কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শিশুদের জন্য পানিশূন্যতায় কার্যকরী পানীয় কী?

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

প্রচন্ড গরমে জীবন অসহনীয়। আর গরমে শরীর থেকে ঘাম বের হয়ে যাওয়ার কারণে, দেখা দেয় পানিশূন্যতা। শিশুরা খেলাধুলায় আগ্রহী আবার পানিও খেতে চায় না। অভিভাবকরা এ নিয়ে খুবই চিন্তিত। অনেকে মনে করেন, বিভিন্ন এনার্জি ড্রিংক বা জুস পানিশূন্যতায় বেশি কার্যকরী। আসলেই কি তাই? আর যদি এনার্জি ড্রিংক বা জুস না হয় তাহলে শিশুদের জন্য পানিশূন্যতায় অধিক কার্যকরী পানীয় কি? খেলাধুলা বা শরীরচর্চার পর ক্লান্ত শিশুরা পানি খেতে চাইলে তাদের দুধ খেতে দিন নয়ত পানির সঙ্গে দুধ মিশিয়ে খাওয়ান। শরীরের পানিশূন্যতা ঠেকানোর এটা অধিকতর কার্যকর উপায়। এমনকি শুধু পানি কিংবা স্পোর্টস ড্রিংকের চেয়েও এটা ভাল।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীষ্মের প্রচ- গরমে তৃষ্ণার্ত শিশুকে শুধু পানি খাওয়ানোর চেয়ে দুধ খাওয়ানো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া শরীরচর্চার সময় শিশুদের শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। তখন তাদের প্রচুর তরল পদার্থ খাওয়ানো দরকার, বিশেষ করে দ্বিতীয় দফা খেলতে যাওয়ার আগে। দুধ স্পোর্টস ড্রিংক অথবা পানির চেয়ে ভাল। কারণ এতে রয়েছে অতি উচ্চমানের প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম ও ইলেকট্রোলাইট।

ব্রায়ান টিমনস্ নামে এক গবেষক জানান, খেলাধুলা বা শরীরচর্চার সময় শিশু ও প্রবীণরা যে পরিমাণ ঘামে, এর মধ্য দিয়ে শরীর থেকে জলীয় পদার্থ ও সোডিয়াম বেরিয়ে যায়। দুধ ঘামের আকারে বেরিয়ে যাওয়া সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণই শুধু করে না, জলীয় পদার্থ ভালভাবে ধারণ করার কাজেও শরীরকে সাহায্য করে। এছাড়াও দুধ শিশুদের মাংসপেশীর বিকাশ ও বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন যোগায়, যা অন্য কোন পানীয়ের মধ্যে পাওয়া যায় না।

গবেষণায় একটা সাধারণ কক্ষে ৮ থেকে ১০ বছরের শিশুদের শরীরচর্চা করানো হয়। তারপর তাদের পানীয় পান করতে দেয়া হয় এবং পরিশেষে শরীরে পানি শূন্যতার মাত্রা পরিমাপ করা হয়। টিমন্ বলেন, শরীরচর্চার সময় শরীরে পানি ধারণ করে রাখার জন্য যতটা পানি পান করা দরকার শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্করা সাধারণত ততটা পানি পান করে না। কাজেই পরবর্তী দফা শরীরচর্চা শুরু করতে গেলে প্রায়শই দেখা যায় তাদের শরীরে জলীয় অংশের ঘাটতি হয়েছে। তিনি বলেন, পানি শূন্যতা এক শতাংশ হলেই কার্যক্ষমতা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পেতে পারে হৃদস্পন্দনের গতি, শরীরের তাপমাত্রা ও শারীরিক সামর্থ্য। আরও তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো পানিশূন্যতার সঙ্গে সঙ্গে তাপ সম্পর্কিত অসুস্থতা যেমন হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পানিশূন্যতা থেকে রেহাই পাওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় বেশি বেশি দুধ পান করা।

সূত্র : লাইফ সায়েন্স

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

২৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: