কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চাকরির ক্ষেত্রে গুগলে বিবেচিত বিষয়

প্রকাশিত : ১২ মে ২০১৫

লাজলো বোক সার্চ ইঞ্জিন গুগল প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান। ২০০৬ সাল থেকে এ পদে আসীন হওয়ার পর বোক গুগলের কর্মচারী সংখ্যা ৩০০০ থেকে বাড়িয়ে ৫৩,০০০ করেছেন। গুগলে প্রতিবছর ২ মিলিয়ন চাকরির আবেদন জমা পড়ে। অথচ মাত্র চার হাজার আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগ পায়। গুগলে চাকরি পাওয়ার কিছু গুণাবলীর কথা লাজলো বোক তাঁর ব্যক্তিগত লেখা বই ও বিভিন্ন পত্রিকা সাক্ষাতকারে উল্লেখ করেছেন। প্রকাশিত সাক্ষাতকার থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ নিচে তুলে ধরা হলো-

গুগল চায় গুগলিনেস

গুগল তার কর্মচারীদের মাঝে এমন কিছু গুণাবলীর সন্ধান করে যা বোকের ভাষায়, গুগলিনেস হিসেবে বিবেচিত। গুগলিনেস বলতে কোন নির্দিষ্ট ধারণাকে বোঝানো হয় না, বরং ধারণার বাইিরে সমস্যা সমাধানের যোগ্যতাকেই গুগলিনেস হিসেবে তিনি আখ্যা দেন। তবে গুগলিনেসের জন্য অবশ্যই আপনাকে যে কোন কাজে আগ্রহী হতে হবে, সচেতন থাকতে হবে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক থাকতে হবে, নিজের জীবনে এমন কিছু ঘটনা থাকতে হবে, যা আপনাকে ব্যতিক্রমী ভাবতে বাধ্য করবে।

গুগল চায় ‘কর্মসংক্রান্ত জ্ঞান’ কেবল নির্দিষ্ট বিষয়ে

পারদর্শী নয়

কাজের নিয়ম (ডড়ৎশ জঁষবং) বইয়ে বোক উল্লেখ করেছেন, চাকরি প্রার্থীদের সাক্ষাতকারে সাধারণত গুগল দেখতে চায়, যে কাজের জন্য তাকে নিয়োগ করা হবে সেই বিষয়ে সে পারদর্শী কিনা? এর কারণ নির্দিষ্ট কোন সমস্যার সমাধান কখনই অনাকাক্সিক্ষত সমস্যার সমাধানে পারদর্শী করে না। কেবল গ-িবদ্ধ চিন্তাধারা নয় বরং যে কাজে তাকে নিয়োগ দেয়া হবে, সেখানের প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে সে কতটুকু পারদর্শী তা অবশ্যই বিবেচনায় রাখা হয়।

নেতৃত্ব গুণ

লাজলো বোক এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, আমরা এমন কর্মচারীকে নিয়োগ দিই না যে অনেক বেশি এক্সপার্ট কিংবা যার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। বরং কোন কর্মচারীর নেতৃত্ব দেয়ার গুণাবলীকে আমরা প্রাধান্য দেই। অফিসের উর্ধতন কর্মচারীর পদে কেউ আসীন হয়ে থাকবে এমন মতবাদে আমরা বিশ্বাসী নই। বরং সময়ের প্রয়োজনেই সে কর্মচারী গরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে অভ্যস্ত হতে হবে। একজন শিক্ষার্থী তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কোন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ছিল বিষয়টি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় পরিম-লে তার নেতৃত্ব দেয়ার কি অভিজ্ঞতা ছিল, তা বিবেচনায় রাখি।

গুগল প্রজ্ঞাবান কর্মচারী চায়

গুগল এমন কর্মচারীদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয় যারা কাজের বিষয়ে আগ্রহী ও পারদর্শী। নতুন ধারণা বিষয়ে জানতে চাইলে বোক জানান, এমন কর্মচারী আমরা নিয়োগ দিতে চাই যারা পুরনো রীতি পাল্টে নতুন পন্থা অবলম্বন করে। পুরাতন নিয়মে গা না ভাসিয়ে নতুন নিয়ম অবলম্বন করে।

গুগল চায় বৈচিত্র্য

গুগল তার কর্মচারীদের মধ্যে বৈচিত্র্য খুঁজতে বিশেষ আগ্রহী। ভিন্ন লিঙ্গ, বর্ণ, ও ধর্ম সমন্বয়ে বৈচিত্র্যময়তা আনতে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহী।

* গুগল আবেদনকারীর বিশ্লেষণ ক্ষমতার দিকে বেশি নজর দেয়। কারণ বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা প্রতিটি মানুষকে অন্য সকলের কাছ থেকে পৃথক করে।

* গুগল চায় নিজেদের কর্মচারীরা যেন বেশ যোগ্যতাসম্পন্ন হয়।

* গুগল একাডেমিক রেজাল্ট নিয়ে খুব একটা আগ্রহী থাকে না। একাডেমিক পরিবেশ হলো পুরোটাই মেকি অর্থাৎ নির্দিষ্ট বিষয়ের ব্যাপারে ছাত্ররা পারদর্শী থাকে। যারা জীবনে সফলতা লাভ করে প্রত্যেকেই সঠিক ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে তা অর্জন করে।

* অন্যান্য আবেদনকারী হতে প্রার্থী ভিন্ন কি বিষয়ে পারদর্শী, তা যাচাই করে গুগল। এছাড়া বেশিরভাগ আবেদনকারীর রিজিওম কিংবা বায়োডাটাও যাচাই-বাছাই করা হয়। বায়োডাটায় নিজেকে একজন প্রার্থী কিভাবে উপস্থাপন করছে, তা অতি গুরুত্বপূর্ণ।

* গুগল তাদের কর্মচারীদের প্রতিটি প্রজেক্টের দায়িত্ব অর্পণ করে। প্রজেক্টের কাজ তারা কতটুকু গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি প্রজেক্টের দায়িত্ব ও দায়ভার যারা গ্রহণ করে মূলত তাকেই কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

এছাড়া কর্মচারীদের নমনীয় মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। বোকের ভাষায়, ‘সাফল্য অনেক সময় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যারা কাজের প্রতি আরও মনোযোগী ও নমনীয় ব্যবহারে সচেষ্ট থাকে, তারাই জীবনে সফলকাম হয়।

ডিপ্রজন্ম ডেস্ক

সূত্র : ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম

প্রকাশিত : ১২ মে ২০১৫

১২/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: