মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

র‌্যাডক্লিফ থেকে ইন্দিরা-মুজিব

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল সমস্যার গোড়ায় গলদটা রেখে যান ব্রিটিশ আইনজীবী মি. সিরিল র‌্যাডক্লিফ। তিনিই পাকিস্তান-ভারত সীমানা নির্ধারণ করেন। সেই সঙ্গে সৃষ্টি করেন এক অসহনীয় মানবিক সমস্যার। ভারতের ভেতর বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ভেতর ভারত। র‌্যাডক্লিফের এক অদ্ভুত জরিপ। তিনি এতই দ্রুত তার কাজ সমাধা করলেন যে, সীমানা নির্ধারণে সময় নিলেন মাত্র দেড়মাস। তারপরই মানচিত্র। দেখা গেল, ওই মানচিত্রে ভারতের ১১১টি ভূখ- ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশের ৫১টি ভূখ- চলে গেছে ভারতে। সীমানা নির্ধারণে এমন সঙ্কট সৃষ্টির পেছনে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে কমিশনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ১. র‌্যাডক্লিফের সুবিবেচনার অভাব। অভিযোগ ২. সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্রুততা। অভিযোগ ৩. কমিশনের সদস্যদের অজ্ঞতা ও নিষ্ক্রিয়তা এবং অভিযোগ ৪. জমিদার, নবাব ও চা বাগানের মালিকদের স্বার্থরক্ষা। মূলত এই চার অভিযোগের সম্মিলিত প্রভাবেই ছিটমহল সঙ্কটের সূত্রপাত।

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই জটিলতাই যুগের পর যুগ বয়ে বেড়াতে হয়েছে বাংলাদেশ-ভারতকে। সমস্যা মেটানোর চেষ্টাও হয়েছে বহুবার।

ছিটমহল জট কাটাতে প্রথম চুক্তি হয় ১৯৫৮ সালে নেহরু ও নুরের মধ্যে। ঠিক হয় বেরুবাড়ির উত্তরদিকের অর্ধেক অংশ ভারত এবং দক্ষিণ দিকের অর্ধেক অংশ ও তার সংলগ্ন এলাকা পাবে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, বেরুবাড়ির সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগও নেয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত আর তা হয়নি। এরপর ১৯৭৪ সালে হয় ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি।

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

২৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: