মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাজেটে সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের

প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাজেটে সংস্কৃতিখাতে আরও অর্থ বরাদ্দ ও বিভিন্ন কার্যত্রম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বুধবার সকালে আয়োজিত এ সাংবাদিক সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেনÑ জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হিরা, গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ড. মোহাম্মদ সামাদ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আকতারুজ্জামান প্রমুখ।

শুরুতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোট সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। সংস্কৃতিখাতে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্কৃতি হলো একটি জাতির পরিচয় নির্ধারণের মাপকাঠি। ইতিহাস, ঐতিহ্য, নীতি-নৈতিকতা সামাজিক মূল্যবোধ, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশ এবং সামগ্রিকভাবে জীবনবোধের প্রকাশ ঘটে জাতির সংস্কৃতি নির্মাণের মধ্য দিয়ে। নানাবিধ ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে আজ দেশে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে নানাবিধ অগ্রগতি হলেও সংস্কৃতি বিকাশ ও লালনের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জিত হয়নি। রাজধানীর সীমিত অঞ্চল এবং জেলা শহরগুলোতে দেশের সংস্কৃতিচর্চা সীমাবদ্ধ বলা যেতে পারে। তৃণমূল পর্যায় থেকে সংস্কৃতিকে পরিচর্যা করার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রায় অনুপস্থিত। এক কোটি লোকের আবাস ঢাকা মহানগরে রাষ্ট্রীয়ভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড একটি কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ। মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ীসহ বৃহত্তর অঞ্চলে আধুনিক কোন মিলনায়তন এমনকি মহড়া প্রদানের সামান্যতম সুযোগ-সুবিধাও নেই। সংস্কৃতিক্ষেত্রে বিরাজিত নানাবিধ সঙ্কট দূর করে একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ তৈরির ক্ষেত্রে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ইতোপূর্বে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ২১ দফা দাবিনামা উত্থাপন করেছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সে সমস্ত দাবি বাস্তবায়নে সরকারী কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

তিনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঘোষিত বাজেটে আশুদাবি হিসেবে জরুরী ভিত্তিতে সরকারের প্রতি বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছেÑ জাতীয় বাজেটের এক শতাংশ সংস্কৃতিক্ষেত্রে বরাদ্দ প্রদান, ক্রিয়াশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহের জন্য বাৎসরিক অনুদান বর্তমান বাজেটে ১০ কোটি টাকা এবং অসচ্ছল সংস্কৃতিসেবীদের অনুদান ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান, জাতীয়ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ফেডারেশনসমূহকে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচীর ভিত্তিতে দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান, তৃণমূল পর্যায়ে সংস্কৃতিকে লালন ও বিকশিত করার লক্ষে উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমি গঠনের পাশাপাশি সেখানে মঞ্চ ও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের জন্য বরাদ্দ, প্রত্যেক জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সাংস্কৃতিক বিষয়ে স্থায়ী প্রশিক্ষক নিয়োগ ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- আয়োজনের জন্য বাৎসরিক বরাদ্দ বৃদ্ধি, ঢাকা শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০টি মিলনায়তন নির্মাণের জন্য জরুরী পদক্ষেপ, সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের জন্য মহড়া কক্ষ নির্মাণে বরাদ্দ ও ঢাকায় শিল্পীদের অস্থায়ী আবাসনের জন্য ডরমেটরি নির্মাণ, বিদেশ থেকে অবাণিজ্যিক ভিত্তিতে সাংস্কৃতিক দল ও শিল্পী আনয়নের ক্ষেত্রে জটিলতার অবসান এবং শুধুমাত্র অবাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎসব ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যে সব বিদেশী শিল্পী অংশ নেবেন তাদের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ছাড়পত্র গ্রহণের বর্তমান বিধান রহিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্যরা বলেন, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। অবশ্যই সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ বাড়াতে হবে। পৃথিবীর বুকে আমাদের সংস্কৃতিকে যাতে মান সম্মতভাবে তুলে ধরতে পারি, সেক্ষেত্রে দেশীয় সংস্কৃতির অগ্রগতির প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমরা যখন বিদেশে সাংস্কৃতিক দল বা লোক নিয়ে যাই কোন অনুষ্ঠানে সেক্ষেত্রে তেমন ভোগান্তি হয় না, কিন্তু বিদেশ থেকে কোন সংগঠন বা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের আনতে যাই তখন নানারকম ভোগান্তি হয়। সরকার যেন এ দিকে নজর দেন। আমাদের সংস্কৃতি আমাদের পরিচয়। কাজেই এর উন্নয়নে অর্থনৈতিক বরাদ্দ খুবই জরুরী।

প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০১৫

২৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: