আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পাকিস্তানের পরমাণু বোমার অংশীদার সৌদি আরব

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫
  • এনামুল হক

সৌদি আরবের চোখে পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে এক অপরিহার্য অংশীদার। তথাপি পাকিস্তান সরকারের সাম্প্রতিক এক ভূমিকায় সৌদি আরব উদ্বেগ ও অস্বস্তিবোধ না করে পারছে না। কারণ সৌদি আরবের ভূখ- রক্ষায় পাকিস্তানের অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসলামাবাদ সৌদি নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনে যোগ দেবে না।

পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বেশ বিপাকে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফ। কারণ একদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীর শরিক দেশগুলো, যেমন সংযুক্ত আরব আমীরাত ইসলামাবাদের ওপর বেশ চটেছে এবং নানাভাবে হুমকি প্রদর্শন করছে। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরেও নানা মহল থেকে তার ওপর চাপ আসছে। লাখ লাখ পাকিস্তানী উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠায়। তাছাড়া পাকিস্তানের বহু রাজনীতিক ও জেনারেলের ওই অঞ্চলে বড় ধরনের বিনিয়োগ আছে। স্বভাবতই তারা এমন সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারে না।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পাকিস্তানের এমন ভূমিকার উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। অবনতি যদি শেষ অবধি সাময়িক প্রমাণিত হয়ওবা, তথাপি গোটা ব্যাপারটা এক নজিরবিহীন ঘটনা। পাকিস্তান সরকারের কোন কোন মহল দুকূল রক্ষা করার প্রয়াস পেলেও ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে।

পাকিস্তান পার্লামেন্টের এই বিস্ময়কর রকমের দৃঢ় ভূমিকা সৌদি আরবের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ পরমাণু প্রশ্নে ইরান-মার্কিন সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পরই এমন ঘটনা ঘটল। ওই সমঝোতা সৌদি আরবের কখনই কাম্য ছিল না। সৌদিরা মনে করে, ঐ সমঝোতার সুযোগ নিয়ে ইরান শেষ পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হয়ে উঠবে।

সৌদি আরব আরও মনে করে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ভূমিকায় পরমাণু প্রশ্নে তাদের দীর্ঘকাল ধরে অনুসৃত স্ট্র্যাটেজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সত্তরের দশকে সৌদি আরব পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচীতে অর্থ যোগাতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালের মে মাসে ভারত পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর পর পাকিস্তান যখন কি করবে না করবে ঠিক ভেবে তার পাশে এসে দাঁড়ায় তখন দিনে ৫০ হাজার, ব্যারেল তেল বিনামূল্যে পাকিস্তানকে দেয়ার অঙ্গীকার করে। এতে পাকিস্তান যথেষ্ট বলীয়ান হয়। অল্পদিন পরই দেশটা ৬টি পারমাণবিক বোমা ফাটায়। পরবর্তীকালে তৎকালীন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী শাহজাদা সুলতান ইসলামাবাদের কাছে কাহুটায় গোপন পরমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা পরিদর্শন করেন। সেখানে যাওয়ার সুযোগ প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টোরও ছিল না।

অথচ আর্থিক সাহায্য দেয়ার বিনিময়ে সৌদি আরব সৈন্য, বিশেষজ্ঞ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আকারে পাকিস্তানের সামরিক সহায়তা পেয়েছে। ষাটের দশকের শেষভাগে পাকিস্তানী পাইলটরা দক্ষিণ ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি জঙ্গীবিমান চালিয়েছে। সৌদি বিমানবাহিনী গড়ে ওঠার প্রথমদিকে পাকিস্তানী বিমানবাহিনী নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা দিয়েছে। আজ সৌদি অফিসাররা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কলেজগুলোতে প্রশিক্ষিত হচ্ছে। আর্থিক সাহায্যের বিনিময়ে পারমাণবিক ক্ষেত্রেও সৌদি আরব কিছু কিছু সুবিধা আদায় করেছে। যেমন প্রয়োজন হলে স্বল্পকালীন নোটিসে পাকিস্তানের কিছু পরমাণু অস্ত্রের সরবরাহ পাওয়া। পাকিস্তানের কয়েকটি পারমাণবিক বোমা এই উদ্দেশে নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছে এবং সেগুলো ইসলামাবাদের কাছে কামরায় মিনহাস বিমান ঘাঁটিতে মজুত রাখা আছে বলে শোনা যায়। ১২০টি পরমাণু বোমার অধিকারী পাকিস্তান অবশ্য এমন কথা অস্বীকার করেছে। সৌদিদের জন্য পাকিস্তানী পরমাণু বোমা নির্দিষ্ট করে রাখার ব্যবস্থাটির কথা যদি সত্য না-ও হয়, তারপরও বলা যায় সে সৌদি আরব পাকিস্তানের পারমাণবিক ছত্রছায়ার সুবিধা লাভ করে আসছিল।

কিন্তু পাকিস্তান এখন ইয়েমেনে সৌদি নীতিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করতে অনীহা প্রকাশ করায় সৌদি আরব পারমাণবিক ক্ষেত্রে অংশীদার হিসেবে পাকিস্তানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ বোধ করতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় একদিকে পাকিস্তানকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে চাপ প্রয়োগ করার পাশাপাশি সৌদি আরব পারমাণবিক সহযোগিতা প্রশ্নে অন্যান্য বিকল্পেরও সন্ধান করছে। কিন্তু সৌদিদের এমন আশঙ্কা করার কারণ আছে যে, পাকিস্তান সৌদি প্রত্যাশা পূরণ না-ও করতে পারে।

[নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত পারভেজ হুদভয়ের নিবন্ধ ‘পাকিস্তান, দি সৌদিস ইনডেসপেন্সিবল নিউক্লিয়ার পার্টনার’ অবলম্বনে। হুদভয় ইসলামাবাদের কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থ বিজ্ঞান ও গণিতশাস্ত্রের অধ্যাপক।

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫

২৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: