হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অনন্য অরুণা বিশ্বাস

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী ২০১৫
অনন্য অরুণা বিশ্বাস

অভিনেত্রী হিসেবে শুরুটা ছিল তাঁর রেডিওতে। এরপর টেলিভিশনে, তবে আলোচনায় আসেন তিনি চলচ্চিত্রের নায়িকা। বনেদী পরিবারের

সন্তান তিনি। তিনি অরুণা বিশ^াস। আপাদমস্তক শিল্পী মনোভাবাপন্নের যে ক‘জন শিল্পী আছেন আমাদের দেশে তেমনই ভাবনার একজন শিল্পী

তিনি। জীবনে অভিনয়ের বাইরে আর কোনকিছুতেই নিজেকে জড়ানোর চিন্তাও করেননি। এখন অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনাও দিচ্ছেন তিনি। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন অভি মঈনুদ্দীন। ছবি তুলেছেন আরিফ আহমেদ

আমাদের দেশের যাত্রা শিল্পের অগ্রপথিক ‘যাত্রা সম্রাট’ অমলেন্দু বিশ^াসের কন্যা অরুনা বিশ^াস। নিজ নামেই যিনি বাংলা ভাষাভাষী দর্শকের কাছে হয়ে উঠেছেন অনন্য তাঁর অভিনয়শৈলী দিয়ে। আবদুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় অরুণা বিশ^াস প্রথম অভিনয় করেন বাংলাদেশ বেতারের একটি নাটকে। এরপর তিনি জিয়া আনসারীর নির্দেশনায় নরেশ ভূঁইয়ার লেখায় ‘এখানেই জীবন’ নাটকে অভিনয় করেন। এরপরপরই প্রয়াত পরিচালক জহিরুল হক অরুণা বিশ^াসকে পরিচয় করিয়ে দেন নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে। নায়করাজ অরুণাকে দেখার পর তাঁর বাবা অমলেন্দু বিশ^াসের সঙ্গে কথা বলেন। অনুমতি পেয়ে অরুণা ও বাপ্পারাজকে জুটি করে নায়করাজ নির্মাণ করেন ‘চাপাডাঙ্গার বউ’ চলচ্চিত্রটি। এই ছবি দিয়েই চলচ্চিত্রের দর্শকের মনে ঠাঁই করে নেন অরুণা বিশ^াস ও বাপ্পারাজ। সেই থেকে শুরু হলো চলচ্চিত্রে অরুণার যাত্রা। এর ঠিক পরপরই অরুণা বিশ^াস খান আতাউর রহমানের নির্দেশনায় অভিনয় করেন ‘পরশ পাথর’ চলচ্চিত্রে। ১৯৮৭ সালে বাবা মারা যাবার কারণে চলচ্চিত্রে বেশকিছুদিন বিরতি নেন অরুণা বিশ^াস। প্রখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার মাহফুজুর রহমান খানের নির্দেশনায় ‘দুর্নাম’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আবারও চলচ্চিত্রের কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠেন অরুণা বিশ^াস। তরুণ হৃদয়ে ঝড় তোলা এক নায়িকার নাম তখন অরুণা বিশ^াস। একে একে অরুণা অভিনীত ‘দংশন’, ‘ইনকিলাব’, ‘বন্ধু বেঈমান’ ‘অকৃতজ্ঞ’, ‘মায়ের দোয়া’সহ আরও কিছু চলচ্চিত্র ব্যাপকভাবে দর্শকপ্রিয়তা পায়। অরুণা চলে এসেন আরও আলোচনায়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত অরুণা বিশ^াস ১১০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনয় জীবনের প্রাপ্তি হিসেবে দর্শকের ভালবাসাই সবসময় বড় করে দেখেছেন গুণী এই শিল্পী। অরুণা বিশ^াসের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘যাত্রা ভিশন’র যাত্রা শুরু হয় অরুণা বিশ^াসেরই নির্দেশনায় ‘লজ্জা’ নাটকটি নির্মাণের মধ্যদিয়ে। এ নাটকে অভিনয় করেছিলেন জাহিদ হাসান ও কুসুম শিকদার। তাঁর নির্দেশিত ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘সুরে আঁকা’, ‘বড় দিদি’, ‘নূপুর’ ইত্যাদি। এদিকে অরুণা বিশ্বাস বিটিভির (বাংলাদেশ টোলিভিশনের) ৫০ বছর পূর্তিতে একটি যাত্রাপালায় অভিনয় করেছেন। তাঁরই মা জ্যোৎ¯œা বিশ্বাসের নির্দেশনায় ‘চাঁদ সুলতানা’ শিরোনামের এ যাত্রাপালাটি বিটিভির ৫০ বছর পূর্তির বিশেষ অনুষ্ঠানমালায় প্রচার হয়। ঐতিহাসিক নারী বীরাঙ্গনা চরিত্র চাঁদ সুলতানাকে নিয়েই এ যাত্রাপালার কাহিনী গড়ে উঠেছে। এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অরুণা বিশ্বাস। এটি প্রচারের পর যারপরনাই রেসপন্স পেয়েছেন অরুণা বিশ্বাস। অরুণা বলেন, ‘বিশেষ দিবস ছাড়াও যেন বিটিভি নিয়মিত এ রকমের যাত্রাপলা প্রাচার অব্যাহত রাখে। কেননা একটি রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম হিসেবে দেশীয় সংস্কৃতির নানা ঐতিহ্য তুলে ধরার দায়িত্ব এই মাধ্যমটিরই। যাতে করে আমাদের নতুন প্রজন্ম যাত্রাপালার প্রতি আগ্রহী হয়।’ এদিকে চলচ্চিত্রে কিংবা নাটকে তাঁর উপস্থিতি মানেই ভিন্ন কিছু, মানেই ভাললাগার মতো কিছু। সবার প্রিয় অরুণা বিশ^াস এখন নির্মাণেও নিয়মিত হবার চেষ্টা করছেন। তবে তাঁর ভাললাগা কিংবা ভালবাসার জায়গা অভিনয়। ক্যামেরার পেছনে নয় সামনে থাকতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রাভিনেত্রী ও নাট্যনির্দেশক অরুণা বিশ^াসের নির্দেশনায় এবারই প্রথম একসঙ্গে একই টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন মনির খান শিমুল, লাক্স তারকাভিনেত্রী বাঁধন এবং চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে শায়লা সাবি। অরুণা বিশ^াসেরই রচনায় তাঁরা তিনজন ‘অথবা প্রেম নয়তো ভালোবাসা’ টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। আসছে ভালবাসা দিবসে এটি যে কোন স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হবে। মনির খান শিমুল বলেন, ‘অরুণা দিদি এদেশের একজন প্রতিথযশা অভিনেত্রী। ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান তিনি। যেহেতু তিনি অভিনেত্রী, তাই শিল্পীদের স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েই কাজ করিয়েছেন, এটা অনেক ভাল লেগেছে।’ বাঁধন বলেন, ‘অরুণা দিদির সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। একজন শিল্পীকে আবেগঘন দৃশ্যে অভিনয় করতে হলে যে কিছুটা সময় দিতে হয় সেটা দিদি বেশ ভাল বুঝেন। যে কারণে সে দৃশ্যটাও অনেক ভাল হয়। শিল্পীর কস্টিউম কী কী হবে তাও যে একজন পরিচালকের ভাবনার বিষয় হতে পারে তা দিদির কাছে শিখেছি। এমন একজন পরিচালকের কাজ ভাল হবেইÑ এমনটা নিশ্চিত বলতে পারি। সত্যিই দিদির সঙ্গে কাজ করে আমি মুগ্ধ।’ এদিকে আসছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এটিএন বাংলার জন্য অরুণা বিশ্বাস তাঁর নিজের গল্প ভাবনা নিয়ে মান্নান হীরার রচনায় নির্মাণ করেছেন বিশেষ নাটক ‘ধুলোর আকাশ’। এতে একটি বিশেষ চরিত্রে তাঁরই মা জ্যোৎ¯œা বিশ্বাসসহ আরও অভিনয় করেছেন শহীদুল আলম সাচ্চু, মীর সাব্বির, এশা ও আসিফ। তবে অরুণা বিশ^াস চলচ্চিত্র নির্মাণেরই স্বপ্ন দেখছেন এখন। নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুতও করছেন তিনি।

চলচ্চিত্রে আজকের এই অবস্থানে কোন্ মানুষটির কথা বিশেষভাবে বলতে চান আপনি? এমন প্রশ্নের জবাবে অরুণা বিশ^াস বলেন, ‘অবশ্যই সবার আগে বলব নায়করাজ রাজ্জাক কাকুর কথা। তিনি আমাকে চলচ্চিত্রে এনেছেন। আমার আজকের অরুণা বিশ^াস হয়ে উঠার পেছনে তাঁর অবদান অস্বীকার করার কোনই উপায় নেই। এরপর যে মানুষটি আমাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন তিনি হলেন প্রখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার মাহফুজুর রহমান খান। এত অমায়িক এবং বিনয়ী একজন মানুষ তিনি যা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। চলচ্চিত্রের শুরুতে বিরতির পর ‘দুর্নাম’ চলচ্চিত্রে তিনি আমাকে কামব্যাক করিয়েছিলেন। তাঁর ঋণ আমি কোনদিনই শোধ করতে পারব না। আল্লাহ দু’জনকেই ভাল রাখুন, সুস্থ রাখুন।’ এদিকে অরুণা বিশ^াসের দুই সন্তান ‘শুদ্ধ’ ও ‘পৃথিবী’ দু’জনই থাকেন কানাডায়। দেশের বাইরেই পড়ালেখার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন দু’জন। ‘শুদ্ধ’ ও ‘পৃথিবী’ই যেন তাঁর আগামীর স্বপ্ন। তাদের মানুষের মতো মানুষ করাটাই যেন এখন জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ অরুণার। অরুণার স্বপ্ন পূরণ হোক।

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী ২০১৫

২৯/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: