মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মৌলবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিপজ্জনক উপাদান ॥ ইয়েচুরি

প্রকাশিত : ৩০ মে ২০১৫
  • একাত্তরে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাইলেন পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ইমদাদ কাজী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদবিরোধী আন্দোলনকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে তরুণদের এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে রাজধানীতে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার থেকে। দেশের প্রথিতযশা বামপন্থী রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনরা বলেছেন, সরকারের মৌলবাদবিরোধী অবস্থানের কারণে তরুণ সমাজ সুফল পাচ্ছে। তরুণদেরও এখন এগিয়ে আসা দরকার। তাদের উচিত মৌলবাদবিরোধী আন্দোলন আরও এগিয়ে নেয়া এবং দেশব্যাপী তা ছড়িয়ে দেয়া। এদিকে সেমিনারে অংশ নিয়ে একাত্তরে পাকি বাহিনীর গণহত্যা ও বর্বরতার জন্য বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলেন পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল কাজী।

শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশটের সেমিনার হলে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় মৌলবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম’ শীর্ষক এ আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অমল সেনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এই কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। কর্মসূচীতে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের কমিউনিস্ট নেতারা অংশ নেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন এক ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্যসভার সদস্য সিতারাম ইয়েচুরি, বিশিষ্ট বাম নেতা এস সুধাকর রেড্ডি, শ্যামল রায়, পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ কাজী, শ্রীলঙ্কার বাম নেতা নালিন্দা জয়াতিসা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, ত্রিপুরা সিপিআইএম’র মেম্বার সেক্রেটারিয়েট গৌতম দাস প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত। অনুষ্ঠানের শুরুতে নেপালে ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে এ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মূল প্রবন্ধে আবুল বারকাত বলেন, বাংলাদেশে ১১৯ মৌলবাদী সংগঠন রয়েছে। এগুলো মূলত মওদুদী ভাবাদর্শী, কওমি মাদ্রাসা ও তালেবানকেন্দ্রিক। এর মধ্যে মওদুদী ভাবাদর্শীরা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নিয়ন্ত্রণে, কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সংগঠনগুলো ইসলামী ঐক্যজোটের নিয়ন্ত্রণে এবং তালেবান ভাবাদর্শের সংগঠনগুলো পরিচালিত হয় পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর মাধ্যমে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্যসভার সদস্য সিতারাম ইয়েচুরি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মৌলবাদবিরোধী অবস্থানের কারণে তরুণরা সুফল পাচ্ছে। তরুণদেরও এখন এগিয়ে আসা দরকার। তিনি বলেন, মৌলবাদ-সাম্রাজ্যবাদের কারণে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রে সরকারকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে বিঘœ ঘটে। সরকারকে অবশ্যই জনকল্যাণমুখী হতে হবে। কিন্তু মৌলবাদ-সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব থাকলে জনকল্যাণমুখী নীতি নেয়া সরকারের কঠিন হয়ে যায়। এক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারকে মৌলবাদ-সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অবস্থান নিতে হবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ‘মৌলবাদবিরোধী’ অবস্থানের প্রশংসা করে ভারতের এ বামনেতা বলেন, সরকারের অবস্থানের কারণে দেশের তরুণ সমাজ আজ সুফল ভোগ করছে। তাদের উচিত মৌলবাদবিরোধী আন্দোলন আরও এগিয়ে নেয়া, দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া। সেই সঙ্গে মৌলবাদের বিরুদ্ধে যুবসমাজকেও সচেতন থাকতে হবে। নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের ভাষায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতসহ নানা দিক দিয়ে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনেন ভারতের এ বাম নেতা। বক্তব্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীতে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মৌলবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিকাশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন রাজ্যসভার এ সদস্য।

তিনি আরও বলেন, মৌলবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিপজ্জনক উপাদান। কোনটিকেই আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। একটা আরেকটাকে সহায়তা করে তারা। এটা মোকাবেলায় এ অঞ্চলের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। দুটোর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এক মন্তব্য করে বলেন, প্রগতিশীল শক্তিকে ধূলিসাত করে দেয় মৌলবাদ-সাম্রাজ্যবাদ। সাম্রাজ্যবাদ বিভিন্নভাবে মৌলবাদের প্রসারের পথ তৈরি করে দেয় মন্তব্য করে এ প্রসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উদাহরণ টানেন তিনি। এরপর বলেন, কখনও কখনও সেনা আক্রমণ ঘটিয়ে সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য ঘটে। কখনও অর্থনৈতিকভাবে তাদের বিস্তার ঘটায়। সাম্রাজ্যবাদ কখনও সেনাবাহিনী দিয়ে দেশ দখল করছে, আবার কখনও মৌলবাদের উত্থান ঘটিয়েছে। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশকে তাদের কবজায় নিচ্ছে। কখনও অস্ত্র, কখনও অর্থ দিয়ে এরা মৌলবাদীদের সহায়তা করছে।

প্রকাশিত : ৩০ মে ২০১৫

৩০/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: