কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নিজ অঞ্চলে একঘরে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫

সম্প্রতি পানামা সিটিতে হয়ে গেল দুই আমেরিকার রাষ্ট্রপুঞ্জের শীর্ষ বৈঠক। শীর্ষ বৈঠকের রূঢ় বাস্তবতা হলো এই যে, এতে একদিকে যেমন মৌলিক ইস্যুগুলোতে ক্যারিবীয় ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর ঐক্য ও সংহতির অভিপ্রকাশ ঘটেছে তেমনি আবার এই সংস্থায় বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাকিত্ব বা একঘরে হয়ে পড়াও পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।

এবারের শীর্ষ বৈঠক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের নাটকীয় ঘোষণার পটভূমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অবশেষে ওবামা ও তার উপদেষ্টাদের বোধোদয় ঘটেছে যে তাদের এতদিনের কিউবা নীতি চালিয়ে যাওয়া ঠিক হচ্ছিল না। পানামা সিটিতে দুই প্রেসিডেন্টের এক ঘণ্টারও ওপর স্থায়ী বৈঠকের পর ওবামা বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটেছে এবং কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুমকি নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর কিউবার সরকার পরিবর্তনের কাজে যুক্ত নয়।

অন্যদিকে রাউল ক্যাস্ট্রো তাঁর বক্তব্যে ঊনবিংশ শতকের শেষ ভাগ থেকে কিউবা ও আমেরিকা মহাদেশের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবিচারের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরবর্তী পর্যায়ে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারগুলোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং ২০টি দেশে বসিয়ে দেয়া হয় হিংস্র একনায়কতন্ত্র, যার বেশিরভাগই দক্ষিণ আমেরিকার। সেখানে হাজারও মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়। কিউবার ওপর মার্কিন অবরোধের পরিণতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এই অবরোধের কারণে কিউবার সাধারণ মানুষকে অশেষ দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে অবরোধের এই অবর্ণনীয় ক্লেশের মধ্যে কিউবার ৭৭ শতাংশ মানুষের জন্ম হয়েছে। অবরোধ তাদের সংকল্পকে ভাংতে পারেনি বরং ইস্পাত কঠিন করে তুলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শীর্ষ বৈঠক শেষে ওবামা ঘোষণা করেন যে, ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে সন্ত্রাস রফতানিকারক রাষ্ট্রের তালিকায় ফেলেছিল। এখন সেই তালিকা থেকে কিউবার নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

কিন্তু কিউবা নীতির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ওবামা যেসব কূটনৈতিক সুফল ঘরে তুলেছিলেন তার প্রায় সবটাই ভেস্তে গেছে ভেনিজুয়েলার ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে। দুই আমেরিকার সিংহভাগ রাষ্ট্র এই অবরোধের বিরোধিতা করেছে।

গত মার্চ মাসে ওবামা প্রশাসন ভেনিজুয়েলার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি হওয়ার কারণে উদ্ভূত জাতীয় জরুরী পরিস্থিতি ঘোষণা করে দেশটার ওপর অবরোধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্র যে অজুহাত তুলে কিউবার ওপর অবরোধ দিয়েছিল ভেনিজুয়েলার ক্ষেত্রেও একই অজুহাত দেখায়। অথচ যেখানে কিউবার ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে সেখানে অবরোধ দিয়ে বসেছে ভেনিজুয়েলার ওপর। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, এই অবরোধ হবে কঠোরতর। বলাবাহুল্য যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং সে দেশটির তেলের প্রধান বাজার। ওবামার ভেনিজুয়েলা নীতি এবারের শীর্ষ বৈঠকের ওপর দীর্ঘ ছায়া বিস্তার করে। ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মার্কিন হস্তক্ষেপ শীর্ষ বৈঠকের প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। কানাডা বাদে এ অঞ্চলের সকল দেশে এই অবরোধের বিরোধিতা করে। এ অঞ্চলের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠী, জি-৭৭, নাম, চীন ও মার্কিন পদক্ষেপের সমালোচনায় মুখর হয় এবং ভেনিজুয়েলার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।

শীর্ষ বৈঠকের আগে ওবামা অবশ্য বলেছিলেন যে ভেনিজুয়েলা মার্কিন নিরাপত্তার প্রতি হুমকি নয়। অবরোধটা যাতে আইনসম্মতভাবে আরোপ করা যায় তার জন্য স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে হোয়াইট হাউসের ওই ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়া ওবামার এই সংক্রান্ত বক্তব্য নির্বাহী আদেশকে বাজে মশকরা বলে অভিহিত করেন এবং বলেন এ ঘটনা আমেরিকার অন্ধকারতম অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যখন সাম্রাজ্যবাদীরা হামলা চালাত এবং জোর করে একনায়কতন্ত্র চাপিয়ে দিত। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অবরোধ বাতিলের দাবি জানিয়ে তার দেশের ১ কোটি ৩০ লাখ নাগরিকের স্বাক্ষর সংবলিত একটি স্মারকপত্র নিয়ে শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন। ২০১২ সালের মতো এবারের শীর্ষ বৈঠকও চূড়ান্ত ঘোষণা সম্পর্কে কোন মতৈক্য ছাড়াই শেষ হয়। উপস্থিত অন্য ৩৩টি দেশ খসড়া ঘোষণার ব্যাপারে একমত হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা এতে ভেটো দেয়।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : ফ্রন্টলাইন

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৫

১৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: