সোমবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত বিতর্কে অংশ নিয়ে তাঁরা এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়েও সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিএনপি-জামায়াত জোটের নাশকতা-সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করেন।

বিতর্কের সূত্রপাত করে সরকারী দলের আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন সুপ্রীমকোর্টে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকারকে উৎখাতের হুমকি দিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ করেছেন বিএনপির আইনজীবীরা। তাই এদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর এ্যাকশন নিতে হবে। স্বাভাবিক আইনী প্রক্রিয়ায় সহিংসতা-নাশকতা-জঙ্গীবাদ দমন পৃথিবীর কোথাও হয়নি। তাই প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়ন করে দ্রুত ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নাশকতাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, ২৪ দিন ধরে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। উনি (খালেদা জিয়া) কী দগ্ধ মানুষের আর্তনাদ ও ভীষণ যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারেন না? সন্তানহারা মা-বাবার বুকফাটা আর্তনাদ কী তাঁর কাছে পৌঁছায় না। তিনি বলেন, এসএসসির পরীক্ষার সময় একটি ছাত্রের গায়ে আঘাত লাগে, তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি- খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ১৫ লাখ পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারল না। পরবর্তী শুক্রবার যদি আবারও বিএনপি-জামায়াত হরতাল দেয় তখন কী হবে? অবরোধ-হরতালকারীরা নাশকতা-সহিংসতা অব্যাহত রাখলে তখন কী আবারও পরীক্ষা পেছাবে? এ নিয়ে সারাদেশে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতায় শিক্ষার্থীরাও চরম মানসিক বিপর্যয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে যে কোন আইন করে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে, কঠোরহস্তে দমন করতে হবে। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পরীক্ষার সময় একজন পরীক্ষার্থীর কিছু হলে তার দায়-দায়িত্ব কে নেবে? এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। তিনি এ ব্যাপারে স্পীকারের রুলিং দাবি করেন।

জবাবে ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী কোন নোটিশ দিলে অবশ্যই তা বিবেচনা করা যাবে। কারণ দেশের জনগণ এমন নৈরাজ্য-নাশকতা দেখতে চায় না, শান্তি চায়। তাই পয়েন্ট অব অর্ডারে নয় বিধি অনুযায়ী নোটিস দিতে তিনি ডাঃ ফরাজীকে পরামর্শ দেন।

এ প্রসঙ্গে সরকারী দলের আবদুর রহমান বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশকে মৃত্যুর উপত্যাকায় পরিণত করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। প্রতিদিন তিনি পুড়িয়ে লাশ ফেলছেন। কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা জীবনকেও ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছেন বিএনপি নেত্রী। দেশকে ব্যর্থ ও জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত করছেন। জনগণের সমর্থন না পেয়ে সব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়াই খালেদা জিয়া এখন প্রতিহিংসার আগুনে গোটা দেশকে জ্বালিয়ে দিতে চান। এখনও সময় আছে খালেদা জিয়া হরতাল-অবরোধের নামে নাশকতা বন্ধ না করুন, নইলে জনগণ ঘরে ঘরে তল্লাশি করে বোমাবাজ-পেট্রোলবোমা হামলাকারী ও তাদের হুকুমদাতাদের বের করে বিচার করবে।

সাবিনা আকতার তুহিন বলেন, বিএনপি নেত্রী ক্ষমতা যাবার জন্য পেট্রোল বোমা মেরে শিশু, মা, বোন ও ভাইদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করছেন। আর নিশ্চুপ নয়, আমরা আর মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা দেখতে চাই না। এসব নাশকতা বন্ধ না করলে অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করতে হবে। আর মানবতা লঙ্ঘন করলে খালেদা জিয়া মানুষের রোষানল থেকে মুক্তি পাবেন না।

মেট্রোরেলসহ তিন বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি ॥ আলোচিত মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে সংসদে পাস হওয়া মেট্রোরেল বিলসহ তিনটি বিলে সম্মতি প্রকাশ করে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। সোমবার বিলগুলোতে স্বাক্ষর করেন তিনি। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়া অপর দুটি বিল হলো- বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুত গবেষণা কাউন্সিল বিল-২০১৫ এবং বিদ্যুত ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) বিল-২০১৫।

প্রকাশিত : ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: