মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাড়ি করার হিড়িক

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

ছিটমহলেরই একসময় বাসিন্দা ছিলেন। এখন বাংলাদেশের নাগরিক। তবে ফসলি জমি আছে ছিটমহলে। সম্প্রতি ভারতের লোকসভায় স্থলসীমান্ত বিল পাস হওয়ার পর ছিটমহল থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে চলে যাওয়া অনেকেই আবার ছিটমহলে নতুন করে বাড়িঘর নির্মাণ করছে। আবার বাংলাদেশী নাগরিক, জমি ছিটমহলে। জমি রক্ষায় তারাও বাড়িঘর করছেন ছিটমহলে। এভাবেই জেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রায় ছিটমহলেই নতুন বাড়িঘর করার হিড়িক পড়ে গেছে। পঞ্চগড় জেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিটমহলগুলোতে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে কিছু নতুন বাড়িঘর নির্মাণ করার দৃশ্য চোখে পড়েছে। কোনমতে বাঁশের খুঁটির ওপর টিনের চালা দিয়ে নতুন এসব বাড়িঘর তৈরি করে জানান দিচ্ছে, তারাও ছিটমহলের নাগরিক। নিরাপত্তার অভাবে একসময় ছিটমহল ছেড়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গিয়ে বাড়িঘর করে এসব পরিবার বসবাস করলেও জমি ও পুরনো ভিটে ছিটমহলেই ছিল। ওইসব পরিবারের দাবি, ভারতীয় ছিটমহলগুলো এখন বাংলাদেশের হয়ে যাচ্ছে, তাই পুরনো ভিটেই তারা ফিরে আসছে। আরেকটি ব্যাপার হলো, অনেকে যাদের জমি আছে, বাড়ি নেই আবার ছিটমহলের নাগরিকও নন, তারা সরকারী সুযোগ-সুবিধা নাও পেতে পারেন, সেই আশঙ্কায় তাড়াহুড়ো করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করছেন। ছিটমহল নাগরিক কমিটির কতিপয় নেতার প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় সুবিধাভোগী কিছু মানুষ ছিটমহলে এসে নতুন করে বাড়িঘর করছেন বলে ছিটমহলবাসীর অভিযোগ।

পরিবর্তন আসছে জীবনে

ছিটমহলগুলোর মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। যারা এক সময় তাদের অবহেলার চোখে দেখে আসছিল, তারা এখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছে। ছিটমহলে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে কোনদিন ছিটমহলে প্রবেশ করেনি। এখন প্রায় প্রতিদিন কোন না কোনভাবে স্থানীয় প্রশাসন তাদের খোঁজখবর রাখছে। পুলিশ, বিজিবি টহল দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন সরকারের নির্দেশে ছিটমহলগুলোর মানুষকে যাতে ৬৮ বছরের গ্লানি থেকে খুব দ্রুত মুক্ত করে রাষ্ট্রীয়ভাবে মূলভূখ-ের মানুষের মতো সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে পারে, তার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।

দুই দেশের ভিতরে থাকা ছিটমহলগুলো দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে কোন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পায়নি। ফলে রাষ্ট্রীয়ভাবে মানুষে মৌলিক অধিকার হতে হয়েছে বঞ্চিত। ছিটমহলে যাতায়াতে কোন রাস্তা নেই, স্কুল নেই, মাদ্রাসা নেই, মসজিদ নেই, স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই, বিচার ব্যবস্থা নেই। ছিটমহলের মানুষ যেন আধুনিক যুগের দাস। শিশু কিশোররা বড় হচ্ছে চরম অবহেলায়। দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত থাকে। ছিটমহলগুলোতে প্রশাসনের কোন দৃষ্টি ছিল না। তাই এগুলো অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়ে আসছিল। ছিটমহলবাসী এখন অপেক্ষায় কত দ্রুত ছিটমহল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়। নিজ নিজ দেশের সরকার তাদের ভাগ্য বদলাতে ছিটমহলগুলোতে উন্নয়নের কাজ কত দ্রুত শুরু করে।

জনসংখ্যা জরিপের কাজ স্থগিত

সম্প্রতি ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে জনসংখ্যা জরিপের কাজ স্থগিত ঘোষণা করেছে। ১২ মে দুপুর হতে লালমনিরহাট ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে ছিটমহলগুলোতে জনসংখ্যা জরিপের কাজ শুরু হয়েছিল। বেসরকারী উদ্যোগে কাজটি শুরু করা হয়। কিন্তু সুবিধাবাদী অনুপ্রবেশকারীরা ছিটমহলে ঢুকে পড়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে, এই কারণে জরিপ কাজ স্থগিত করা হয়। ছিটমহল সমন্বয় কমিটির সভাপতি ফুলবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মইনুল হক ১৩ মে জেলা সদরের কুলাঘাট বাশপঁচাই ছিটমহলে সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেয়। জেলার ভেতরে ভারতের ৫৯টি ছিটমহল ভারতের সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের পর বাংলাদেশের অধীনে চলে আসবে। তাই ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি তাদের নিজ উদ্যোগে ছিটমহল বাসিন্দার নাম, পেশা, জন্ম তারিখ, মাসিক আয়, নাগরিকত্ব প্রভৃতি বিষয় জানতে জরিপ কাজ শুরু করেছিল। বর্তমানে ছিটমহলগুলোতে চলছে নানা গুজব ও অস্থিরতা। এই জরিপের অজুহাতে কোন অপচেষ্টাও হতে পারে। তাই ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির নেতারা জরিপ কাজ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। পরবর্তীতে সরকারের নির্দেশে পুনরায় এই জরিপ কাজ শুরু হবে।

থাকছে দহগ্রাম আঙ্গরপোতা

বাংলাদেশ ও ভারতের মানচিত্রে দহগ্রাম- আঙ্গোরপোতা ছিটমহল ছাড়া সকল ছিটমহল মুছে যাচ্ছে। ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়ন হলেই মানচিত্র পাল্টে যাবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রীয়ভাবে ৬-৭ জুন বাংলাদেশে সফরে আসতে পারেন। এই সফরে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়া হবে। আনুষ্ঠানিভাবে ছিটমহলগুলো দুই দেশের মাঝে বিনিময় হয়ে যাবে। তবে দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা ছিটমহল নিয়ে দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদটি জেলার পাটগ্রাম উপজেলার অধীনে থেকে যাবে। এই ছিটমহলটির মানুষ ভারত নিয়ন্ত্রিত তিন বিঘা করিডর দিয়ে যাতায়াত করবে। ছিটমহল বিনিময় চুক্তি দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা ছিটমহলবাসীর জীবনে কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না।

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

২৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: