আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

‘কখনই সীমাবদ্ধ জীবন নয়’

প্রকাশিত : ১৯ মে ২০১৫

স্টিভ জবস এ্যাপেল কোম্পানির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী ছিলেন। ২০১১ সালে এই আইটি ফেনোমেনোনের মৃত্যুর পর তাঁর দায়িত্বে আসেন টিম কুক। স্টিভের শূন্যস্থান কখনই পূরণ করা সম্ভব নয়, তার আসন গ্রহণের যোগ্যও কেউ নয়- এমন বিশ্বাস কুকের। এ কারণে স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর তাঁর অফিস কক্ষটি এখনও অক্ষত রেখেছে এ্যাপেল। স্টিভ জবসের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও তাঁর কাজের প্রতি গভীর অনুরাগ এমন সৌজন্যবোধের অন্যতম কারণ। তবে টিম কুকও পিছিয়ে নেই। এ্যাপেল কোম্পানির আর্থিক সাফল্য বর্তমান কুককে পরিণত করেছে অন্যতম আইটি আইকনে।

কুকের নেতৃত্বে এ্যাপেল তার দীর্ঘ দিনের সংস্কৃতি পরিবর্তিত করে এখন বিশ্বের অন্যতম লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ্যাপেল কোম্পানির ভবিষ্যত কর্মপন্থা নিয়ে বেশকিছু সাক্ষাতকারে তার দর্শন ও চিন্তা ডি-প্রজন্মের পাঠকের কাছে তুলে ধরা হলো।

ফার্স্ট কোম্পানির সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে কুক দাবি করেন এ্যাপেল কোম্পানি স্টিভ জবসের দর্শনে এখনও পরিচালিত হচ্ছে। স্টিভ জবসের নির্দেশিত পথেই হাঁটছে কোম্পানিটি। স্টিভ জবস সম্পর্কে টিম কুক বলেন, স্টিভ জবস মনে করতেন বেশির ভাগ মানুষ ছোট বাক্সে বসবাস করে। তারা মনে করে পৃথিবীকে প্রভাবিত কিংবা পরিবর্তন করার ক্ষমতা তাদের নেই। স্টিভের ভাষায় তা হলো ‘সীমাবদ্ধ জীবন।’ এবং আমি জীবনে যত মানুষ দেখেছি স্টিভ সম্ভবত অন্যতম ব্যক্তি, যিনি সীমাবদ্ধ জীবনে বিশ্বাস করতেন না। ছোট বাক্সের বাইিরে চিন্তা করাই ছিল তার প্রধান কাজ। এ্যাপেল কোম্পানির প্রোডাক্ট সম্পর্কে বলতে গিয়ে কুক বলেন, এ্যাপেল বর্তমানে শ্রেষ্ঠ পণ্য নির্মাণে উৎসাহী। পণ্যের কোয়ালিটি কিংবা বিক্রয় বাড়ানো এ্যাপেলের লক্ষ্য নয়। এ্যাপেল যখনই কোন ক্যাটাগরির পণ্য নির্মাণ করতে ইচ্ছুক হয়, তখনই তিনটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে।

১. এই পণ্যের প্রাথমিক প্রযুক্তিটি কি?

২. আমরা কি তৈরি করতে যাচ্ছি?

৩. এই পণ্যের মাধ্যমে সমাজ কতটা প্রভাবিত হবে।

এ দর্শন ছিল স্টিভ জবসের এবং এ্যাপেল এখনও স্টিভের রীতিতে নিজেদের পণ্য প্রস্তুত ও বাজারজাত করে। টিম কুক যখন এ্যাপেল কোম্পানির নির্বাহী নির্বাচিত হয়েছেন, তখন কোম্পানির শেয়ার ছিল পড়তির দিকে।

টিম কুকের জীবনী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলবামা অঙ্গরাজ্যে ১৯৬০ সালের ১ নবেম্বর জন্মগ্রহণ করেন টিম কুক। অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক করা কুক ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমবিএ পাস করেন। ক্যারিয়ার শুরু করেন আইবিএম কোম্পানিতে। দীর্ঘ ১২ বছর আইবিএমে চাকরির পর যোগ দেন কমপ্যাক প্রতিষ্ঠানে। কমপ্যাক কোম্পানির শিল্প সরঞ্জাম বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ৬ মাস পর যোগ দেন বর্তমান প্রতিষ্ঠান এ্যাপেলে। ২০১১ সালের আগস্টে স্টিভ জবসের মৃত্যুর ৬ সপ্তাহ আগে এ্যাপেলের নির্বাহী নির্বাচিত হন কুক।

কুক অত্যন্ত মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। তাঁর বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় কুক। বাবা ছিলেন একজন শিপওয়ার্ড শ্রমিক ও মা ছিলেন গৃহিণী। ২০১০ সালে অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাপনী বক্তব্যে তাঁর এ্যাপেলে যোগদান সম্পর্কে বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের একটি ছিল। এ্যাপেলে যোগদানের সিদ্ধান্ত, যা আমার জীবনকে সম্পূর্ণরূপে পাল্টে দেয়। এ্যাপেলে কাজ করা কুকের জন্য সহজ ছিল না, কারণ ১৯৯৮ সালে যখন কুক এ্যাপেলে যোগ দিয়েছিলেন, তখন তাদের পণ্য বিক্রির হার ছিল সীমিত।

ম্যাক কম্পিউটার তৈরির সময়টা এ্যাপেল প্রতিষ্ঠান এতটাই দেউলিয়াপনার দিকে গিয়েছিল, যেন প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার দশা। এমন পরিস্থিতিতে ডেল কোম্পানির নির্বাহী মাইকেল ডেলকে যখন প্রশ্ন করা হয় তখন প্রকাশ্যে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন- আমি যদি এ্যাপেলের নির্বাহী হতাম, তবে নির্ঘাত সে কোম্পানি বন্ধ করতাম এবং শেয়ার হোল্ডারদের টাকা ফিরিয়ে দিতাম।

এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেয়া কুক খুব অল্পদিনের মধ্যেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটান। কোম্পানির প্রধান অপারেটিং অফিসারের পদে আসীন হওয়ার পর বিক্রয় কর্মকা-, সার্ভিস ও অন্যান্য বিষয়ের দায়িত্ব ছিল কুকের। এ্যাপেলে চাকরি পাওয়ার বছর খানেকের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানের মুনাফার মুখ দেখান কুক। কুক এ্যাপেলে আসার এক বছর আগে কোম্পানির নিট ক্ষতি ছিল ১ বিলিয়ন ডলার। সেই দেউলিয়াপনা অবস্থা থেকে এ্যাপেল এখন লাভজনক এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত এবং এর পুরো কৃতিত্ব টিম কুকের।

প্রজন্ম ডেস্ক

প্রকাশিত : ১৯ মে ২০১৫

১৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: