কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গুলি চালানোর কথা স্বীকার করলেন আওয়ামী লীগ নেত্রীর পুত্র

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫, ০১:১৪ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গত ১৩ এপ্রিল মধ্যরাতে মাতাল অবস্থায় সামনে সিএনজি ও রিক্সার কারণে যানজট লাগায় বিরক্ত হয়ে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেছেন মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি। গাড়িতে থাকা অপর তিন বন্ধুকে খুঁজছে গোয়েন্দারা। গুলিতে প্রথমে আব্দুল হাকিম এবং পরে দৈনিক জনকণ্ঠের পরিবহন পুলের সিএনজি চালক ইয়াকুব আলীর মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিবারের তরফ থেকে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবির পাশাপাশি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। গুলির ঘটনায় পাঁচ দিনের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেছেন বখতিয়ার আলম রনি। যদিও আগেই রনির গাড়ি চালক ইমরান ফকির গুলি চালানোর কথা জানিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

রাত ২টায় রাজধানীর রমনা মডেল থানাধীন নিউ ইস্কাটনের দিলু রোড মোড়ে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় দৈনিক জনকণ্ঠের পরিবহন পুলের সিএনজিযোগে চালক ইয়াকুব আলী দাফতরিক কাজে দিলু রোডে যাচ্ছিলেন। দিলু রোডের মোড়ে যানজট হলে আচমকা একটি প্রাডো গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। গুলিতে ইয়াকুব আলী (৪৫) ও রিক্সাচালক হাকিমসহ (৩০) তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ইয়াকুব ও হাকিমকে রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অপর রিক্সাচালক ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি যান।

গত ১৫ এপ্রিল গুলিবিদ্ধ রিক্সাচালক হাকিমের মৃত্যু হয়। তার পিতার নাম দুদু মিয়া। বাড়ি জয়পুরহাট জেলার কালাই থানাধীন দেওগ্রামে। হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম (৫০) জানান, তার দুই ছেলে-এক মেয়ে। হাকিম সবার বড় ছিল। তিনি রাজধানীর রমনা মডেল থানাধীন মগবাজারের মধুবাগ বস্তিতে বসবাস করতেন।

আর গত ২৩ এপ্রিল সিএনজিচালক ইয়াকুবের মৃত্যু হয়। তার পিতার নাম আরব আলী শেখ। বাড়ি বাগেরহাট সদর জেলার কাঁটাবনিয়া গ্রামে। দুই ভাই-দুই বোনের মধ্যে ইয়াকুব সবার বড় ছিলেন। ইয়াকুব আলীর স্ত্রী সালমা বেগম ও দুই ছেলে জামাল (১৫) আর বাবুকে (১৩) নিয়ে রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন নন্দীপাড়ার বটতলার মোয়াজ্জেম কলোনির ক্যাম্প গলির জব্বারের বাড়িতে মাসিক ১৮শ’ টাকায় একটি কক্ষে ভাড়ায় বসবাস করছেন।

এ ঘটনায় নিহত হাকিমের মা বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে। গত ৩১ মে মামলা তদন্তের ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার করা হয় বখতিয়ার আলম রনি (৪২) ও তার প্রাডো গাড়ির চালক ইমরান ফকিরকে। জব্দ করা হয় প্রাডো গাড়ি ও বখতিয়ার আলমের বৈধ পিস্তলটি। পিস্তলটির ব্যালাস্টিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পায়নি তদন্তকারী সংস্থা। এদিকে চালক ইমরান ফকির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। জবানবন্দীতে বখতিয়ার আলম গুলি চালান বলে আদালতকে জানান। বিচারক চালককে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

গত মঙ্গলবার বখতিয়ার আলম রনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের হেফাজতে নেয় ডিবি পুলিশ।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপ-পরিদর্শক দীপক কুমার দাশ জনকণ্ঠকে জানান, বুধবার দ্বিতীয় দিনের রিমান্ডে বখতিয়ার আলম গুলি চালানোর দায় স্বীকার করেছেন। বলেছেন, গুলি চালানোর রাতে তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। হোটেল সোনারগাঁও থেকে তারা ৫ জন মাতাল অবস্থায় মগবাজারে এক বন্ধুকে নামিয়ে দিতে যান। নামিয়ে দিয়ে বাসায় ফেরার সময় যানজটের কবলে পড়েন। এতে বিরক্ত হয়ে তিনি তার লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি ফাঁকা গুলি চালান। তবে গুলিতে কেউ মারা যেতে পারে, গুলি চালানোর সময় সেটি তার মনে হয়নি। ঘটনার জন্য তিনি মর্মাহত। নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে কোন বক্তব্য দেননি।

নিহত রিক্সাচালক হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম ও ইয়াকুব আলীর স্ত্রী সালমা বেগম হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পাশাপাশি তাদের সংসারে অপূরণীয় ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫, ০১:১৪ এ. এম.

১১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: