কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রং তুলি দিয়ে জীবন্ত করেছিলেন জয়নুল

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫, ০১:১০ এ. এম.
  • বক্তাদের অভিমত

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ তিনি সব সময় মাটি ও মানুষের কাছাকাছি থেকে তাদের নেশা-পেশা, জীবনযাত্রা ও কষ্ট-বেদনা পরতে পরতে অনুভব করে, ভাবনাগুলোকে চিত্রের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে পরিচিত করেছিলেন। তাঁর একক প্রচেষ্টায় ধর্মান্ধ সমাজ ব্যবস্থার মাঝে কুসংস্কারমুক্ত শিল্প ও শিল্পী সৃষ্টির আন্দোলনে পথপ্রদর্শক হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকায় চারুকলা ইনস্টিটিউট, সোনারগাঁয়ে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং ময়মনসিংহে সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা করে তিনি বাংলার চারু ও কারুকলার ঐতিহ্য এবং কারুশিল্পকে লালনের দ্বার উন্মোচন করেছেন। সর্বোপরি নদীমাতৃক বাংলার সবুজ-শ্যামল ছায়াঘেরা গ্রাম ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য রং ও তুলির আঁচড়ে যিনি জীবন্ত করে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করিয়েছেন তিনিই আমাদের শিল্পকলার দিকপাল শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। শিল্পের এই দিকপালকে আরও গভীরভাবে স্মরণ ও অধ্যয়ন করতে হলে জয়নুল গবেষণা কেন্দ্র এবং আর্কাইভ গড়ে তোলা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাবির চারুকলা অনুষদের লেকচার থিয়েটার মিলনায়তনে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। শিল্পী অধ্যাপক রফিকুন নবীর সভাপতিত্বে এবং অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেনের উপস্থাপনায় সভায় স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন অধ্যাপক বুলবন ওসমান, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক এমদাদুল হক মোঃ মতলুব আলী প্রমুখ। এর আগে সকালে চারুকলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শিল্পীর সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সভার মূলবক্তা অধ্যাপক বুলবন ওসমান স্মৃতিচারণে বলেন, মেধা, মনন, প্রজ্ঞা ও মানবিক বিষয়গুলোতে অতুলনীয় ও ব্যতিক্রমধর্র্মী অবদানের জন্য জয়নুল আবেদিন খ্যাতিমান পুরুষ, যার তুলনা হয় না। ঢাকায় শিশুদের জন্য প্রথম আর্ট স্কুল স্থাপনের মধ্য দিয়ে কচি-কাঁচাদের শিল্পীমন সৃষ্টির জন্য অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি শিশুদের অত্যন্ত ভালবাসতেন বলে তাঁর জীবনের শেষ বাংলা নববর্ষবরণ অনুষ্ঠান শান্তিনগরের খোলামেলা গাছ-গাছালির ছায়াঘেরা পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আজ শিল্পাচার্যের আদর্শের অনুকরণে এদেশে অনেক আর্ট কলেজ এবং শিশুদের জন্য আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা তাঁরই অনুপ্রেরণা। তরুণ প্রজন্মকে এই মহান শিল্পী সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ করে দিতে জয়নুল গবেষণা কেন্দ্র ও আর্কাইভ গড়ে তোলা জরুরী। এ বিষয়ে তিনি সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫, ০১:১০ এ. এম.

২৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: