কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কোথায় থামবেন সেরেনা?

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫
  • মাহমুদা সুবর্ণা

ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ কিংবা তারও বেশি গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জয়ের স্বাদ পেলেন সেরেনা উইলিয়ামস। শনিবার ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে চেক প্রজাতন্ত্রের লুসি সাফারোভাকে হারিয়ে অবিস্মরণীয় এই কীর্তি গড়েন আমেরিকান টেনিসের এই জীবন্ত কিংবদন্তি। রোঁলা গ্যারোঁয় এটা তার তৃতীয় শিরোপা। ফাইনালের মঞ্চে সেরেনা ৬-৩, ৬-৭ (২/৭) এবং ৬-২ গেমে হারান সাফারোভাকে। ফরাসী ওপেন জিতেই স্বদেশী উইলিস মুডিকে (১৯ গ্র্যান্ডসøাম) টপকে টেনিসের উন্মুক্ত যুগে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ডসøামজয়ীদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন সেরেনা। ২২টি জিতে এই তালিকায় সবার উপরে অবস্থান জার্মান টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি স্টেফি গ্রাফ। আর ২৪টি গ্র্যান্ডসøাম জিতে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় শীর্ষে মার্গারেট কোর্ট। স্টেফি গ্রাফ আর মার্গারেট কোর্ট টেনিসকে বিদায় বলেছেন অনেক আগেই। কিন্তু টেনিস কোর্টে এখন দোর্দ-প্রতাপে লড়াই করছেন সেরেনা। তবে কেমন ছিল ক্যারিয়ারের বিশতম গ্র্যান্ডসøাম জয়ের অনুভূতি? লুসি সাফারোভাকে হারানোর পর সেরেনা বলেন, ‘আগের সবগুলো গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের চেয়ে এবারেরটাই বেশি কঠিন। কারণ এবার আমি আমার সেরা ফর্মে ছিলাম না।’

বয়সে তেত্রিশকেও ছাড়িয়ে গেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। কিন্তু তাতে কী? আসলে বয়সের ফ্রেমে নিজেকে বেঁধে রাখতে নারাজ এই আমেরিকান। তার প্রমাণ আরেকবার দিলেন। এই বয়সেও টেনিস কোর্টে প্রতিপক্ষকে যে নাকানি-চুবানি খাওয়ানোর অসাধারণ ক্ষমতা তার রয়েছে। সেটাই দেখল টেনিস বিশ্ব। তবে এবারের ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের অনুভূতিটা আসলেই একটু অন্যরকম। এ বিষয়ে সেরেনার মন্তব্যটাই শুনন, ‘এটা ঠিক স্বপ্ন বাস্তবায়নের মতোই।’ কারণ এবারও যে টেনিস কোর্টে দাপট দেখাতে পারবেন তা সেরেনার নিজেরও বিশ্বাস হচ্ছিল না। তাই তো সাংবাদিকদের কাছেই প্রশ্ন উড়িয়ে দেন তিনি, ‘এটা কী আসলেই আমার জীবনে ঘটেছে? ঠিক এই মুহূর্তেই কী এটা ঘটেছে? ও হ্যাঁ। আসলেই এটা অদ্ভুত এক ব্যাপার।’

টেনিস পরিবারের মেয়ে সেরেনা। শৈশব থেকেই টেনিসে আকৃষ্ট তিনি। মূলত বাবা-মার অবিরাম তাগিদেই। আর সেই সেরেনাই এখন বিশ্ব টেনিসের কিংবদন্তিদের একজন, অবিশ্বাস্য এক ব্যাপার। যা ভেবে সেরেনা নিজেও বিস্মিত, ‘ক্যালিফোর্নিয়াতে আমি যখন ছোট্ট ছিলাম তখন আমার বাবা-মা চাইতেন আমি টেনিস খেলি। আর এখন আমি ২০টি গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের শিরোপা হাতে। এটা আমার জন্য বিশেষ এক অর্জন। টেনিস কোর্টে হয়ত বা আমি সবসময়ই খুব বেশি ভাল পারফর্মেন্স করতে পারিনি। কিন্তু বিশটি গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জিততে পেরে আমি খুবই সন্তুষ্ট এবং আনন্দিত।’

আগামী সেপ্টেম্বরেই চৌত্রিশ বছরে পা রাখবেন সেরেনা। তারপরও অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছেন তিনি। অবিশ্বাস্যই মনে হতে পারে! ১৭ বছর আগে গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টে অভিষেক ঘটেছিল তার। প্রথম মেজর শিরোপা জিতেন আজ থেকে ১৬ বছর আগে। ১৯৯৯ সালে ইউএস ওপেন জিতে সেই যে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন, এরপর আর কখনোই পেছনের দিকে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাঝের সময়টাতে ইউএস ওপেনেই ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন সেরেনা। সমানসংখ্যক গ্র্যান্ডসøাম জয়ের স্বাদ পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও। আর উইম্বল্ডনে শিরোপার সংখ্যা পাঁচ। কিন্তু মৌসুমের তিনটি গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টে দারুণভাবে রাজত্ব করা সেরেনা নিষ্প্রভ ছিলেন ফ্রেঞ্চ ওপেনে। এর আগে মাত্র দু’বার শিরোপা জিতেন রোঁলা গ্যারোঁয়। তবে এবার সেই সংখ্যাটাকে দুই থেকে তিনে নিয়ে গেলেন সেরেনা উইলিয়ামস। আর এই ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতেই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ান এই টেনিস তারকা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে চলতি মৌসুমের শুরুটা দারুণভাবেই করেছিলেন সেরেনা। ফ্রেঞ্চ ওপেনেও ধরে রেখেছেন তার পারফর্মেন্সের ধারাবাহিকতা। এ মাসের শেষের দিকেই শুরু হবে উইম্বল্ডন। মৌসুমের তৃতীয় গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টেও এখন ফেবারিটের তকমাটা গায়ে মাখানো থাকবে আমেরিকান তারকার। তিন সপ্তাহ পর শুরু হবে উইম্বল্ডন। আর সেই টুর্নামেন্টের আলোচনা এবার আগেই উঠে এলো সেরেনার অপ্রতিরোধ্য পারফর্মেন্সের কারণে। কেননা এখন যে তার সামনে এক মৌসুমে সবগুলো গ্র্যান্ডসøাম জয়েরও হাতছানি! তবে পারবেন কী সেরেনা উইলিয়ামস। ভক্ত-অনুরাগীদের অপেক্ষা এখন সেটাই দেখার।

এদিকে সেরেনার কাছে হারা লুসি সাফারোভা গত কয়েক মৌসুম ধরেই পাদপ্রদীপের আলোয়। কিন্তু এবারই প্রথমবারের মতো ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে উঠেন। তার আগে গত মৌসুমে উইম্বল্ডনে প্রথমবারের মতো কোন গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছিলেন চেক প্রজাতন্ত্রের এই টেনিস তারকা। যা ছিল তার সর্বোচ্চ ফলাফল। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ডসøাম জয়ের দ্বারপ্রান্তেও চলে এলেও তার স্বপ্নকে ভেঙ্গে দেন সেরেনা উইলিয়ামস। তবে শিরোপা জিততে না পারলেও ফাইনালে উঠার কীর্তিত্বটাও কম নয়। কেননা সোমবার প্রকাশিত এটিপি র‌্যাঙ্কিংয়ে যে ফাইনালে উঠার স্বীকিৃতটাও পেয়ে গেলেন ২৮ বছর বয়সী এই টেনিস তারকা। প্রথমবারের মতো র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে উঠে গেলেন সাফারোভা। ছয় ধাপ এগিয়ে বর্তমান র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী তার অবস্থান সপ্তম। নতুন প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী উন্নতি ঘটেছে সাফারোভার স্বদেশী পেত্রা কেভিতোভারও। উইম্বল্ডনের চ্যাম্পিয়ন পেত্রা কেভিতোভা দুই ধাপ উপরে উঠে এসেছেন। বর্তমানে তার অবস্থান দুইয়ে। তবে টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। আমেরিকান তারকার মতো তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছেন রোমানিয়ার সিমোনা হ্যালেপও। তবে দুর্ভাগ্য মারিয়া শারাপোভার। ফ্রেঞ্চ ওপেনে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার আর শিরোপা ধরে রাখতে পারলেন না রাশিয়ান এই টেনিস তারকা। ফলে নিজের স্থানও হারাতে হয় তাকে। সর্বশেষ প্রকাশিত এটিপি র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী দুই ধাপ পিছিয়েছেন মাশা। এর ফলে তার বর্তমান স্থান চতুর্থ। ড্যানিশ টেনিস তারকা ক্যারোলিন ওজনিয়াকি ফ্রেঞ্চ ওপেনের শুরুতে বিদায় নিলেও পঞ্চম স্থান ধরে রেখেছেন। তবে একধাপ করে এগিয়েছেন সার্বিয়ার আনা ইভানোভিচ, রাশিয়ার একাটেরিনা মাকারোভা, জার্মানির এ্যাঞ্জেলিক কারবার এবং পোল্যান্ডের এ্যাগ্নিয়েস্কা রাদওয়ানস্কা। তবে পাঁচ ধাপ নিচে নেমে সেরা দশ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার তরুণ প্রতিভাবান তারকা ইউজেনি বাউচার্ড। গত মৌসুমটা দুর্দান্তভাবে উপভোগ করা এই কানাডিয়ান চলতি বছর এখন পর্যন্ত নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না।

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫

১০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: