আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এইচএসসির পর উচ্চশিক্ষা এবার ভর্তির প্রতিযোগিতা

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫

শেষ হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। তাই বলে কি প্রাণ খুলে আড্ডা দেয়ার উপায় আছে? আবারও নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধের জন্য। কারণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ইচ্ছা কার না থাকে? এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকে নানা ভীতি। কী ধরনের প্রশ্ন হবে, কিভাবে উত্তর দেব, কিভাবে নিজেকে তৈরি করবÑএসব চিন্তা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী বিভাগে ভর্তি হওয়া নুসরাত জাহান এবং আইন বিভাগে ভর্তি হওয়া ইফতি বললেন, কিভাবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর স্বপ্ন কী রকম ছিল এমন প্রশ্নে নুসরাত বলেন, আমার গ্রামের বাড়ির বড় ভাইয়া ও আপুদের দেখে যারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন, তাছাড়া আমার আম্মুর দিকনির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দানা বেঁধেছিল সেই অষ্টম শ্রেণীতে থেকেই। এই লক্ষ্যে আমি নিয়মিত আমার ক্লাসের বই পড়ার পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞানের বই ও জাতীয় দৈনিকগুলো পড়তাম। একদিকে জানার আগ্রহ, অন্যদিকে নিজেকে তৈরি করার জন্য। ইফতি বলেন, আমি এসএসসি পরীক্ষার পরে আমার খালাত বোনের সঙ্গে একবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে এসেছিলাম তখনই নিজের স্বপ্ন তৈরি করি, এখানে ভর্তি হয়ে বিচারক হতে হবে। তারা উভয়ে বলেন, জ্ঞানের বিষয় কিন্তু চর্চানির্ভর। প্রশ্ন ছিল ইংরেজীর প্রস্তুতি কিভাবে নিয়েছিলেন? উত্তরে তারা বলেন, ‘ইংরেজী আন্তর্জাতিক ভাষা। ইংরেজীকে বাদ দিয়ে চলা যায় না। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু ইংরেজী ও আইনই নয় অন্য যে কোন বিষয়ে পড়ার জন্য ইংরেজীতে ভাল নম্বর পাওয়ার বিকল্প নেই। এ জন্য ইংরেজী ব্যাকরণের প্রস্তুতি ভালভাবেই নিয়েছিলাম।’ নিয়মিত ইংরেজী পত্রিকা পড়াটা জরুরী বলে মনে করেন তারা। ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজী ব্যাকরণের জন্য অনেক বই না দেখে একটি ভালো বই অনুসরণ করা উচিত। প্রতিদিন ইংরেজী ব্যাকরণ চর্চা করা দরকার বলেও মনে করেন তারা। নুসরাত বলেন, অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ ডিক্সনারি থেকে ব্যাকরণের নিয়মগুলো দেখেছি। বার বার পড়তাম ইংরেজীর মূল বই।’ বাংলা বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে নুসরাত ও ইফতি উভয়ই বললেন, বাংলা ব্যাকরণের জন্য নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ডের বইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলাম। খুব ভালভাবে পড়েছি বাংলা মূল বই। ভর্তিযুদ্ধ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল কতটা গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বলেন, নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তার মানে কিন্তু এমনটা নয়, জিপিএ-৫ এর ছড়াছড়িতে আপনি ৫ পয়েন্টের চেয়ে কম পেয়েছেন বলে টিকতে পারবেন না। একটু জোর দিয়েই ইফতি বললেন, এ ক্ষেত্রে অনুশীলন ভর্তিযুদ্ধের বৈতরণী পার হতে খুবই সহায়তা করবে। ওরা দু’জনই কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, ভর্তি পরীক্ষায় ভাল করতে কোচিংয়ের প্রয়োজনীয়তা কতখানি? এখানেও তাঁরা একমত পোষণ করেন।

তাঁরা বলেন, কোচিং সেন্টারগুলো কিন্তু একজন শিক্ষার্থীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেয় না। নিজের যোগ্যতা দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ তৈরি করতে হয়। তবে কোচিং সেন্টারগুলো ভর্তির প্রস্তুতি কিভাবে নিতে হয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতি কেমন হবে, সে বিষয়ে ধারণা দিয়ে থাকে। পড়াশোনা করতে হবে নিজেকেই। কেউ পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেবে না। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ইচ্ছুকদের কিভাবে প্রস্তুতি নেয়া উচিত এ প্রশ্ন করলে তাঁরা বলেন, ফলাফল নিয়ে চিন্তা না করে বই নিয়ে বসে পড়া উচিত। কেননা সময় নষ্ট করা মানে নিজের জীবন নষ্ট করা। নুসরাত জাহান ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলেন, স্বপ্ন দেখাটা স্বপ্ন নয়, বরং স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করাই হলো স্বপ্ন। আর তাই স্বপ্ন দেখে সময় নষ্ট না করে স্বপ্ন বাস্তবায়নে লেগে পড়ো। তবেই দেশের শীর্ষ স্থানীয় সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা খোলা থাকবে তোমার জন্য।

ইমাদুল হক প্রিন্স

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫

২৮/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: