মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

হবিগঞ্জে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংর্ঘষ, ওসিসহ আহত ১৫০

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫, ০৫:৫০ পি. এম.

নিজস্ব সংবাদদাতা,হবিগঞ্জ ॥ জলমহাল থেকে আয়কৃত প্রায় দু কোটি টাকার ভাগ-বাটোয়ারা ও হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে হবিগঞ্জের ভাটি উপজেলা বানিয়াচঙ্গের সাদিয়াটোলা মহল্লাস্থ দুই গ্রামের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ এবং পুলিশের লাটিচার্জ, টিয়ারশ্যাল ও গুলিবর্ষনের ঘটনায় ওসি নির্মুলেন্দু চত্রবর্তী ও ওসি (তদন্ত) দেলোয়ার হোসেন সহ আহত হয়েছে অন্তত ১৫০ জন। তন্মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য সহ বহু লোককে বানিয়াচঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি ও হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়া আসছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তন্মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।

বানিয়াচঙ্গের ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মুমিন, ওসি (তদন্ত) দেলোয়ার হোসেন জানায়, ওই সাদিয়াটোলা সংলগ্ন বিভিন্ন জলমহাল স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ দেখাশুনা সহ তাদের দখলে রয়েছে। আর এই জলমহাল থেকে প্রায় দেড় থেকে দুকোটি টাকা আয় হয়। এই আয়ের টাকা ওই ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত স্থানীয় একটি ফান্ডে রাখা হয়। পরবর্তীতে ফান্ডের এই টাকা নিজেদের মাঝে নানাভাবে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন তারা। কিন্তু সম্প্রতি এই টাকার হিসাব-নিকাশ ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ফান্ড চালিত লোকজনের মাঝে দেখা দেয় মত-বিরোধ। এই বিরোধ চরম আকার ধারন করে। এরই মাঝে আবার মাতাপুর সংলগ্ন একটি জলমহালের উজারা প্রদানের দিন ছিল আজ বুধবার। এইসব সংক্রান্ত জটিলতার জের ধরে বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ওই সাদিয়াটোলাস্থ দুইগ্রাম মাথাপুর ও তোপখানার পক্ষে সংশ্লিস্ট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার খানের পক্ষে এনামুল হক বাহার খান গংদের সাথে অপর পক্ষ প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান হায়দারুজ্জামান খান ধন মিয়ার পক্ষাবলম্বনকারী মভু মিয়া গংরা সশস্ত্র সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় উভয় পক্ষ মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার শুরু করে।

এদিকে সংর্ঘষের খবর পেয়ে সংশ্লিস্ট থানার ওসি নির্মুলেন্দু চক্রবর্তী ও ওসি (তদন্ত) দেলোয়ার হোসেনের নের্তৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রথমে আলাপচারিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা চালান। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হলে পুলিশ বাধ্য হয় প্রথমে লাটিচার্জ এবং পরবর্তীতে ২ রাউন্ড টিয়ারশ্যাল ছুড়ে। এতে সংর্ঘষ আরও ব্যাপক আকার ধারন করে। প্রায় দুঘন্টা ব্যাপী এই সংর্ঘষ নিয়ন্ত্রনে আনতে সর্বশেষ ১৩ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পুলিশ। এতে দাঙ্গাবাজরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিক ওদিক পালিয়ে যায়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় পক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি অব্যাহত এবং আবারও সংঘটিত হচ্ছে এমন খবরে পুলিশ রয়েছে সতর্কাবস্থায়।

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫, ০৫:৫০ পি. এম.

১০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: