মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আগামী নির্বাচনে লড়তে চান হিলারি ও জেব বুশ

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪
  • এনামুল হক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০১৬ সালে। সেই নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং রিপাবলিকান দলের পক্ষ হয়ে লড়তে চাইছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের পুত্র ও আরেক প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ভ্রাতা জেব বুশ। চূড়ান্ত প্রার্থী হতে গেলে অবশ্য তাদের নিজ নিজ দলে প্রাথমিকভাবে জয়লাভ করতে হবে। তবে তারা যে নির্বাচনে দাঁড়াতে চান সেটা নিশ্চিত। ইতোমধ্যে তাঁরা এ সংক্রান্ত প্রচারকাজে নেমে পড়েছেন।

প্রচারাভিযানে নেমে হিলারি ক্লিনটন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বা অন্য কোন ইস্যু নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য করছেন না বরং আমেরিকার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর হতাশাকে পুঁজি করে বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ম্যাসাচুসেটস, ম্যাসাচুসেটস্ থেকে পেনসিলভানিয়া পর্যন্ত সর্বত্রই প্রদত্ত বক্তৃতায় হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, গত এক দশকে দেশের কর্মজীবী মানুষের ভাগ্যের কোন উন্নতি হয়নি। জীবনের যাত্রাপথে তারা কঠোর থেকে কঠোরতর নিষ্পেন্দ অনুভব করছে। তাই ভোটারদের এমন রাজনীতিকদের বেছে নিতে হবে যারা তাদের পাশে দাঁড়াবেন, জীবন যাত্রার উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিবেন। তাদের ন্যায্য হিস্যা আদায় করে নেবেন।

অর্থাৎ হিলারি নির্বাচনে বিশাল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সমর্থনের ওপর স্পষ্টতই নির্ভর করতে চাইছেন এবং সেজন্য তাদের দৃষ্টি আকর্ষণে নানা কথা বলছেন। বাস্তবেও আমেরিকার মধ্যবিত্ত শ্রেণী ভাল নেই। হালে অর্থনীতির কিছু পুনরুদ্ধার ঘটলেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকান তথা মধ্যবিত্ত তার কোন সুফল পায়নি। বরং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সমন্ব^য় ঘটালে চলতি বছর মধ্যবিত্তের আয় ২০০০ সালের আয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কম। দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকানের বেতন আজ ২০০২ সালের বেতনের চেয়ে ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ কম। বেশির ভাগ আমেরিকান প্রতিবছর দরিদ্র থেকে আরও দরিদ্র হচ্ছে।

এ অবস্থায় হিলারি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বার্তার উপর নির্ভর করে নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দিতে চাইছেন। তিনি তাদের সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। নানান আশার কথা শুনিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নতুন হিরোর ভূমিকায় আবির্ভূত হতে চাইছেন।

অবশ্য মার্কিন ভোটারদের হাতে চাঁদ ধরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি আগেও দেয়া হয়েছে এবং ২০১৬ সালও এদিক দিয়ে কোন ব্যতিক্রম হবে না। ওবামাও মধ্যবিত্তকে অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তবে হিলারি এ ব্যাপারে ওবামার সঙ্গে নিজের পার্থক্য টানতে চাইবেন। নিজের উদ্ভাবনীমূলক অনেক ধ্যানধারণা তুলে ধরবেন। কিছু কিছু ভোটার প্রার্থীদের কর্মকৈৗশলগত ধ্যানধারণার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকেন এটাও যেমন সত্য তেমনি আরেকটি সত্য হলো প্রাথমিক ধাপ পেরুনো ও নির্বাচনে হিলারির সাফল্য নির্ভর করছে তিনি নিজের ব্যাপারে জনগণের মনে আশা জাগাতে পারছেন কিনা তার উপর।

তবে ক্লিনটন পরিবার সম্পর্কে মার্কিন ভোটারদের স্মৃতির সবটুকু উৎসাহিত হবার মতো নয়। ক্লিনটন প্রশাসনের অনেক কার্যকলাপ ও ঘটনা তাদের জন্য সুখকর ছিল না। ওয়াল স্ট্রিটের সঙ্গে এই পরিবারের দহরম মহরম তাদের অজানা নয়। এটা হিলারির জন্য এক মস্ত নেতিবাচক দিক।

সমস্যার সমাধান জানেন জেব

ওদিকে ২০১৬ সালের নির্বাচনে সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে ভিতরে ভিতরে তৈরি হচ্ছেন ৬১ বছর বয়স্ক জেব বুশও। ফ্লোরিডার এই প্রাক্তন গবর্নর এক দশক ধরে রাজনীতির বাইরে। তথাপি তিনি মনে করেন দেশকে কী করে ঠিক করতে হয়, দেশের সমস্যা কীভাবে সমাধান করতে হয় সেটা তাঁর জানা। জেবের প্রার্থিতা নিয়ে কয়েক মাস ধরে জল্পনা কল্পনা চলার পর ১৬ ডিসেম্বর তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা তিনি সক্রিয়ভাবে যাচাই করবেন। জেব যে প্রার্থী হতে চান চলতি বছরের শেষলগ্নে সমস্ত লক্ষণ থেকে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তিনি অর্থসংগ্রহের জন্য একটি রাজনৈতিক কমিটি গঠন করেছেন। ইবুক রচনার কথা ঘোষণা করেছেন। রিপাবলিকান ডোনারদের বলেছেন, তাঁরা যেন অন্য কাউকে সাহায্য করার ব্যাপারে কথা না দিয়ে ফেলেন।

১ ডিসেম্বর কর্পোরেট নেতাদের উদ্দেশে জেব বলেন, আমেরিকানদের আসল সঙ্কটটা হলো তারা সুযোগের মুহূর্তগুলোকে ধরে ফেলতে ও কাজে লাগাতে পারছে না। সমস্যার সমাধান আমেরিকানদের সামনেই আছে। শুধু তাদের যা করতে হবে তা হচ্ছে পরিবর্তনকে আলিঙ্গন করা। জেব বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কার করে বাইরের প্রতিভাদীপ্ত ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের দিয়ে দেশ সয়লাব করে দিতে হবে। দেশের উৎপাদিত জ্বালানির সম্ব্যবহার করতে হবে। কে-১২ শিক্ষাব্যবস্থা পিছনে ছুড়ে দিতে হবে এবং কর ও স্বত্ব¡ ব্যবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত করতে হবে।

তবে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে জেব দলের কতটুকু সমর্থন পাবেন সেটা নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। সম্প্রতি তিনি দলের বাস্তবানুগ ও ব্যবসাÑপন্থী অংশের মুখপাত্রের ভূমিকা নিয়েছেন। তবে দল যেখানে বিভক্ত এবং ঘোরতর অসুখী পরিবারের মতো সেখানে তার ভূমিকা কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলা মুশকিল।

যাহোক হিলারি ও জেব দলীয় মনোনয়ন পেলে মার্কিন জনগণ আরেক ক্লিনটন-বুশ নির্বাচনী লড়াই দেখতে পাবে। সে নির্বাচনের ফল কী দাঁড়াবে বলা মুশকিল, তবে নির্বাচন যে জমজমাট হবে তাতে সন্দেহ নেই। সূত্র : টাইমস

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪

৩১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: