মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রো ড টু মে ল বো র্ন

প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর ২০১৪

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম আসর বসে ১৯৭৫ সালে। প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল ‘ক্রিকেটের পিতা’ ইংল্যান্ড। কেবলমাত্র প্রথম বিশ্বকাপই নয়, এর পরের দু’টো বিশ্বকাপেরও আয়োজক ছিল ইংরেজরাই। কেননা আইসিসি মনে করেছিল ইংরেজরা ছাড়া বিশ্বকাপের মতো এত বড় আসর আর কোন দেশ আয়োজন করতে পারবে না। তবে আইসিসির সে ভাবনা যে ঠিক ছিল না সেটা চতুর্থ বিশ্বকাপেই প্রমাণ হয়ে যায়। ১৯৮৭ সালে প্রথম ইংল্যান্ডের বাইরে প্রথমবার ভারত-পাকিস্তান যৌথভাবে সফলভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করে আইসিসি’র সে ভুল ভেঙ্গে দেয়। যদিও আইসিসি বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্তটা নিয়েছিল ১৯৭৩ সালে। ১৯৭১ সালে প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের অভাবনীয় সাফল্যের পর আইসিসি সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আয়োজন করবে। প্রতি ৪ বছর পর পর বিশ্বকাপের আসর বসবে। তবে মেয়েদের বিশ্বকাপটা সে বছরই শুরু হলেও পুরুষ বিশ্বকাপ আয়োজনে বিলম্ব ঘটে। পার হয়ে যায় দু’বছর। সমস্যা দেখা দেয় ‘স্পন্সর’ পাওয়া নিয়ে। এতবড় আসরের স্পন্সর মিলছিল না। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ‘প্রুডেনশিয়াল কোম্পানি’ এগিয়ে আসে। তারা প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের স্পন্সরের হতে আগ্রহ প্রকাশ করে। আর তাই প্রথম বিশ্বকাপের নাম হয় ‘প্রুডেনশিয়াল কাপ’। খেলা হয় ৬০ ওভারের। কেবলমাত্র প্রথম বিশ্বকাপেই নয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিশ্বকাপে খেলাও হয় প্রতি ইনিংসে ৬০ ওভার করে। প্রথম বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১৫টি।

প্রথম বিশ্বকাপ : ইংল্যান্ড ১৯৭৫

ক্যারিবীয় ক্রিকেটের বিজয় ॥ প্রথম বিশ্বকাপে আইসিসির পূর্ণ সদস্য ৬টি দেশ স্বাগতিক ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগী সদস্যদেশ শ্রীলঙ্কা ও পূর্ব আফ্রিকা অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী ৮টি দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়। এ গ্রুপে ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও পূর্ব আফ্রিকা ও বি গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা অংশগ্রহণ করে। ৭ জুন বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ঐতিহাসিক সূচনাম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী দিনেই ৮টি দল অভিষেক ম্যাচে অংশ নেয়। একই সময়ে ৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় কে আগে খেলেছে কে পরে খেলেছে তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। অভিষেক ম্যাচে লর্ডসে ইংল্যান্ড ২০২ রানে ভারতকে, লিডসের হেডিংলিতে অস্ট্রেলিয়া ৭৩ রানে পাকিস্তানকে, ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯ উইকেটে শ্রীলঙ্কাকে ও এজবাস্টনে নিউজিল্যান্ড ১৮১ রানে পূর্ব আফ্রিকাকে হারিয়ে জয় পায়। ইংল্যান্ডের ডেনিস এমিস ও নিউজিল্যান্ডের গ্লেনমেট টার্নার অভিষেক ম্যাচে শতরান করার কৃতিত্ব দেখান। অস্ট্রেলিয়ার ডেনিস লিলি অভিষেক ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৪ রানে ৫ উইকেট নেয়ার অনবদ্য গৌরব অর্জন করেন।

এ গ্রুপ থেকে ইংল্যান্ড প্রতিপক্ষ ভারত, নিউজিল্যান্ড ও পূর্ব আফ্রিকার বিপক্ষে জিতে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে এবং নিউজিল্যান্ড ভারত ও পূর্ব আফ্রিকার বিপক্ষে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে। বি গ্রুপ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে এবং অস্ট্রেলিয়া দল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে। হেডিংলির প্রথম সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া (২৮.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ৯৪ রান) স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে (৩৬.২ ওভারে ৯৩ রান) হারিয়ে ফাইনালে খেলার টিকিট পায়। কেনসিংটন ওভালের অপর সেমি-ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৪০.১ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৯ রান) নিউজিল্যান্ডকে (৫২.২ ওভারে ১৫৮ রান) হারিয়ে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ হয়। ২১ জুন লর্ডসের ফাইনালে টসে জিতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠায়। অস্ট্রেলিয়ার সে সিদ্ধান্ত যে ঠিক ছিল না সেটা প্রমাণ করতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোটেও অসুবিধে হয়নি। ক্যারিবিয়রা পুরো ৬০ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯১ রানের সে সময়ের বেশ বড় সড় একটা ইনিংস গড়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড খেললেন ১০২ রানের এক অনুপম ইনিংস। তাকে ৫৫ রান করে সঙ্গ দেন রোহন কানহাই। এ ইনিংসই বলে দেয় কাপ পশ্চিমা ভারতীয়দের। তখন আজকের মতো হরহামেশা ৩০০/৪০০ রানের ইনিংসের ছড়াছড়ি ছিল না। তখনকার সময়ে ৩০০ রানের ইনিংস অনেকটা স্বপ্নের মতো ছিল। ফলে যা হবার তাই হলো। কোন অঘটন ছাড়াই শেষ হলো প্রথম বিশ্বকাপের স্বপ্নের ফাইনাল। ২৯১ রানের জবাব দিতে গিয়ে অনেক লড়াই সংগ্রামের পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হলো (৫৮.৪ ওভারে অলআউট) ২৭৪ রানে। ক্যারিবীয় পেসার টনি বয়েস নিলেন ৫০ রানে ৪ উইকেট। ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম বিশ্বকাপ জিতল ১৭ রানে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক আয়ান চ্যাপেলের ৬২ রান ও গ্যারি গিলমোরের ৪৮ রানে ৫ উইকেট কোন কাজেই এলো না। এ বিশ্বকাপের ফাইনালের লড়াইটা ছিল মূলত দুই অধিনায়কের। তাতে শেষ হাসিটা হাসেন লয়েডই। ক্লাইভ লয়েড নিজে হলেন ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল।’ প্রথম বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ভারতের বিপক্ষে ৩৩৪/৫ রানের যে ইনিংস খেলে এটি এ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ইনিংস। আর চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বনিম্ন ৮৬ রানের ইনিংসটি খেলে শ্রীলঙ্কা। ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ড ২০২ রানের বড় জয়টি পায়। অপরদিকে ভারত পূর্ব আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ১০ উইকেটের জয় পায়। নিউজিল্যান্ডের জিএম টার্নার ৪ মাচে ১৬৬.৫০ গড়ে সর্বাধিক ৩৩৩ রান করেন ও অস্ট্রেলিযার গ্যারি গিলমোর মাত্র ২টি ম্যাচ খেলে ৫.৫৩ গড়ে সর্বাধিক ১১টি উইকেট নেন। চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের নেতৃত্ব দেন ক্লাইভ লয়েড এবং রানার্স আপ অস্ট্রেলিয়ার আয়ান চ্যাপেল। প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেন ইংল্যান্ডের ডিকি বার্ড এবং টি ডব্লিউ স্পেন্সার।

(চলবে) e-mail : syedmazharulparvez@gmail.com

প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর ২০১৪

০৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: