কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গোল্লাছুটের নাম শোনেনি এমন মানুষ মেলা ভার

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫

কালচক্রে বিলুপ্ত হতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সব খেলাধুলা। গ্রামীণ এসব খেলাধুলা আজ হারাতে বসেছে। বউছি, গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা, হা-ডু-ডু, এক্কাদোক্কা, ইকরি মিকরি, কানামাছি, কড়িখেলা, কুতকুত, টোপাভাতি, ডাংগুলি, বাঘ ছাগল খেলাসহ নানা রকমারী গ্রামীণ খেলাধুলা আজ আর চোখে পড়ে না তেমন। এমনি গ্রামবাংলার একটি জনপ্রিয় খেলা ‘গোল্লাছুট’। সময়ের পরিক্রমায় এ খেলাটিও হারিয়ে যেতে বসলেও এখনও গ্রামগঞ্জের অনেক স্থানেই শিশু কিশোর তরুণ তরুণীদের খেলতে দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ স্কুলের ছেলেমেয়েরা দলবেঁধে এখনও এ খেলায় মেতে। সারাদেশে এ খেলার পরিচিতিও অনেক।

নামকরণ : মাঠের মধ্যে গোলাকৃতি বৃত্ত তৈরি করে ঘুরতে হয় বলে একে বলা হয় ‘গোল্লা’ আর গ্রামীণ ভাষায় ‘ছুট’ হলো দৌড়ানো। এই থেকে এর নামকরণ ‘গোল্লাছুট’।

খেলার নিয়ম : খেলার শুরুতেই প্রথম দু’দলের দু’জন দলপতি বা ক্যাপ্টেন নির্ধারণ করা হয়। দু’দলেই পাঁচ অথবা সাত জন করে সমান সংখ্যক খেলোয়াড় থাকে। দলপতি মাটিতে পুঁতে রাখা একটি কাঠি এক হাতে ধরে অপর হাতে তার দলের অন্য খেলোয়ারের হাত ধরে থাকে। এভাবে তারা পরস্পরের হাত ধরে কেন্দ্র স্পর্শ করে ঘুরতে থাকে। তাদের লক্ষ্য হলো বৃত্তের বাইরে যে কাঠিটি থাকে তা দৌড়ে স্পর্শ করা। অপরদিকে দৌড়ে কাঠি স্পর্শ করার আগেই বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় যদি ওই দলের কোন খেলোয়াড়কে স্পর্শ করতে পারে তাহলে সেই পর্বের খেলায় (দানে) সে বাদ পড়ে। এভাবে শেষ পর্যন্ত দলপতিরও কাঠি স্পর্শ করতে হবে। কোন খেলোয়াড়ই লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারলে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা দান পেয়ে যাবে। এভাবেই গোল্লাছুট শেষ হয়। গ্রামবাংলার কিশোর-কিশোরীদের এই খেলার সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। সারাবাংলার সব গ্রামের কিশোর-কিশোরীরাই এ খেলার সঙ্গে পরিচিত এবং এটি তাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা। তবে শহুরে কিশোর-কিশোরীদের অনেকেই হয়ত এ খেলার সঙ্গে তেমন একটা পরিচিত না।

Ñমানিক সরকার মানিক

রংপুর থেকে

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৫

১৩/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: