রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শীতে শাল

প্রকাশিত : ২ জানুয়ারী ২০১৫
  • তৌফিক অপু

গুটি গুটি পায়ে শীতের প্রকোপ বাড়ছে প্রকৃতিতে। বইছে কনকনে হিমেল হাওয়া। নবান্নের মাস অগ্রহায়ণকে পেছনে ফেলে শীত জানান দিচ্ছে পৌষ। বেড়ে যাচ্ছে শীতের আনাগোনা। যার ফলে পরিবর্তন আসছে দৈনন্দিন চলাফেরায়। পরিবর্তন ঘটেছে পোশাক-আশাকের শীতকে প্রাধান্য দিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে পোশাক। এ কারণে ফ্যাশন আউটলেটগুলোতে শীতের পোশাকের প্রাধান্য লক্ষণীয়। এবারের শীতের পোশাকের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পোশাকটি হচ্ছে শাল। চমৎকার বুনন এবং ডিজাইনের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে আকর্ষণীয় শাল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হচ্ছে এবারের শালগুলো বিভিন্ন ড্রেসের সাথে সমন্বয় করে প্রস্তুত করা হয়েছে। অর্থাৎ শাড়ি, পাঞ্জাবি, জিন্স, ফতুয়া, সালোয়ার-কামিজ ইত্যাদি ড্রেসের সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে শালের প্যার্টান এবং ডিজাইন প্রস্তুত করা হচ্ছে। কোন ড্রেসে কেমন শাল মানানসই তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করে তৈরি হচ্ছে শীতের শালÑএ সম্পর্কে ডিজাইনার রয়েল হাসান বলেন, গ্লোবালাইজেশনের যুগে ফ্যাশনের যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তা লক্ষণীয়। আর বিশ্বের এই অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়েই আমাদের চলতে হয়। একটা সময় শুধু শীত নিবারণ করার লক্ষ্যেই শাল ব্যবহার হতো, কিন্তু মানুষ এখন অনেকটাই ফ্যাশন সচেতন। যে কারণে দিনে দিনে পাল্টে যাচ্ছে ফ্যাশনের রুচি ও পছন্দ। এসব পরিবর্তনকে মাথায় রেখেই আমরা কাজ করে যাই। শালের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। নারী এবং পুরুষ ভেদে শালের ডিজাইন ভ্যারি করে। এছাড়াও আকৃতিগত বা কাঠামোগত পরিবর্তনও লক্ষণীয়। মেয়েদের শালের তুলনায় ছেলেদের শাল অপেক্ষাকৃত বড় হয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি ভ্যারিয়েশন লক্ষ্য করা যায় মেয়েদের শালে। কারণ ছেলেদের শালে খুব বেশি ডিজাইনের প্রয়োজন পড়ে না। অল্পকাজেই নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলা যায়। কিন্তু মেয়েদের শালগুলো আকর্ষণীয় করে তুলতে অনেক ডিজাইন ভ্যারিয়েশন দরকার পড়ে। যেমন শাড়ির সাথে কোন শালটা মানাবে কিংবা জিন্স, সালোয়ার কামিজে কোন শালটা ম্যাচ করবে তা নিয়ে ভেবে চিন্তে ডিজাইন বের করা হয়। এবারের শালগুলোতে খাদি, মোটা এবং চিকন উল ব্যবহার করা হয়েছে। হাতে বোনা মোটা কটনের শালও রয়েছে বাজারে। এছাড়া কাশ্মীরি সিল্কের শাল তো রয়েছেই। তাছাড়া প্রতিবছর শালের বাজারে বড় একটা অংশ দখল করে রাখে বার্মিজ শাল। ডিজাইনের ক্ষেত্রে শাড়ির সাথে ব্যবহার উপযোগী শালগুলোতে স্টোন এবং ক্রিস্টালের কাজ করা হয়েছে। গর্জিয়াস একেকটি শাল পাওয়া যাবে ১৮০০ টাকা থেকে ৪৫০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া সিম্পল শালগুলো ৬০০ টাকা থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। জিন্স, ফতুয়া কিংবা সালোয়ারকামিজে ব্যবহার উপযোগী শালে এম্বয়ডারি এবং হাতের কাজ প্রাধান্য পেয়েছে। এছাড়া পাইপিন দিয়ে বর্ডারের কাজ এবারের শালে এনেছে নতুনত্ব। এই শালগুলো রাফ এ্যান্ড টাফ ব্যবহার উপযোগী করেই প্রস্তুত করা। খদ্দরের চাদরের চিকন কাজের ফুলের ডিজাইনগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পাবে বলে আশা করা যায়। দামও হাতের নাগালে। ৫০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে খদ্দরের শাল। এছাড়া জিন্স, ফতুয়া, সালোয়ার কামিজ উপযোগী ফ্যাশনেবল শালগুলোও খুব বেশি দামের নয়। একেকটি শাল ৬০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। কালারফুল এ শালগুলো তরুণ প্রজন্মকে খুব বেশি আকর্ষিত করে। শীতের আমেজের প্রভাব এখন সবগুলো ফ্যাশন আউটলেটগুলোতে লক্ষণীয়। প্রায় প্রতিটি ফ্যাশন হাউসে শোভা পাচ্ছে আকর্ষণীয় সব শাল। শীতের পোশাক বিক্রয়কারী এক ফ্যাশন হাউসের বিক্রয় ম্যানেজার জানান, বর্তমান শাল তরুণ প্রজন্মের কাছে খুবই জনপ্রিয়। কয়েক বছর আগেও এ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু এখন পাঞ্জাবির, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ তো বটেই জিন্স, টি-শার্ট কিংবা শার্টের সাথেও শাল ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। তাছাড়া ঢাকা শহরে খুব বেশি শীত পড়ে না। যে কারণে শালেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন অনেকে। যার ফলে ফ্যাশনেবল এ শালগুলোর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। কালার এবং ডিজাইনে ভ্যারিয়েশন থাকায় যে যার পছন্দ এবং চাহিদা মতো শালটি সংগ্রহ করতে পারছে। আর এ কারণেই প্রয়োজনের পাশাপাশি শাল এখন ফ্যাশনের একটি অংশ হয়ে ধরা দিয়েছে ফ্যাশনপ্রেমীদের মাঝে।

ছবি : আজিম এলাহি

মডেল : তুর্য ও অন্তরা

পোশাক : কাপড়ি বাংলা ও আল ইসলাম

প্রকাশিত : ২ জানুয়ারী ২০১৫

০২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: