কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অদ্ভুত দাঁড়কাক ॥ আত্মজৈবনিক রচনার কারিগর জ্যামাইকা কিনকেইড

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪
  • আরিফুর সবুজ

অনেকেই বলেন আত্মজৈবনিক বই লেখা বড্ড সহজ। ইচ্ছে হলেই চোখ বুজে স্মৃতিচারণা করলাম আর লিখে ফেললামÑ অনেকে বিষয়টিকে এভাবেই দেখেন এবং এভাবেই ভাবেন। এটা সত্য, যে কেউ চাইলেই নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাপুঞ্জ লিখতে পারেন; সেটা দিনলিপি কিংবা ঘটনালিপি হতে পারে। হতে পারে আত্মজীবনী। কিন্তু আত্মজীবনী আর আত্মজৈবনিক উপন্যাস এক কথা নয়। আত্মজীবনীতে কল্পনা শক্তির প্রয়োজন নেই কিন্তু আত্মজৈবনিক উপন্যাসের জন্য অবশ্যই কল্পনা আর ধী শক্তি থাকতে হয়। বাস্তবতা আর কল্পনার মিশেলে লেখক আত্মজৈবনিক উপন্যাস লেখেন। সত্য আর কল্পনার অভূতপূর্ব সম্মিলন ঘটে আত্মজৈবনিক উপন্যাসে। এটি সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ এমন এক ধারা, যে ধারায় লেখকের জীবন সম্পর্কে আঁচ পাওয়া যায় আবার উপন্যাসের স্বাদও আস্বাদন করা যায়। লিউ তলস্তয়ের ‘ইয়ুথ’, চার্লস ডিকেন্সের ‘ডেভিড কপারফিল্ড’, ডিএইচ লরেন্সের ‘সনস এ্যান্ড লাভারস’, থমাস হিউগসের ‘টম ব্রাউন’স স্কুল ডে’, সমারসেট মমের ‘অফ হিউম্যান বন্ডেজ’, জেমস জয়েসের ‘এ পোট্রেট অব দ্য আর্টিস্ট স ইয়াং ম্যান’, হেনরি মিলারের ‘ট্রপিক অব ক্যান্সার’ ইত্যাদি বিখ্যাত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এমন খ্যাতিমান লেখকদের বিখ্যাত আত্মজৈবনিক উপন্যাসের সঙ্গে জ্যামাইকা কিনকেইডের আত্মজৈবনিক উপন্যাসগুলোও যোগ হয়ে আত্মজৈবনিক উপন্যাসের সাহিত্যে ধারাকে সমৃদ্ধ করে চলছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছোট্ট দ্বীপ এ্যান্টিগুয়া। সেই দ্বীপের আলো-বাতাসে আর স্বচ্ছ সমুদ্রের জলধারা দেখতে দেখতে বেড়ে ওঠা জ্যামাইকা কিনকেইড ভাবেননি কখনও লেখক হবেন। বই পড়ার ঝোঁক থাকলেও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত কিনকেইডকে জীবনসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়েছিল। কষ্টকর সেই সময়গুলোই পরবর্তীকালে তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল সাহিত্যে রচনায়। লেখালেখিতে তিনি নিজের জীবন অভিজ্ঞতাকে উপজীব্য করে নিয়েছিলেন এবং খ্যাতিও অর্জন করেন। নিজের জীবন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি পরিবারের দর্শন, সমাজ বাস্তবতা আর ঔপনিবেশিক শোষণের শিকার রাষ্ট্রের চিত্র তুলে ধরেছেন। তা করেছেন উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ কিংবা নিবন্ধ যাই হোক না কেন, সেখানেই। ফলে দেখা যায়, তাঁর প্রতিটি লেখাই হয়ে উঠেছে আত্মজৈবনিক।

কিনকেইডের লেখার মাঝে সত্য আছে। সেই সঙ্গে আছে কল্পনাও। সত্য আর কল্পনার মিশেলে তিনি জীবনের নানা ধাপে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর সঙ্গে পরিবার, সমাজ আর রাষ্ট্রের প্রকৃত পরিস্থিতিকে সাধারণীকরণের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরেছেন। উপনিবেশ এবং নব্য ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিষয়টি বারংবার তাঁর লেখায় উঠে এসেছে। মা-মেয়ের মধ্যকার অম্ল-মধুর সম্পর্ক, ব্রিটিশ ও আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনেবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা, বর্ণবাদ, শ্রেণী কাঠামো, ক্ষমতা ও অপরাধ ইত্যাদিকে থিম হিসেবে নিয়ে একের পর এক আত্মজৈবনিক বই লিখে গেছেন। তিনি সমাজকে তীক্ষèভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আবেগ-অনুভূতি আর লেখার ছন্দ মিশে তাঁর সাহিত্যেকর্ম অনবদ্য সাহিত্যে পরিণত হয়েছে। তাঁর সম্পর্কে বলতে গিয়ে নোবেল জয়ী ডেরেক ওয়ালকট বলেন, ‘কিনকেইড যদি একটি বাক্য লেখেন, সেই বাক্যের মাঝেই বক্তার অনুভূতি প্রকাশ পায়। সেই অনুভূতি সর্বজনীন। প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুসান সনট্যাগ কিনকেইডের লেখাকে আবেগিক সত্যবাদিতার উৎকৃষ্ট নমুনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অবশ্য অনেকে আবার তাঁকে রাগান্বিত লেখকের তকমা দিয়ে সমালোচনা করেছেন। আসলে, তাঁর প্রতিবাদের ভাষা এতই ঝঁাঁজালো, মনে হয় সবসময়ই তিনি রেগে আছেন। আলোচনা-সমালোচনা যাই হোক না কেন, জ্যামাইকা কিনকেইড খ্যাতিমান, কীর্তিমান।

এই খ্যাতিমান লেখক ১৯৪৯ সালে এ্যান্টিগুয়ার সেন্ট জনসের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময়টায় ক্যারেবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের এই ছোট্ট দ্বীপটি ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক শোষণের যাঁতাকলে শোষিত হচ্ছিল। জন্মের পর নাম রাখা হয়েছিল এলাইন পটার রিচার্ডসন। ছোট বয়সে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হলেও মায়ের ¯েœহ ভালবাসার মাঝেই তিনি বেড়ে ওঠেছিলেন। নয় বছর বয়স পর্যন্ত সৎ বাবার ঘরে মায়ের সান্নিধ্যই ছিল তাঁর শৈশবের একমাত্র আশ্রয়। ভালবাসার অবলম্বন। কিন্তু তিন ভাইয়ের জন্মের পর তাঁর কাছে মনে হয়েছিল, মা তাঁকে আর আগের মতো ভালবাসেন না। মা তাঁর চেয়েও তাঁর ভাইদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। একদিকে দারিদ্র্যে আর অন্যদিকে অবহেলা, এই দুটি বিষয় তাঁকে ভীষণ মনোকষ্ট দিচ্ছিল। সেই মনোবেদনা আমরা কিনকেইডের অনেক লেখাতেই খুঁজে পাই।

কিনকেইড ব্রিটিশ উপনিবেশের কঠোর শিক্ষা কাঠামোর মধ্যে লেখাপড়া করেছেন। তিনি ছিলেন ক্লাসের সেরা ছাত্রী। মেধাবী হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল, তা তিনি পাননি। এই বিষয়টি তাঁকে অসুখী করলেও তিনি লেখাপড়া চালিয়ে গিয়েছিলেন। বইয়ের প্রতি তীব্র আকর্ষণ থাকলেও, বই কেনার মতো টাকা ছিল না। তাই বই চুরি করে পড়তেন। টাকা চুরি করতেন। সেই টাকা দিয়ে বই কিনে বাড়ির নিচের মাকড়সার জাল বিছানো খুঁপড়ি ঘরে চুপিসারে বসে বসে পড়তেন। লেখাপড়ার প্রতি তীব্র আগ্রহ থাকলেও ভাগ্য সহায় ছিল না। সৎ বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্কুলের লেখাপড়া বাদ দিয়ে তাঁকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছিল। তখন বয়স ছিল কেবল তের। সেই বয়সে চাকরানী হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। কাজ করে যে দু’পয়সা উপার্জন করতেন তা মায়ের হাতে তুলে দিতেন।

সতের বছর বয়সে মা তাকে নিউইয়র্কে এক ধনীর বাড়িতে চাকরানী হিসেবে পাঠান। সেই বাড়িতে চাকরের কাজ করার ফাঁকে কিনকেইড কমিউনিটি কলেজে সান্ধ্যকালীন লেখাপড়া শুরু করেন। ওই সময়টাতে বিচ্ছিন্নতাবোধ আর নিঃসঙ্গতা তাঁকে কুরে কুরে খেয়েছে। মায়ের প্রতি বিদ্বেষ দানা বেঁধেছিল সেই সময়টাতে। মাকে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিন বছর পর চাকরানীর কাজ ছেড়ে দেন। কেননা ইতোমধ্যে তিনি নিউ হ্যাম্পসায়ারের ফ্রানকোনিয়া কলেজে বৃত্তি লাভ করেন। সেখানে বছর খানেক লেখাপড়া করে আবার নিউইয়র্কে ফিরে আসেন। শুরু করেন লেখালেখি। নিজের শৈশবের এলায়না পোটার রিচার্ডসন নামটি পাল্টিয়ে রাখেন জ্যামাইকা কিনকেইউ। এই নামেই তিনি আজ বিশ্ব পরিচিত। ‘দ্য ভিলেজ ভয়েস’ আর ‘ইনজেনিউ’ ম্যাগাজিনে লেখালেখি করেন। সেই সময় দ্য নিউইয়র্কারের বিখ্যাত কলাম ‘টক অব দ্য টাউন’র লেখক জর্জ ডব্লিউএস ট্রোর সঙ্গে বন্ধুত্বের সুবাধে পত্রিকাটির লিজেন্ডারি সম্পাদক উইলিয়াম শনের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি কিনকেইডের লেখা দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন। শন কিনকেইডের মাঝে প্রতিভার সন্ধান পেয়েছিলেন। কিনকেইডের অন্তর্নিহিত শক্তিকে কাজে লাগিয়েছিলেন শন। তাঁকে স্টাফ রাইটার হিসেবে নিযুক্ত করেন। সময়টা ছিল ১৯৭৬। শুরু হয়ে যায় কিনকেইডের নতুন করে পথ চলা।

কিনকেইড টক অব দ্য টাউনের কলাম লেখক হিসেবে নয় বছর কাজ করেন। সেই সময়টাতে তাঁকে প্রায়ই বিভিন্ন মহিলা প্রশ্ন করত নিউইয়র্কের চাকরিটি সে কিভাবে বাগিয়েছে তা জানার জন্য। এর কারণ একে তো তিনি কালো ছিলেন, তন্মধ্যে পরিচয় দেয়ার মতো কিছু ছিল না। তবে একটা জিনিস ছিলÑ প্রতিভা। স্টাফ রাইটার হিসেবে কিনকেইড পত্রিকাটিতে বিশ বছর কাজ করেন। এরপর তিনি পত্রিকাটির সম্পাদক টিনা ব্রাউনের সঙ্গে বাদানুবাদের কারণে পদত্যাগ করেন। এর কারণ ছিল টিনা ব্রাউন সাহিত্যের পরিবর্তে সেলিব্রেটিদের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া শুরু করেছিলেন। কিনকেইড এখন চাকরি করছেন না। লিখে যাচ্ছেন। অন্যায়, অবিচার, শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে নিরলস লিখে যাচ্ছেন। তাঁর লেখার আক্রমণাত্মক ঢংয়ে কেউ মুগ্ধ হচ্ছেন আবার কারও কারও পিত্তি জ্বলে উঠছে। সমালোচনার ঝাঁপি খুলে বসেছেন কেউ কেউ। কুছ পরোয়া নেহি। আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘ওল্ডম্যান ন্ড দ্য সি’ বইয়ের সেই বিখ্যাত উক্তি ‘হু কেয়ারস হু’Ñ যেন কিনকেইডের প্রতিবাদী, আক্রমণাত্মক লেখার মূলমন্ত্র।

১৯৭৮ সালে কিনকেইডের প্রথম ফিকশন নিউইয়র্কারে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে এটি ‘এ্যাট দ্য বটম অব দ্য রিভার’ নামে প্রকাশিত হয়। এটি ছেট গল্পের সঙ্কলন। ক্যারেবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ছোট্ট একটি দ্বীপে এক কিশোরীর বেড়ে ওঠা নিয়েই গল্পগুলো। অনেকটা কাব্যিক ঢংয়ে গল্পগুলো লেখা হয়েছে। বইটিতে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যে শোষণ চলছিল, তা তিনি বেশ চমৎকারভাবে তুলে ধরেন। এই বইটি ফুকনার এ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন এবং মর্টন ডারউইন ঝাবেল এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।

১৯৮৫ সালে প্রথম উপন্যাস হিসেবে ‘এ্যান্নি জন’ প্রকাশিত হয়। এই বইটির থিম ‘এ্যাট দ্য বটম অব দ্য রিভার’র মতোই। এতে কিনকেই শৈশবে মা-মেয়ের মাঝে যে ভালবাসার সম্পর্ক ছিল এবং তা কিভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তা বইয়ের নায়িকা এ্যান্নি জনের মধ্যে দিয়েই প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও বইটিতে তিনি ঔপনিবেশিক শোষণের চিত্র তুলে ধরেন। এই বইটির জন্য তিনি ইন্টারন্যাশনাল রিঝ প্যারিস হেমিংওয়ে ওয়ার্ড, এ্যানিফিল্ড উল্ফ বুক এ্যাওয়ার্ড এবং দ্য লিলা ওয়ালেস রিডার ডাইজেস্ট ফান্ড এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। কিনকেইড তাঁর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে রচনা করেছেন ‘মাই ব্রাদার’ বইটি। ভাইয়ের এইডসের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যাওয়ার বেদনার্ত কাহিনীই এই বইটির মূল উপজীব্য। এই বইটি ন্যাশনাল বুক এ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন লাভ করেছিল।

‘এ্যা স্মল প্লেস’ নামের নন-ফিকশন বইটিতে এ্যান্টিগুয়ার ঔপনিবেশিক শোষণ বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গদের কালোদের প্রতি অত্যাচারের বিষয়কে তুলে ধরেন। ঔপনিবেশিক শাসকরা দ্বীপটির মানুষকে কিভাবে শোষণ করে টাকা নিয়ে সুইস ব্যাংকে জমা করে, কিভাবে সমাজ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে তা তুলে ধরেন। কিন্তু অনেক সমালোচকই বইটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। সমালোচনার কারণ বইটির আক্রমণাত্মক ঢং। এই বইগুলো ছাড়াও আরও অনেক জনপ্রিয় বই কিনকেইড লিখেছেন।

কিনকেইডের ন্নি জোন (১৯৮৫), ওভানডো (১৯৮৯), লুসি (১৯৯০), দ্য ফিনিশিং লাইন (১৯৯০), বায়োগ্রাফি অব এ্যা ড্রেস (১৯৯২), সঙ অব রোল্যান্ড (১৯৯৩), ঝুলা (১৯৯৪), দ্য অটোবায়োগ্রাফি অফ মাই মাদার (১৯৯৫), মি.পটার (২০০২), সি নাও দেন (২০১৩) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। এ্যান্টিগুয়া ক্রসিং : এ ডিপ ন্ড ব্লু প্যাসেজ অন দ্য ক্যারেবিয়ান সি (১৯৭৮), ফিগারস ইন দ্য ডিসট্যান্স (১৯৮৩), এ স্মল প্লেস (১৯৮৮), অন সিইং ইংল্যান্ড ফর দ্য ফার্স্ট টাইম (১৯৯১), আউট অব কেনিয়া (১৯৯১), ফ্লাওয়ারস অব ইভিল : ইন দ্য গার্ডেন (১৯৯২), এ ফায়ার বাই আইস (১৯৯৩), দিজ আদার ইডেন (১৯৯৩), মাই ব্রাদার (১৯৯৭), ইন হিস্ট্রি (১৯৯৭), টক স্টোরিজ (২০০১), মাই গার্ডেন বুক (২০০১), এ্যামাঙ ফ্লাওয়ারস : এ ওয়াক ইন দ্য হিমালয়স (২০০৫) ইত্যাদি কিনকেইডের উল্লেখযোগ্য নন-ফিকশন বই। তাছাড়া তিনি অল দ্য বটম অব দ্য রিভার (১৯৮৩) নামের একটি ছোট গল্পের বই এবং ছোটদের জন্য এ্যান্নি, জিয়ুইন, লিলি, পাম এ্যান্ড টিউলিপ (১৯৮৬) বইটি লেখেন।

কিনকেইড সাহিত্যে রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। তাঁর একমাত্র ছোট গল্পের বই ‘এ্যাট দ্য বটম অব দ্য রিভার’র জন্য মর্টন ডাওয়েন ঝাবেল এ্যাওয়ার্ডের মধ্যে দিয়ে পুরস্কার পাওয়া শুরু হয়। এরপর তিনি ফুকনার ওয়ার্ড, গুগেনহেইম এ্যাওয়ার্ড, এ্যানিসফিল্ড-উল্ফ বুক এ্যাওয়ার্ড, লানান লিটেরেরি এ্যাওয়ার্ড, প্রিক্স ফেমিনা ইট্রেনজার এ্যাওয়ার্ড, আমেরিকান একাডেমি অব আর্টস এ্যান্ড লেটারস, লিলা ওয়ালেস রিডারস ডাইজেস্ট এ্যাওয়ার্ডসহ অনেক পুরস্কার লাভ করেছেন।

এখন জ্যামাইকা কিনকেইডের আর্থিক স্বচ্ছলতা আছে। তাকে খাওয়া পরার জন্য কষ্ট করে টাকা পয়সা রুজি করতে হয় না। কিন্তু শৈশব, কৈশোর আর জীবনের সেই কষ্ট এখনও তাকে পোড়ায়। দগ্ধ করে। তাই তিনি এখনও দারিদ্র্যে আর সমাজের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লিখে যাচ্ছেন।

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪

১৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: