মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন ॥ অপহরণ ও হত্যার বর্ণনা দিলেন র‌্যাব সদস্য নুরুজ্জামান

প্রকাশিত : ৪ ডিসেম্বর ২০১৪

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ ৭ খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মাগুরা থেকে গ্রেফতার র‌্যাব-১১ এর সদস্য মোঃ নুরুজ্জামান নিপু হত্যার দায় স্বীকার করে এবং অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

বুধবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকীর খাস কামরায় পৃৃথক দুটি মামলায় এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কেএম ফজলুর রহমান।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে মাগুরা পুলিশের সহায়তায় মাগুরা শহরের চৌরঙ্গীর মোড় কাজী টাওয়ার মার্কেটে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিপু ফ্যাশন থেকে র‌্যাবের সদস্য (সেনা বাহিনীর সদস্য) মোঃ নুরুজ্জামানকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পরে তাকে বুধবার সকালে আদালতে নেয়া হলে র‌্যাবের সদস্য নুরুজ্জামান স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর ইচ্ছা প্রকাশ করলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ম-ল আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন জানান, ৭ জনকে অপহরণ ও খুনের ঘটনার সঙ্গে র‌্যাবের সদস্যরা কে কোন কোন দায়িত্ব পালন করেছে এবং সে নিজে কী দায়িত্ব পালন করেছেন সেসব বিষয়ে অপহরণ ও খুনের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক প্রদান করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে অনুসরণ করতে মেজর আরিফ হোসেনের নির্দেশে অপহরণের ঘটনার ২৭ এপ্রিল সকাল ৮টায় নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আসেন র‌্যাবের সদস্য নুরুজ্জামানসহ আরও এক সদস্য সাদা পোশাকে আদালতপাড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন। কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের অনুসরণ করতে থাকেন তাঁরা। একপর্যায়ে তাদের (র‌্যাব) এক সদস্যকে কাউন্সিলর নজরুলের লোকজন আটক করে ফেলে। তখন সে নিজেকে র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিলে পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। যখন কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা আদালতে মামলার হাজিরা দিয়ে একটি এক্স করোলো সাদা প্রাইভেটকারযোগে বের হয়ে যাওয়ার সময় তারা একটি মাইক্রোবাসযোগে তাদের অনুসরণ করতে থাকেন এবং মোবাইল ফোনে র‌্যাবের কর্মকর্তা মেজর আরিফ হোসেনকে বিষয়টি জানান। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশের ফতুল্লার স্টেডিয়ামের অদূরে র‌্যাবের চেকপোস্টে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারের দুটি প্রাইভেটকার সিগন্যালে থামায় এবং নজরুলসহ অন্যদের তিনিসহ র‌্যাবের অন্য সদস্যরা গাড়ি থেকে বের করে র‌্যাবের মাইক্রোবাসে তোলে। পরে তাদের নিয়ে নরসিংদীর দিকে চলে যায়। পরে মেজর আরিফের নির্দেশে মাইক্রোবাসেই র‌্যাবের অন্য সদস্যরা কাউন্সিলর নজরুলসহ ৭ জনকে ইনজজেকশন পুশ করে এবং মাথায় পলিথিন পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। সেসময় তিনি ওই মাইক্রোবাসে ছিলেন। পরে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে গুমের জন্য ইট বেঁধে ভরার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে (র‌্যাবের নরুজ্জামান)। সে বস্তায় ইট ভরার পর র‌্যাবের অন্য সদস্যরা লাশের সঙ্গে বেঁধে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয় জনের ও পরদিন ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রকাশিত : ৪ ডিসেম্বর ২০১৪

০৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: