কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দ্রোহ ও প্রেরণার কবি

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫
  • রফিকুজ্জামান রণি

জন্মের কিছুকাল আগেই যেন কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনকুষ্ঠি লিখে রেখে গিয়েছিলেন শক্তিমান কথাসাহিত্যিক মনীন্দ্রলাল বসু। কেননা, সেকালের জনপ্রিয় কথাকার মনীন্দ্রলাল বসুর বিখ্যাত ‘সুকান্ত’ গল্পের নামানুসারেই কবির জ্যেঠতুতো বোন রাণীদি তাঁর নাম রেখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। নাটকীয়ভাবে হলেও সত্য যে, রাণীদির প্রিয় সেই ‘সুকান্ত’ গল্পের নায়কের মতোই কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যও যৌবনের প্রারম্ভেই যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন- এই নির্মম গল্প সত্যটা যদি আগেই আঁচ করতে পারতেন তাহলে রাণীদি হয়তো তাঁর নাম সুকান্ত রাখার বদলে দীর্ঘজীবী কোনো ব্যক্তির নামই বরাদ্দ করে রাখতেন। আজও সমগ্র বাংলা সাহিত্যে ক্ষণজন্মা কবিদের নাম উচ্চারণ করা হলে সর্বাগ্রে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের নামটাই উচ্চারিত হবে। তিনি বিদেশী সাহিত্যের অকালপ্রয়াত কবি জন কীটস, পার্শি বিশি শেলী এবং বাংলা সাহিত্যের ক্ষুদ্রায়ু কবি আবুল হাসান ও রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহর চেয়েও অনেক কম সময় পৃথিবীর আলোছায়ায় হেঁটে বেড়িয়েছেন। কিন্তু আজও যেন আধুনিক বাংলা কবিতার অস্থিমজ্জাজুড়ে লেপ্টে আছে সুকান্ত নামের এক কিশোর কবির শিল্পযজ্ঞের সুধা-সৌরভ।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনে আশীর্বাদতুল্য নারীরূপে এসেছিলেন তাঁর জ্যেঠাত বোন রাণীদি (কারও কারও মতে রানুদি)। রাণীদির স্নেহের ছায়াতলে থেকেই শিশু সুকান্ত বড় হতে থাকে। ছোট্ট সুকান্তকে পাশে বসিয়ে, কখনও বা কোলে তুলে নিয়ে রাণীদি তাকে শোনাতেন মজার মজার পৌরাণিক গল্প, বলতেন বড় বড় কবি-লেখকদের জীবনকথা আর সব সময় উৎসাহিত করতেন পড়াশোনা এবং লেখালেখির ক্ষেত্রে। প্রিয় সেই রাণীদি বিনা নোটিসে হঠাৎই একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। সুকান্তের মাথার উপর থেকে আচমকাই সরে গেল বিশাল একটি ছায়া। সেটাই ছিল বালক সুকান্তের জীবনে মারাত্মক একটা ধকল। দিদির মৃত্যুশোক সামলাতে না সামলাতেই চিরমমতাময়ী মা’ও এক ফাঁকে চিরবিদায় জানিয়ে তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন পরপারে। এভাবেই একের পর এক প্রিয়জনের লাশ কাঁধে নিয়ে সুকান্তের অন্তর্মুখী মন এবং নিঃসঙ্গ কবিতার খাতাটি ধীরে ধীরে শানিত হতে থাকে। তাই বন্ধুদের সঙ্গে মিশে হল্লা করা, দলবেঁধে ফুটবলের পিঠে লাথি মারা কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ আড্ডায় মেতে ওঠাÑ এ জাতীয় কোন স্মৃতিই তাঁর জীবনে আসেনি। নানান সময়ে রেডিও তরঙ্গের অনুষ্ঠানমালা শুনে অথবা বাড়ি বাড়ি ঘুরে দাতব্য পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করে কিংবা কোচিং ক্লাস খুলে বিনামূল্যে পাঠদানের ব্যবস্থা করে একাকিত্ব দূর করার চেষ্টা করলেও কবিতার আরাধনাতেই তাঁর কেটেছে জীবন, শুধুমাত্র কবিতাই তাঁকে দিয়েছে দুঃখ-কষ্ট আর নিঃসঙ্গতার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার দাওয়াই টনিক। হয়তবা সে কারণেই ২১ বছরের অনধিক (২০ বছর ৯ মাস ১০ দিন) আয়ুষ্কালে তাঁর রচনাভাণ্ডারের বৈপ্লবিক কাব্যঝঙ্কার হাজার বছরের বাংলা কবিতার বেদিতে বিরাট এক ভূকম্পের অবতারণা ঘটিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় একেকটি কবিতা সমাজের নিবিড়তম দর্পণ, মানবতার অমূল্য সঙ্গীত এবং দ্রোহের অগ্নিলাভায় রূপান্তরিত হয়ে বার বার জাগ্রত করে রেখেছে বাঙালী জাতির চেতনাকে। তবে সুকান্তের কবিতার বাস্তবিক রস-নির্যাস পেতে হলে উনিশ এবং বিশ শতকের ঔপনিবেশিক কলঙ্কময় রাজত্বের ঐতিহাসিক পটভূমি সম্পর্কে অবশ্যই ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়। সমাজ ও সাহিত্যচিন্তায় তিনি ছিলেন মানবতাবাদী, উদারনৈতিক আর বাম ঘরানার একজন সাহসী লেখক। তাঁর কাব্যে যুদ্ধ-নিপীড়ন, দুর্ভিক্ষ, রক্তপাত, অনৈক্য এবং স্বাধীনতাপ্রত্যাশী গণমানুষের কথাই বার বার উঠে এসেছে, যাকে চল্লিশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার ছায়াপাতও বলা চলে।

‘অবাক পৃথিবী! অবাক করলে তুমি

জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমি।

অবাক পৃথিবী! আমরা যে পরাধীন

অবাক, কী দ্রুত জমে ক্রোধ দিন দিন;

অবাক পৃথিবী! অবাক করলে আরোÑ

দেখি এই দেশে অন্ন নেইকো কারো।

অবাক পৃথিবী! অবাক যে বারবার।

দেখি এই দেশে মৃত্যুরই কারবার।

হিসেবের খাতা যখনি নিয়েছি হাতে

দেখেছি লিখিতÑ ‘রক্ত খরচ’ তাতে।’

[অনুভব, ছাড়পত্র]

সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন ইংরেজ শাসিত পরাধীন রাষ্ট্র-যন্ত্রণের তথা অবিভক্ত ভারতবর্ষের একজন দুর্বার কবিতাসৈনিক। ব্রিটিশ ভারতের পরাধীন জাতিগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক দৈন্যদশা, মানবিক বিপর্যয়, ভূলুণ্ঠিত অধিকার, মানবতার অবক্ষয়, দুর্বৃত্তপনা এবং দুর্বলের ওপর সবলের দমনরীতি ইত্যাদি মূর্ত ছায়ারূপে তাঁর একেকটি কবিতা ঝলক দিয়ে উঠেছে। বিশ শতকের সর্বপ্রধান অসাম্প্রদায়িক কবি এবং বিদ্রোহী কবিতার জনক কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্য দু’জনই হয়ে উঠলেন ইংরেজবিরোধী শক্তির দুই প্রান্তের দু’জন দুঃসাহসী কলমী-সেনাপতি। নজরুলের বিদ্রোহী চেতনার আগুনকে আরও উস্কে দিতে শুরু করেছিল কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার ঝড়। তাঁর সরল কথার সুঁই তলোয়ারের চেয়েও তীক্ষè, সাপের জিহ্বার চেয়েও ভয়ঙ্কর। স্বাধীনতাকামী জাতিকে তাঁর কবিতা স্বপ্ন দেখানোর নিরন্তর উৎসাহ জুগিয়েছে বার বার। অপশক্তির নির্মমতায় বার বার জ্বলে-পুড়ে মরে ছারখার হওয়া এ জাতিকে তিনি আবিষ্কার করেছেন অন্যায়ের কাছে মাথানত না করা এবং নীতির পদস্খলন না ঘটানো আর বুকটান করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা দুঃসাহসী বীরের প্রতীকরূপেÑ

‘সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী

অবাক তাকিয়ে রয় ঃ

জ্বলে-পুড়ে মরে ছারখার

তবু মাথা নোয়াবার নয়।’

[দুর্মর, পূর্বাভাস]

সুকান্ত ভট্টাচার্য নিজেকে কোলাহলপ্রেমী একজন জনতার কবি হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জ্যেঠতুতো দাদা রাখাল ভট্টাচার্যের স্ত্রীকে লেখা একটি পত্রের মধ্যে সে কথার সত্যতা পাওয়া যায়। পত্রের একাংশে তিনি লিখেছেনÑ ‘আমি কবি বলে নির্জনতাপ্রিয় হবো, আমি কি সে ধরনের কবি? আমি যে জনতার কবি হতে চাই। জনতা বাদ দিলে আমার চলবে কি করে?... সুতরাং সংকোচের বিহ্বলতা নিজের অপমান।’ তাই তিনি সারাজীবন লিখে গেছেন সাধারণ মানুষের কথা। নেমেছেন জনতার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। ‘পড়তে বসে থাকে আমার পথের দিকে চোখ/পথের চেয়ে পথের লোকের দিকেই বেশি ঝোঁক’Ñ এমন অসামান্য অন্তঃমিলসমৃদ্ধ কিছু কবিতার ভাষায় তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, পথের চেয়ে পথের মানুষকেই তিনি বেশি ভালবাসেন, পছন্দ করেন শীতে জবুথবু হয়ে যাওয়া রাস্তার উলঙ্গ ছেলেটাকে।

সুকান্তের বিখ্যাত কবিতা ‘সিঁড়ি’। হাজার যুগের সমাজ ব্যবস্থায় লুকিয়ে থাকা নির্মম বাস্তবতাকে চিরকালীন সত্যের ছাপচিত্র হিসেবে অঙ্কন করেছেন তিনি। একেবারেই সাধারণ কিছু ‘সিঁড়ি’র উপমায় তিনি তুলে ধরেছেন ব্রাত্যশ্রেণীর মানুষের পিঠে পদচ্ছাপ ফেলে মুহুর্মুহু উপরে উঠে যাওয়া উঁচুপর্যায়ের মানুষের নির্মমতার প্রামাণ্যচিত্র। শ্রমজীবী মানুষের কাঁধে পা রাখতে রাখতেই একদিন মুখোশধারী ভদ্র মানুষেরা উপরে উঠে পড়ে। তারপর সাধারণ মানুষের কথা তারা আর মনেই রাখে না। তাদের শোষণে নিষ্পেষিত অসহায় মানুষগুলোকে বিভিন্ন সময়ে সামান্য দান-খয়রাতের প্রলোভন দেখিয়ে তারা নিজেদের অপকর্মের কথা গোপন রাখে, বৃহৎ স্বার্থ হাসিল করে ঘরে ফেরে। সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় সে দৃশ্য অত্যন্ত নান্দনিক ভঙ্গিতে ফুটে উঠেছে। স্বার্থান্বেষী বকধার্মিক অমানুষদের গর্বোদ্ধত, অত্যাচারী পদধ্বনিকে নিন্দা জানিয়ে কবি বিক্ষুব্ধ কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন-

‘আমরা সিঁড়ি

তোমরা আমাদের মাড়িয়ে

প্রতিদিন অনেক উঁচুতে উঠে যাও,

তারপর ফিরেও তাকাও না পিছনের দিকে;

তোমাদের পদধূলিধন্য আমাদের বুক

পদাঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় প্রতিদিন।

তোমরা তা জানো,

তাই কার্পেটে মুড়ে রাখতে চাও আমাদের বুকের ক্ষত

ঢেকে রাখতে চাও তোমাদের অত্যাচারের চিহ্নহ্নকে

আর চেপে রাখতে চাও পৃথিবীর কাছে

তোমাদের গর্বোদ্ধত, অত্যাচারী পদধ্বনি।’

[সিঁড়ি, ছাড়পত্র]

সুকান্তের অনেক কবিতাই বৈশ্বিক চেতনাঋদ্ধ এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটসিদ্ধ। তবে সমাজতান্ত্রিক চেতনায় বেড়ে ওঠা এই কবির প্রতিটি কবিতার পরতে পরতে যেন ক্ষুধার্ত ও শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে আছে। কবিতার অন্তঃপ্রাণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে অতীব কাব্যিকতা নয়, সাধারণ গদ্যময় জীবন ব্যবস্থাই তথা দু’বেলা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার লড়াইটাই বেশি গুরুত্ববহ। তাই ধবলস্নিগ্ধ পূণির্মার চাঁদকে তিনি ক্ষুধার্ত মানুষের রুটির অবয়বে নির্মাণ করে সবাইকে বিস্মিত করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাঁর ‘রানার’ কবিতার আদতে এঁকে রেখেছেন মেহনতি মানুষের অদৃশ্য সব দীর্ঘশ্বাসের ছবি-

‘প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-

কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,

ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময় ঃ

পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্সানো রুটি।’

[হে মহাজবীন, ছাড়পত্র]

এবং-

‘ক্লান্তশ্বাস ছুঁয়েছে আকাশ, মাটি ভিজে গেছে ঘামে

জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে।

অনেক দুঃখে, বহু বেদনায়, অভিমানে, অনুরাগে

ঘরে তার প্রিয়া একা শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে।’

[রানার, ছাড়পত্র]

চিঠি-সাহিত্যেও সুকান্তের ভাষাশৈলী ছিল অনন্য ও অনবদ্য। তাঁর চিঠির বক্তব্য অত্যধিক সমৃদ্ধ এবং সুখপাঠ্য। কী চমৎকার তাঁর চিঠি-ভাষ্য! রোগাক্রান্ত, মৃত্যুশয্যায় সুকান্ত ২৪শে পৌষ, ৪৮ বঙ্গাব্দে বন্ধু অরুণ মিত্রকে লিখেছেন-

“পরম হাস্যাম্পদ, অরুণ,

আমার ওপর তোমার রাগ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক, আর আমিও তোমার রাগকে সমর্থন করি। কারণ, আমার প্রতিবাদ করবার কোনো উপায় নেই, বিশেষত তোমার স্বপক্ষে আছে যখন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ। কিন্তু চিঠি না লেখার মতো বিশ্বাসঘাতকতা আমার দ্বারা সম্ভব হতো না, যদি না আমি বাস করতাম এক বিরাট অনিশ্চয়তার মধ্যে- তবুও আমি তোমাকে রাগ করতে অনুরোধ করছি। কারণ কলকাতার বাইরে একজন রাগ করবার লোক থাকাও এখন আমার পক্ষে একটা সান্ত¡না, যদিও কলকাতার ওপর এই মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো কিছু ঘটে নি, তবুও কলকাতার নাড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার সব কটা লক্ষণই বিজ্ঞ চিকিৎসকের মতো আমি প্রত্যক্ষ করছি।”

হ্যাঁ, অল্প বয়সেই তিনি কলকাতার নাড়ি ছিঁড়ে চলে গেলেন। শুধু যে কলকাতার নাড়ি ছিঁড়ে গেলেন তাই নয়। চিরতরে ছিঁড়ে গেলেন পৃথিবীর নাড়িও। চিরদিনের মতো থেমে গেল সুতীক্ষè ও শাশ্বত একটি কলমী-ক্ষুর। কিন্তু সেটা যে নিতান্তই শারীরিক বিদায়মাত্র। সুকান্তের অগ্রজ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁকে বয়সের ফ্রেমে বেঁধে পরিপক্ব কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে কিছুটা কুণ্ঠিত হলেও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস থেকে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের নাম কি মুছে দেয়া আদৌ সম্ভব?

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫

০৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: